শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ফখরুলের আশা

বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেবে ভারত সরকার

আপডেট : ১১ জুন ২০২৪, ০২:৩৭ এএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ। নিঃসন্দেহে প্রভাবশালী প্রতিবেশী দেশ। ভারতের নতুন সরকারের কাছে একটাই আশা, তাদের দেশে যেভাবে জনগণ প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে, নির্বাচন কমিশন ও বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করে, বাংলাদেশেও যেন সেটি হয়। আমরা ১৯৭১ সালে যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ করেছিলাম, আমরা সেটা বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমাদের প্রত্যাশা, ভারতের সরকার, বাংলাদেশের মানুষের সেই প্রত্যাশাকে মর্যাদা দেবে এবং সেভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলবে।’

গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জিয়াউর রহমানের ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে ‘আধুনিক কৃষি, অভিন্ন নদীর পানি আগ্রাসন এবং জলবায়ু ভারসাম্যহীনতা রোধে শহীদ জিয়ার ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গতকাল একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। সেখানে আমার পুরনো এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা। নাম বললে আপনারা হয়তো অনেকেই চিনে ফেলবেন। সে এখন রাজনীতি থেকে দূরে আছে, ছাত্রলীগের নেতা ছিল, পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগের এমপিও হয়েছিল। কিন্তু এখন প্রায় ১০-১৫ বছর ধরে রাজনীতি থেকে দূরে। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি রাজনীতি করছ না কেন? সে বলে কোন রাজনীতি করব। বললাম, আওয়ামী লীগ করবে। সে বলল, আওয়ামী লীগ কি আর আওয়ামী লীগ আছে? এটা তো এখন আজিজ আর বেনজীরের আওয়ামী লীগ। দেখুন, একজন আওয়ামী লীগের নেতার উপলব্ধি, এটাই বাস্তবতা।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘বাজেট নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। সম্পূর্ণ বাজেটটাই হচ্ছে তাদের লুটপাটের। এই সরকারের ক্ষুধার শেষ নেই। সরকারের লোকজন যার যা খুশি তাই করছে। একটা ভয়াবহ পরিস্থিতি চলছে দেশে। গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ দেশের ৫৩ বছরের সমস্ত অর্জন ধ্বংস করে ফেলেছে। কোথাও কোনো বিচার নেই, ব্যবসা করতে গেলে সরকারের লোকজনকে চাঁদা দিতে হবে। এরা পরিকল্পিতভাবে দেশকে একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। সরকার এমন উন্নয়ন করেছে, জনগণ এখন ঢাকা শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশ গভীর চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। একদিকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক, অন্যদিকে ভৌগোলিক দিক থেকে। তিস্তার পানি নিয়ে বহু খেলা হচ্ছে। পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে প্রতিবাদ করায় ইলিয়াস আলী গুম হয়েছেন। ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থেকেও এখন পর্যন্ত তিস্তার পানিচুক্তি করতে পারেনি এই সরকার। অথচ জিয়াউর রহমান তিস্তার পানির জন্য জাতিসংঘ পর্যন্ত গিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান শুধু ক্ষণজন্মা পুরুষ ছিলেন না, তিনি ছিলেন দার্শনিক। জিয়াউর রহমানকে ছোট করা মানে দেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করা।’

কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফিরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শামসুজ্জামান দুদু, কৃষক দলের শাহাদত হোসেন, মেহেদী হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত