ডা. রোকেয়া সুলতানা
প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়
গতবারের চেয়ে এবার আমাদের স্বাস্থ্য খাতের বাজেট বরাদ্দ বেড়েছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাজেটের বাইরে গিয়ে যখন যা প্রয়োজন হয় তিনি আমাদের ম্যানেজ করে দেন। এটা সত্য, আমাদের বাজেটের ঘাটতি রয়েছে। সরকারি হাসপাতালে ধারণক্ষমতার চেয়ে রোগী বেশি। ফলে বরাদ্দে কিছুটা ঘাটতি দেখা যায়। কিন্তু মানুষের চিকিৎসা বিষয়ে সরকারের আন্তরিকতার অভাব নেই। চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণার জন্য প্রধানমন্ত্রী ল্যাবরেটরি তৈরির জন্য জায়গা বরাদ্দ দিয়েছেন। এ বিষয়ে কাজও চলছে।
অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান
সাবেক উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই। নিজেকে ভালো রাখতে হলে নিয়ম মেনে চলতে হবে। লাইফস্টাইল ও ফুড হ্যাবিটস পরিবর্তন করতে হবে। ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে যাদের ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন আছে, তাদের ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আমরা যদি শেষ জীবনে ভালো থাকতে চাই, তাহলে ফ্যাটি লিভার সম্পর্কে জানতে হবে। স্কুল থেকে স্বাস্থ্যের বেসিক শিক্ষা শুরু করতে হবে। কী করলে ভালো থাকা যায় আর কোন অভ্যাস আমাদের অসুস্থ করে দেয়, এটা শিশুদের শেখাতে হবে। ফ্যাটি লিভার রোগ থেকে বেঁচে থাকতে হলে ওজন কমাতে হবে শাকসবজি বেশি খেতে হবে। মিষ্টি পানি এড়িয়ে চলতে হবে, নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।
মো. এবাদুল করিম
ম্যানেজিং ডিরেক্টর, বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি
ফ্যাটি লিভার বর্তমান সময়ের নীরব ঘাতক ব্যাধি, যা আমাদের জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য হুমকি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই রোগের ভয়াবহতা ও চিকিৎসা বিষয়ে আজকের অনুষ্ঠানের বক্তারা অত্যন্ত সহজ ও সাবলীলভাবে আমাদের সামনে বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি সর্বস্তরের জনগণের কাছে ফ্যাটি লিভারের ভয়াবহতা তুলে ধরার জন্য দিবসটির সূচনালগ্ন ২০১৮ সাল থেকে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক কর্মসূচি ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ পালন করে আসছে।
বাংলাদেশের বিজ্ঞ লিভার বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে ফ্যাটি লিভারের প্রাথমিক শনাক্তকরণের মাধ্যমে রোগীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করার চেষ্টা করেছি। ওষুধশিল্প বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমাদের ৯৮ শতাংশ ওষুধের চাহিদা দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোই মেটাতে পারছে। এতদিন আমরা বিদেশের যে কোনো ওষুধ তৈরি করতে পারতাম। কিন্তু প্যাটেন্ট সুবিধা বাতিল হয়ে গেলে আমরা সমস্যায় পড়ে যাব। তখন প্যাটেন্টেড ওষুধ তৈরি করতে চাইলে মূল কোম্পানিকে রয়্যালটি দিতে হবে। এতে ওষুধের দাম অনেক বেড়ে যাবে। আমাদের ওষুধ উৎপাদন করতে যে খরচ হয় তার একটা বড় অংশ ওষুধের কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যয় করতে হয়। ডলারের দাম বাড়তে থাকলে বাজারে টিকে থাকা মুশকিল হবে। এটা ঠিক যে, ওষুধের দাম বাড়ার কারণে রোগীরা কষ্টে আছেন। রোগীরা তার প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে পারছে না, কেন না সবার জীবনযাত্রার মান সমান নয়।
সরকার যদি গবেষণার পেছনে দুই হাজার কোটি টাকা খরচ করে তাহলে এই সুবিধা সারা জীবন ভোগ করবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে গবেষণায় মনোযোগ দিতে হবে। বরাদ্দ বাড়াতে হবে। আমরা উন্নয়নশীল দেশের পরে উন্নত দেশে পরিণত হতে চাই, সেজন্য সব বিষয়ে আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।
আমরা যদি সব স্তরে এই রোগের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিই, অচিরেই বিশাল জনগোষ্ঠী লিভার ক্যানসার ও লিভার সিরোসিসের মতো ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হবে, যার ফলে কর্মক্ষমতা হ্রাস পাবে এবং অধিক চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে হবে।
অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল
সভাপতি, হেপাটোলজি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ও বিভাগীয় প্রধান ইন্টারভেশনাল হেপাটোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
হেপাটোলজি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন পক্ষ থেকে দেশ রূপান্তর সম্পাদককে ধন্যবাদ জানাই আজকের আয়োজনের জন্য। কৃতজ্ঞতা বীকন ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রতি। হেপাটোলজি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা হয়েছিল এ কারণেই, যাতে আমরা মানুষের সঙ্গে লিভার বিশেষজ্ঞদের যোগাযোগ স্থাপন করতে পারি। সেই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে ফ্যাটি লিভার দিবসটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই দিবসের সঙ্গে আমরা শুরু থেকেই সম্পৃক্ত আছি। দেশে যদিও এপিডেমিকাল বা জনগোষ্ঠী সেভাবে সার্ভে করা হয়নি, যা আমাদের বিভিন্ন গবেষণায় উঠে আসছে। প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। বড় কারণ আমাদের খাদ্যাভ্যাস। নানা কারণে ফ্যাটি লিভারের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। মানুষের সচেতনতার জায়গায় ঘাটতি আছে। আমরা এখনো জানি না যে ফ্যাটি লিভার রোগ কি না। ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত বেশিরভাগ মানুষের ধারণা, লিভারে চর্বি জমেছে। এটা তেমন কোনো সমস্যা করে না। সেই জায়গাটাতেই আমাদের সচেতনতা তৈরি করতে হবে। কেননা, ফ্যাটি লিভারে যারা আক্রান্ত হন, তাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশের দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ বা ক্রনিক হেপাটাইটিস থাকে। যাকে আমরা ন্যাশ বলি এবং ন্যাশ থেকে লিভার সিরোসিস বা লিভার পাকাপাকিভাবে নষ্ট হয়ে যায়। এমনকি লিভার ক্যানসারও হতে পারে। ফ্যাটি লিভারের কার্যকর চিকিৎসা হচ্ছে লাইফস্টাইল মোডিফিকেশন। আমাদের যাপিত জীবনে পরিবর্তন, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, কায়িক পরিশ্রম বাড়ানো। এটাই সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা। ওষুধের জায়গা যদি বলেন, দেশে কিন্তু ওষুধশিল্পে বিপ্লব ঘটেছে। ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে এখনো স্পেসিফিক কোনো ওষুধ নেই, যা খেলে লিভারের চর্বি কমে যাবে। কিন্তু অনেকগুলো ওষুধ এ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। আমি কৃতজ্ঞ বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস এবং সাবেক সাংসদ এবাদুল করিমের প্রতি। তার প্রতিষ্ঠানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতেই এর ওষুধগুলো দেশের মানুষদের জন্য নিয়ে এসেছেন। লিভার বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমরা কতগুলো কাজ করার চেষ্টা করছি। একটা হচ্ছে মানুষকে সচেতন করা। দ্বিতীয়ত এ রোগে আক্রান্ত অনেকের লিভার সিরোসিস, লিভার ক্যানসার হয়ে যাচ্ছে সেখানটায় যথাযথ চিকিৎসা করা। এই কাজগুলো আমরা ক্ষুদ্র পরিসরে করে যাওয়ার চেষ্টা করছি।
ডা. শেখ মোহাম্মদ নূর-ই আলম ডিউ
সহযোগী অধ্যাপক, হেপাটোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
শরীর যখন স্থূলকায় হওয়া শুরু করে, তখন ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্ট হওয়ার প্রবণতা বাড়তে থাকে। এটা লিভারের চর্বির প্রবণতা আরও বাড়ায়। তাদের ফাইব্রোসিস এবং লিভার সিরোসিস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বৈশ্বিক ডেটা বলছে, যাদের বিএমআই-৩০-এর ওপরে তাদের ৯৪ শতাংশেরই লিভারে চর্বি বেশি। আর যাদের বিএমআই-২৫-এর ওপরে, তাদের ৬৭ শতাংশেরই লিভারে চর্বি বেশি। বিএমআই-২৫-এর নিচে এমন মানুষের মধ্যেও ২৫ শতাংশের ক্ষেত্রে লিভারে চর্বি বেশি পাওয়া যায়। কারণ এখন মানুষের টেবিলওয়ার্ক বেশি, কায়িক পরিশ্রম কম। খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে কার্বোহাইড্রেট ও জাঙ্কফুড বেশি খাওয়া হয়। দেশের ৩৩ শতাংশ মানুষ ফ্যাটি লিভারের রোগী। ডায়াবেটিক রোগীদের মধ্যে ৭০ শতাংশের ফ্যাটি লিভার। দেশে ১০০ জনে ৫ জন হেপাটাইটিস-বি রোগে আক্রান্ত। আবার ১০০ জনে ১ জন হেপাটাইটিস-সি রোগে আক্রান্ত। যদিও আমরা ইউপিআইয়ের মাধ্যমে হেপাটাইটিস-বি’র টিকা দিয়ে থাকি। জন্মের পরপর নেওয়া গেলে ভালো । শুধু খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করেই সামনের দিকে এগোনো যাবে না।
ডা. আব্দুর রহিম
সহযোগী অধ্যাপক, হেপাটোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
ফ্যাটি লিভার রোগটি নিয়ে খুব সিরিয়াসলি চিন্তা করতে হবে। বি ভাইরাস-সি ভাইরাসের চেয়ে ফ্যাটি লিভারে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। আমরা বুঝতে পারি না, কিন্তু যখনই ন্যাশ বা সিরোসিস হয়ে যায় তখনই শনাক্ত করতে পারি যে, ফ্যাটি লিভার থেকে ল্যাশ এবং সিরোসিস ও হেপাটাইসিস হয়ে গেছে।
আমরা আগে ভাবতাম বি ভাইরাস ও সি ভাইরাসে ক্যানসার হয়। এখন দেখছি ন্যাশ নিয়ে ক্যানসার হয়। আমাদের কাছে বেশিরভাগ লিভার ক্যানসারের রোগীই আসে, যাদের ন্যাশ ক্যানসার। বি ভাইরাস ও সি ভাইরাসের চেয়ে ন্যাশ ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। ফ্যাটি লিভার থেকে ন্যাশ, ন্যাশ থেকে সিরোসিস ও সিরোসিস থেকে ক্যানসার; এভাবে হচ্ছে। এটা অ্যালার্মিং, আমাদের সচেতনতা থেকে শুরু করে ডায়াগোনসিস এবং চিকিৎসায় নজর দিতে হবে।
অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন
পরিচালক, অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রক, স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর
আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। গ্লোবাল ফ্যাটি লিভার দিবস ২০১৮ সালে প্রথম যে কটি দেশ অংশগ্রহণ করে তার মধ্যে বাংলাদেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। আমরা জানি ফ্যাটি লিভারের সমস্যা কতটুকু। গবেষণা অনুযায়ী, দেশের ওয়ান থার্ড মানুষ ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। ইস্যু হচ্ছে, লিভার ডিজিজগুলোকে কীভাবে অ্যাড্রেস করব। আমরা অত্যন্ত সিরিয়াস ইস্যুকে অ্যাড্রেস করছি না। ২০১০ সালে যখন রিপোর্ট প্রকাশ হয়, তখন ভাবা হয়েছিল ২০৫০ সালে ফ্যাটি লিভারে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৫ শতাংশ চলে আসবে। অথচ অ্যাড্রেস করতে গেলে অনেক বেশি তথ্য-উপাত্তের দরকার। ন্যাশনাল গাইডলাইন তৈরি হচ্ছে। আমরা তা পলিসি মেকারদের দিতে পারব যে, এই অ্যাকটিভিটি করতে হবে। ক্যালরি বাড়াচ্ছেন মানে আপনার ফ্যাটি লিভার বাড়াচ্ছেন। ৫-১০ শতাংশ ফ্যাট লিভারে জমলেই ফ্যাটি লিভার শুরু হয়। ৬৬ শতাংশে গেলে গ্রেড ৩-এ চলে গেল। ৮০ শতাংশে গেলে গ্রেড ৪-এ চলে গেল। বিভিন্ন বয়সের আমাদের খাদ্যাভ্যাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। ২০১০ সালে যখন গবেষণা করি, তখন দেশে ছিল ৩ শতাংশ, ১২ শতাংশের মতো ছিল ওভার ওয়েট। গত বছরের গবেষণায় সেটা হয়েছে ৬.৭ শতাংশ, ২৮ শতাংশ। দেশের ওয়ান থার্ড পারসেন্ট অব পপুলেশন ওভার ওয়েটের সমস্যা আছে। গত বছর আমরা ফিজিক্যালি ইন অ্যাকটিভ মানুষ পেয়েছি ২৮ শতাংশ। মহিলাদের হচ্ছে ৩৬ শতাংশ। এখন পার্কে হাঁটেন যাদের ডায়াবেটিস আছে, সুস্থ মানুষ কিন্তু হাঁটেন না। জনসচেতনতার জন্য সবচেয়ে বেশি দরকার মিডিয়ার প্রচার।
রাশেদ রাব্বি
স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিবেদক ও হেলথ ফোরামের সভাপতি
আমাদের দেশে তথ্যপ্রাপ্তির ব্যবস্থা সহজলভ্য নয়। মাঠে কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় দেখেছি তথ্য সংগ্রহে যথাযথ কর্র্তৃপক্ষের সহযোগিতা পাওয়া যায় না। নানা বিষয়ে সঠিক প্রতিবেদন আমরা তৈরি করতে পারি না। মাত্র কয়েক বছর আগে আমি ফ্যাটি লিভার সম্পর্কে জেনেছি। অধ্যাপক মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল আমাদের স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিবেদকদের ডেকে নিয়ে এ রোগটি সম্পর্কে শুরুতে ধারণা দেন। অন্যান্য চিকিৎসক এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানী এভাবে আন্তরিক হলে নতুন রোগ সম্পর্কে আমরা জানতে পারব এবং মানুষকে জানাতে পারব। ফলে মানুষ সচেতন হবে।
আব্দুল গাফফার
সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও উপদেষ্টা রূপায়ণ গ্রুপ
ফ্যাটি লিভার কথাটা আমরা সম্প্রতি শুনছি, আগে কিন্তু শুনিনি। এখন আমাদের খাওয়ার বদভ্যাস হয়ে গেছে। আগে প্রতিটি এলাকায় খেলাধুলার মাঠ ছিল, এলাকার শিশু-কিশোরা খেলাধুলা করত। এখন সবকিছুর পরিবর্তন হয়ে গেছে। আমরা যা খেতাম তা তৃপ্তি নিয়ে খেতাম। এখনকার খাওয়া হয়ে গেছে বার্গারসহ তেল জাতীয় খাবার। এই খাওয়া-দাওয়া কিন্তু ফ্যাটি লিভারের অংশ। স্কুল, কলেজে গেলে দেখবেন বাচ্চাদের চোখে পাওয়ারের চশমা। তাদের চোখের অবস্থা এখনই এই। সবাই এখন ফাস্টফুডে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। বিশেষ করে শহরের ছেলেমেয়েরা। এসব খাবারই ফ্যাটি লিভারের কারণ। আর খেলাধুলা ও শরীরচর্চা না করার কারণে এসব রোগ বেশি হয়। ফ্যাটি লিভার নিয়ে সবাইকে সচেতন করতে হবে।
ডা. শেখ মোহাম্মদ ফজলে আকবর
ভিজিটিং রিসার্চার, সেন্টার ফর গ্লোবাল অ্যান্ড লোকাল ইনফেকশাস ডিজিজেজ, ঔতা বিশ্ববিদ্যালয় জাপান
আমাদের দেশে সত্যিই কত শতাংশ ফ্যাটি লিভার আছে, তা পরিষ্কার করতে হবে। ফ্যাটি লিভারের সঙ্গে সমান্তরালভাবে ন্যাস এবং লিভার ক্যানসার যোগ করে দেওয়া ঠিক না। একটি প্ল্যাটফর্ম করতে হবে। যেখান থেকে ন্যাস, ফ্যাটি লিভার এবং লিভার ক্যানসার কোন জায়গায় দাঁড়াচ্ছে সেটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাবে। ফ্যাটি লিভার যে খাওয়া ও মুভমেন্ট না করার জন্যই হয়, সেটাও পুরোপুরি ঠিক না। এর অন্যতম কারণ হলো মেন্ট্রাল স্ট্রেস। দেশে ফ্যাটি লিভারের ধরনটা কেমন, কী পরিমাণ ওষুধ দরকার, সেটা আমাদের জানা দরকার। প্রথমেই বেসিক ডেটা তৈরি করতে হবে। দেশের রিয়েলিস্টিক অবস্থানটা কী? আমরা যদি সিএসআরের একটা পার্সেন্টেজ; মাইনর পার্সেন্টেজও এই ছোট্ট দু-একটা জিনিস বের করতে পারি, তাহলে আরও কিছু কাজ করতে পারতাম।
হেলাল উদ্দিন
ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ক্লিনিক্যাল রিসার্চ অর্গানাইজেশন
বাংলাদেশে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে যে সূচনা হয়েছিল, তা মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল তার হাত ধরেই আমরা শুরু করেছিলাম। ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল তার তত্ত্বাবধানে আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে করা হয়েছিল। ২০১৬ সালে আমাদের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল গাইডলাইন তৈরি করে। সেই গাইডলাইনে প্রথম পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য অনুমোদন দিয়েছিলেন। ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বাংলাদেশের যেহেতু নতুন এবং আমরা খুব বেশি ওরিয়েন্টেড না। আমাদের দেশে ওষুধ তৈরি হয় না। বাইরে থেকে ওষুধ আসার পর প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে অ্যাপ্রুভ ওষুধগুলো মানুষ কিনতে পারে। সেই ওষুধের জন্য বেসিক্যালি কোনো ট্রায়ালের প্রয়োজন পড়ে না। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর যে গাইডলাইন করেছেন, তার আওতায় আমাদের আরও ট্রায়াল করতে হবে। আমাদের ট্রায়ালের দুটি ওষুধ যাচাই-বাছাই করে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ইতিমধ্যেই বাজারজাত করার জন্য লাইসেন্স দিয়েছেন। দেশে গবেষণার দ্বার অনেকটাই উন্মোচিত হয়েছে। আশা করি, ভবিষ্যতে হয়তো যে অভীষ্ট লক্ষ্যে আমরা যেতে চাই, আস্তে আস্তে যেতে পারব।
ডা. ইহতেশামুল হক দুলাল
মহাসচিব, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন
স্বাস্থ্যব্যবস্থা গত ৫২ বছরে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে। সরকার, কর্তাব্যক্তিও গণমাধ্যমের দায়ও রয়েছে। স্বাস্থ্যের নেতৃত্বে থাকতে হবে স্বাস্থ্য খাতে জড়িত ব্যক্তিদের। তাহলে অনেক সমস্যার সহজ সমাধান মিলবে। রাষ্ট্র যদি বিচক্ষণ হয়ে স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ করেন আরও বাজেট বরাদ্দ দেন তাহলে রোগীরা বিদেশে না গিয়ে দেশে চিকিৎসা নেবেন। এতে সরকারের আয় বাড়বে। দেশের টাকা দেশে থাকবে। গণমাধ্যম দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করলে স্বাস্থ্যের অনিয়ম কমে যাবে। আশার কথা, এই প্রথম স্বাস্থ্যে আমরা দুজন মন্ত্রীকে চিকিৎসক হিসেবে পেয়েছি। আশা করি তারা আমাদের নানাবিদ সংকট দূর করবেন।
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
আহ্বায়ক, সম্প্রীতি বাংলাদেশ
অনুষ্ঠানের আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। দিন যত এগোচ্ছে স্বাস্থ্য বিষয়ে মানুষের জানাশোনা বাড়ছে। ডাক্তার স্বপ্নীল ও আকবরের সঙ্গে পরিচয়ের পর আমার সচেতনতা বেড়েছে। অনেক কিছু জেনেছি। ফ্যাটি লিভারসহ নানা রোগ এখনো অনেক মানুষের অজানা। এসব বিষয় মানুষকে জানাতে ও জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা মুখ্য। গণমাধ্যমকে ব্যবহার করেই এসব মানুষকে জানাতে হবে। রোগ নিয়ে মানুষকে ভয় দেখানো যাবে না। আজকের আলোচনা থেকেও জীবনযাপনের জন্য অনেক কিছু জানতে পারবে মানুষ।
মোস্তফা মামুন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, দেশ রূপান্তর
স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন অঙ্গনের গুরুত্বপূর্র্ণ ব্যক্তি যারা উপস্থিত হয়েছেন এবং ফ্যাটি লিভার নিয়ে বিভিন্ন বিষয় সহজে যেভাবে তুলে ধরেছেন, সেজন্য তাদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ। ধন্যবাদ দিতে চাই হেপাটোলজি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ও এর প্রধান মামুন আল মাহতাবকে, এত অল্প সময়ের মধ্যে এ রকম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে আমাদের সহযোগী হওয়ার জন্য। সেই সঙ্গে আরও ধন্যবাদ দিতে চাই বীকন ফার্মাসিউটিক্যালসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবাদুল করিমকে, যিনি এত ব্যস্ততা থাকা সত্ত্বেও আমাদের মধ্যে উপস্থিত হয়েছেন।
আসলে দুশ্চিন্তা যে ফ্যাটি লিভারের কারণ, সেটা আরেকটা দুশ্চিন্তা। আজকের আলোচনায় ফ্যাটি লিভার নিয়ে সহজভাবে সহজ করে অনেক কিছু জানতে পারলাম। যদি এই দিক চিন্তা করি তাহলে সাংবাদিকরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ব। একই অবস্থা সাধারণ মানুষের। আমাদের যে জীবন তাতে দুশ্চিন্তা ছাড়া থাকার কোনো সুযোগ নেই। ফ্যাটি লিভার নিয়ে আরও বেশি মানুষকে সচেতন করার জন্য মিডিয়া কাজ করতে পারে। আসলে মাল্টিসেকশন যুক্ত হলে যেকোনো বিষয়ই সমৃদ্ধ হয়, সম্ভাবনা তৈরি হয়। আগামীতে আমরা নিশ্চয়ই ফ্যাটি লিভার নিয়ে আপনাদের সঙ্গে আরও কাজ করব।
আয়োজনে
গোলটেবিল সমন্বয়ক : আব্দুল্লাহ আল তোফায়েল
উপস্থাপনায় : মোহসীনা লাইজু
