পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৩৯ বছর বয়সেও বুট জোড়া তুলে রাখার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ছুটে চলেলেছন অদম্য গতিতে। এখনও তার খেলায় আছে দারুণ ছন্দ। ইউরোপিয়ান ফুটবলের পাঠ চুকিয়ে এখন তিনি এশিয়ায়। সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের হয়ে এই মৌসুমে পেয়েছেন ৫০ গোলের দেখা। তবে এখন তিনি প্রস্তুতত হচ্ছে ইউরো ফুটবল ২০২৪ আসরের জন্য।
২০০৪ সালে জাতীয় দলের জার্সিতে প্রথম বড় কোনো টুর্নামেন্টে খেলা রোনালদোর এটি ১১তমবার কোনো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ। গতকাল রাতে টুর্নামেন্টের শেষ প্রস্তুতি হিসেবে তিনি খেলেছেন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ। যেখানে জোড়া গোল করে ৩-০ গোল করে দলকে জয় এনে দেন।
পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট তাকে ১০০০ গোলের চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন। রোনালদো তখন বলেছিলেন, 'খুবই কঠিন বিষয়টা। ১০০০ গোলে যাওয়ার আগে আমাকে ৯০০ করতে হবে। আমার মনে হয় সেটা পারবো।' সেই ৯০০ গোলের খুব কাছে চলে গেছেন। আর একটি গোল করলেই তিনি পাবেন সেই স্বাদ। ক্লাব ফুটবলে ৭৫৯ আর আন্তর্জাতিকে ১৩০ মিলিয়ে তার গোল সংখ্যা ৮৯৯। আর একটি গোলের অপেক্ষা।
"ফুটবলে আমি আর খুব বেশি দিন নেই। তাই আমাকে এটা উপভোগ করতে হবে। আমি ফুটবলকে ভালোবাসি। প্রতিটি ম্যাচই আমার কাছে স্পেশাল, পর্তুগালের সঙ্গে ইউরোতেই আমার ২০ বছর কেটে গেছে। যা আমাকে অনেক গর্বিত করে তুলে"
সেটা দেখতে আর খুব বেশি বাকি নেই। হয়তো আগামী ১৯ জুনেই দেখা মিলতে পারে। ঐদিন ইউরোতে নিজেদের প্রথম ম্যাচ চেক রিপাবলিকের বিপক্ষে খেলতে নামবে পর্তুগাল। সেদিনই গোল করে উল্লাসে মাততে পারেন তিনি। কানাঘুষো আছে এবারের ইউরো শেষেই হয়তো আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাবেন সিআরসেভেন। তবে বিদায় বলার আগেই তার চাকরির সন্ধান দিয়েছেন আয়ারল্যান্ডের কোচ জন ওশিয়া।
একসময় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে রোনালদোর সতীর্থ ছিলেন ওশিয়া। কাল ম্যাচের আগে তিনি বলেছিলেন, ‘সে যে ধরনের মানুষ, তার যে নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব আছে, আমি নিশ্চিত পর্তুগালের হয়ে তার এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে। আমি নিশ্চিত তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা আছে। যদি সে চাপ নেওয়ার মানসিকতা বজায় রাখতে পারে সামনের টুর্নামেন্টগুলোতেও তার দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। সেটা খেলোয়াড়ি জীবনের পরে। হতে পারে সে দলের কোচ হয়ে এগিয়ে নিতে পর্তুগালকে। আমি নিশ্চিত সেটা পর্তুগালের জন্য ইতিবাচক হবে।’
কাল ম্যাচ শেষে ফ্যাব্রিজিও রোমানোর সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানিয়েছেন তার ভবিষ্যতের কথা, ‘ফুটবলে আমি আর খুব বেশি দিন নেই। তাই আমাকে এটা উপভোগ করতে হবে। আমি ফুটবলকে ভালোবাসি। প্রতিটি ম্যাচই আমার কাছে স্পেশাল, পর্তুগালের সঙ্গে ইউরোতেই আমার ২০ বছর কেটে গেছে। যা আমাকে অনেক গর্বিত করে তুলে।’
এর আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন ৪০ বছর অবধি খেলার পরিকল্পনা রয়েছে। আবার ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলারও ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি শতভাগ পেশাদার। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমি শারীরিক এবং মানসিকভাবে ভাল অবস্থায় আছি।’
