মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

টেন্ডার না করার অভিযোগ

রাস্তা সংস্কারে অর্ধশতাধিক গাছ উপড়ে ফেললেন প্রকৌশলী

আপডেট : ১১ জুন ২০২৪, ০১:২৬ এএম

কুমিল্লার হোমনায় রাস্তার সংস্কার কাজ করতে গিয়ে অর্ধশতাধিক সরকারি গাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে।

এসব গাছ উপড়ে ফেলতে গিয়ে তিনি বন কর্মকর্তার কোনো অনুমতি নেননি, এমনকি কোনো টেন্ডারও করেননি। এ ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বন বিভাগের পক্ষ থেকে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

জানা যায়, উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের দুলালপুর বাজার থেকে রামকৃষ্ণপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের ৩ ফুট প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। এ কাজ করতে গিয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর নির্দেশে রাস্তার এক পাশের প্রায় ৫০টি গাছ ভেকু দিয়ে উপড়ে ফেলেছেন ঠিকাদার।

সরেজমিন দেখা গেছে, রাস্তার পাশের খাল, পুকুর এবং মানুষের ফসলি জমিতে ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের গাছ মূলসহ উপড়ে পড়ে আছে। মনে হবে ঝড়ে গাছগুলো উপড়ে পড়েছে।

উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. মাজহারুল জানান, উপজেলা প্রকৌশলী আমাদের এ বিষয়ে কিছু জানায়নি এবং কোনো অনুমতি নেয়নি। ঠিকাদার মাইকিং করে সবাইকে বলেছে রাস্তার পাশে থাকা গাছগুলো কেটে নেওয়ার জন্য। ঠিকাদারের মাইকিং করার পর আমাদের অনেকগুলো মেহগনি গাছ অপসারণ করা হয়েছে। ভেকু দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় গাছ উপড়ে ফেলে দিয়েছে। ঠিকাদারকে বাধা দিতে গেলে বনকর্মীদের উল্টাপাল্টা কথা বলেছে প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের লোকজন।

এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিভাগীয় বনকর্মকর্তার অনুমতি পেলেই মামলা করা হবে।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জিএম কবির বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা অবগত হয়ে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোস্তফা জামান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেনি। একপর্যায়ে তিনি ফোন বন্ধ করে দেন।

অভিযুক্ত উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমি বন কর্মকর্তাকে জানিয়ে গাছগুলো উপড়ে ফেলার জন্য অনুমতি দিয়েছি। গাছগুলোর টেন্ডার করা হয়নি তবে এখন টেন্ডার করা হবে।’

কোনো বন কর্মকর্তার কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়ে আমার আর কোনো বক্তব্য নেই।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্ষেমালিকা চাকমা বলেন, ‘উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি। উপজেলা বন কর্মকর্তা একটা রিপোর্ট দিয়েছেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে। সেই রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এ ছাড়া বন বিভাগের সদস্যদের সঙ্গে ঠিকাদারের লোকজন বা ভেকু ড্রাইভার খারাপ আচরণ করে থাকতে পারে তা আমার জানা নাই।’

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত