‘পাকা ঘরোত শুতি নিন পাইরবার পামো এইটা স্বপ্নেও ভাবোং নাই’

আপডেট : ১১ জুন ২০২৪, ০১:২৬ এএম

একসময় তাদের জমিসহ পাকা বাড়ি ছিল। কিন্তু ব্যবসায় লোকসানে পড়ে সেই বাড়ি বিক্রি করে দেন। এরপর তাদের ঠাঁই হয় অন্যের বাড়িতে। কয়েক বছর অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ে ছিলেন ষাটোর্ধ্ব সাহেরা-আবদুস সালাম দম্পতি। ভূমিহীন ও গৃহহীন হিসেবে তারা পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ২ শতাংশ জমিসহ আধাপাকা বাড়ি। এই দম্পতি জানান, ব্যবসায় লোকসানে পড়ে বাড়ি, মোটরসাইকেল সব বিক্রি করে পথে বসেছিলেন। চিন্তায় দিশাহারা জীবনে বাঁচার আশাই ছিল না। অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি ফিরে পেয়েছেন।  লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ি ইউনিয়নের সাকোয়া বাজার এলাকায় নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা তারা। আজ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লালমনিরহাটকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত জেলা ঘোষণা করবেন।

মাজেদা বেগমের (৫৬) নিজের জমি বলতে কিছুই ছিল না। অন্যের জমিতে ছাপড়া করে কোনো রকমে কেটেছে সারাটা জীবন। প্রধানমন্ত্রীর ঘর পেয়ে আপ্লুত মাজেদা বলেন, ‘পাকা ঘরোত শুতি নিন (ঘুম) পাইরবার পামো এইটা স্বপ্নেও ভাবোং নাই। নিজের একটা পাকা বাড়ি থাকপে। এইল্যা এলা সউগ (সব) স্বপ্নের মত নাগছে।’

মাজেদা বেগম জানান, দিনমজুর বাবার সংসারে কষ্টের মধ্যে বড় হয়েছেন। বিয়ে হয় নরসুন্দর অপিল উদ্দিনের সঙ্গে। স্বামীর সামান্য রোজগারে অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। অপিল-মাজেদা দম্পতি অন্যের জমিতে দিনমজুরি করে কোনো রকমে ৬ সদস্যের সংসারের চাকা সচল রেখেছেন। এ অবস্থায় তাদের পাকা ঘরের স্বপ্ন দেখা একরকম দুরাশা!

ভূমিহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের ঘর পেয়ে খুশিতে আত্মহারা এই দম্পতি। ২ শতাংশ জমিসহ পেয়েছেন পাকা বাড়ি। অপিল বলেন, ‘পরিশ্রম করে শরীরের রক্ত পানি করেও একনা (একটু) জমি কিনতে পারি নাই। এখন শেখের বেটি হাসিনা হামাক জমিসহ পাকা বাড়ির মালিক করে দিয়েছে বাহে। আল্লায় শেখের বেটিকে যুগ-যুগ বাঁচে থুক।’ পাঁচ দফায় আদিতমারী উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে খাসজমি উদ্ধার করে ৮৮২টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে গৃহনির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। বিনামূল্যে ২ শতাংশ জমিসহ দুই কক্ষের একটি আধাপাকা বাড়ি পেয়ে দারুণ খুশি এসব ছিন্নমূল পরিবার।

সাকোয়া বাজার এলাকার আশ্রয়ণ প্রকল্পটি মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। বাড়ির রঙেও আনা হয়েছে ভিন্নতা। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সব সুফলভোগীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে চাবি হস্তান্তর করা হবে। অবশ্য কিছু পরিবার ইতিমধ্যে তাদের বাড়িতে উঠেছেন।

আদিতমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও গৃহনির্মাণ প্রকল্পের সদস্য সচিব মফিজুল ইসলাম জানান, সরকারের দেওয়া নকশা-প্ল্যান অনুসারে প্রত্যেকটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ করা হয়েছে। সাকোয়া বাজার এলাকার আশ্রয়ণ প্রকল্পটি মডেল হিসেবে রঙে আনা হয়েছে ভিন্নতা। এখানে ৫৮টি বাড়ি রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলোর আশ্রয়ণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। উপজেলার প্রত্যেকটি দপ্তর প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত