পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাবে অসুন্দর চট্টগ্রাম

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৩, ১১:২৫ পিএম

image

সুবিধাবাদীদের শিকার হচ্ছে চট্টগ্রাম

খোরশেদ আলম সুজন

প্রাচীন ভারতে দুটি সমুদ্র বন্দর ছিল। একটি চট্টগ্রাম বন্দর। অন্যটি ভারতের কালিগঞ্জ বন্দর। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আরব ও পর্তুগিজরা এদেশে এসে ব্যবসাপাতি করেছেন। ভৌগোলিকভাবে চট্টগ্রাম বন্দরের যে গুরুত্ব সেটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে পেরেছেন বলে শকুনের দৃষ্টি পড়েছে চট্টগ্রামের ওপর। কিন্তু এই চট্টগ্রামের আজ বড়ই দুর্ভাগ্য। চট্টগ্রাম এখন সুবিধাবাদীদের লালসার শিকারে পরিণত হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম শহরকে পাগলের মতো ভালোবাসেন। তাই এই চট্টগ্রামের উন্নয়নে তিনি হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিচ্ছেন। চট্টগ্রামে উড়াল সড়ক হয়েছে এবং হচ্ছে। কিছুদিন পর আমরা যাচ্ছি টানেলের যুগে। কর্ণফুলীর তলদেশে নির্মিত হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম টানেল। আনোয়ারায় গড়ে উঠছে বড় শিল্পাঞ্চল। মাতারবাড়ীতে হচ্ছে ডিপ সি-পোর্ট। আগামী দশ বছরে চট্টগ্রাম হবে বিশ্বের ইকোনমিক জংশন। কাঠার দিন শেষ, আগামীতে চট্টগ্রাম শহরে জায়গা বিক্রি হবে বর্গফুট হিসেবে। কিন্তু আমরা স্বার্থপর মানুষের কাছে হেরে যাচ্ছি। চট্টলবীর এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী জীবনভর চট্টগ্রামের স্বার্থেই লড়াই-সংগ্রাম করেছেন। তিনি বলেছিলেন কর্ণফুলীকে রক্ষার জন্য নদীর ওপর ঝুলন্ত ব্রিজ নির্মাণ করতে। কিন্তু সেখানে দেওয়া হয়েছে পিলার সেতু। ফলে পলি জমে নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে। জলাবদ্ধতা আমাদের জন্য অভিশাপে পরিণত হয়েছে।

image

শহরমুখিতা বন্ধ করতে হবে

এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম

চট্টগ্রাম শহরে ১৯৭২ সালে জনসংখ্যা ছিল এক লাখের নিচে। এই শহরের ধারণ ক্ষমতা যদি দশ লাখ রাখা হতো তাহলে মনে হয় আরও সুন্দর হতো। নাগরিক হিসেবে আমরা সচেতন না। ৯০-এর দশকের পর থেকে মানুষের মধ্যে গ্রাম থেকে শহরে আসার প্রবণতা বেড়েছে। সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য গ্রাম থেকে শহরে আসতেই হবে এমন একটি প্রবণতা কাজ করছে। অনেকেই নিজেকে বিত্তশালী জাহির করার জন্য শহরের বাসিন্দা হচ্ছেন। শহরমুখী প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। চট্টগ্রাম শহরে রাস্তার পাশে অসংখ্য স্কুল-কলেজ, গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানা। এসবের কারণে শহরের ওপর চাপ বাড়ছে। যানজট বাড়ছে। মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। এজন্য পরিকল্পিত উপায়ে নগর উন্নয়ন করতে হবে। পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান আলাদা জোনে স্থানান্তর করতে হবে। উন্নয়ন হচ্ছে কিন্তু সবকিছু যেন শ্রীহীন। আমাদের নৈতিক অধঃপতন ঘটেছে। আমরা ক্রমাগত নিচের দিকে যাচ্ছি। গ্রামের স্কুল-কলেজে শিক্ষার মান অবনতির দিকে যাচ্ছে।

image

টেকসই উন্নয়নে দরকার নিরাপত্তা

কৃষ্ণপদ রায়

টকসই উন্নয়নের জন্য টেকসই নিরাপত্তা দরকার। পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য শহরের পাহাড়গুলো টিকিয়ে রাখা জরুরি। কারণ পাহাড়ধসে অনেক সময় অনেক মানুষের প্রাণ গিয়েছে সেটা আমরা জানি। আমরা দেখি যে, কিছু সরকারি সংস্থার এবং আর কিছু বেসরকারি লোকজনের পাহাড় আছে। যারা পাহাড় রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছেন ভবিষ্যতে পাহাড় রক্ষার জন্য তাদের কার্যত কোনো পদক্ষেপ দেখছি না। আইনশৃঙ্খলাজনিত কাজের জন্য পুলিশকে কিছু পাহাড় দেওয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে পাহাড় রক্ষার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। আমরাও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করে স্থাপনা নির্মাণ করব।

আপনি যখন নগর পরিকল্পনা করবেন, আবাসনের পরিকল্পনা করবেন আর পার্টিকুলার জায়গায় মানুষগুলো যত গাড়ি ব্যবহার করবে এবং সেই গাড়িগুলো রাস্তা ধারণ করতে পারবে কি না, মানুষগুলো রাস্তা ধারণ করতে পারবে কি না এসব বিষয় পরিকল্পনায় আনতে হবে। যেখানে-সেখানে স্থাপনা নির্মাণের অনুমোদন দিলে ট্রাফিক ব্যবস্থা ঠিক রাখা খুবই মুশকিল। নগরে অনেকটা রাস্তার ওপরে গড়ে উঠেছে ফলমন্ডি মার্কেট। এই মার্কেট ঘিরে তৈরি হয় যানজট। আর দোষারোপ করা হয় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে। যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ কেন কিছু করতে পারছে না ইত্যাদি অভিযোগ। কিন্তু ওই মার্কেটে দোকান যদি খোলা থাকে ফল রাস্তায় আসতে বাধ্য। আপনি ফল আনলোড করবেন কোথায়। দোকানও থাকবে, রাস্তাও ক্লিন থাকবে, এটা তো হতে পারে না। তাই এরকম একটা মার্কেট বা পাইকারি বাজার কেন রাস্তার পাশে হবে যেটি বেশিরভাগ মানুষ ব্যবহার করে। সেটা তো হতে পারে না। মানুষের সামর্থ্য বেড়েছে। গাড়ি বেড়েছে। কিন্তু রাস্তা তো বাড়েনি। রাস্তার পাশে স্কুল থাকলে চট্টগ্রাম শহরকে যানজটমুক্ত করা যাবে না। হয় স্কুল সরান না হয় যানজট গ্রহণ করুন। 

image

নগরীর দর্শনের  বিপরীতে আমরা হাঁটছি

জেরিনা হোসেন

আমরা ১৯৬১ থেকে পরিকল্পনা করে যাচ্ছি। পরিকল্পনাগুলো হলো একটা নগরকে সুন্দর রাখার সিরিজ অব সুপারিশ। ১৯৬১ সালের মাস্টারপ্ল্যানের কথা যদি বলি, এই প্ল্যানগুলো কিন্তু জনসম্মুখে আসেনি। অন্য যেকোনো দেশে এই প্ল্যানগুলো মানুষ কিনতে পারে। এগুলো কোনো নগরের কোনো সংস্থার একক কোনো বিষয় নয়, এগুলো সামগ্রিক। ১৯৬১ সালের মাস্টারপ্ল্যানে তিনটি (পানি, রাস্তা ও উন্মুক্ত স্থান)  প্রধান সমস্যার কথা বলা হয়েছিল। পানির অভাব থেকে আমরা অনেক উত্তরণ পেয়েছি চট্টগ্রাম ওয়াসার মাধ্যমে। সরু ও বিশৃঙ্খল রাস্তা থেকে উত্তরণ পাইনি। একই সঙ্গে উন্মুক্ত স্থানের পরিমাণও আরও কমেছে।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রসঙ্গে সিডিএ চেয়ারম্যান জনসম্মুখে বলেন, এই এক্সপ্রেসওয়ে হচ্ছে নগরের ৭০ থেকে ৮০ জন মানুষের জন্য, যারা চট্টগ্রামে বিনিয়োগ করবেন। কিন্তু এই ৭০-৮০ জনের জন্য কত হাজার কোটি টাকা খরচ করে এই এক্সপ্রেসওয়ে বানানো হচ্ছে? নগর ধ্বংসের জন্য এই এক্সপ্রেসওয়ে দায়ী। সিডিএ ২০০৭ সালে অনন্যা আবাসিক এলাকায় ১৬০০ প্লট বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু এত বছর হয়ে গেলেও মানুষ সেখানে বিনিয়োগ কাজে লাগাতে পারছে না। এখানে এক সময় প্লাবনভূমি ছিল, বৃষ্টির পানি এসে জমা হতো। কিন্তু পানির জন্য আলাদা জলাধার তৈরি না করে পুরো এলাকা ভরাট করা হয়। ফলে সমগ্র এলাকায় এখন জলাবদ্ধতা হয়। নগরে সামষ্টিক চিন্তা না থাকলে, একক ব্যক্তি দ্বারা যদি এভাবে হতে থাকে, ওটা নগর হবে না। বাসযোগ্যতা পাবে না। তাহলে নগরীর দর্শন যেটা, সেটার বিপরীতে আমরা হাঁটছি।

১৯৬১ বাদ দেন, ১৯৯৫ সালের মাস্টারপ্ল্যানের চারটি খন্ড রয়েছে। সেখানে স্পষ্ট বলা রয়েছে নগরীর কৌশলগত উন্নয়ন কী হবে, দর্শন কী হবে, ড্রেনেজ কী হবে, ট্রান্সপোর্ট কী হবে। একই সঙ্গে কোন সংস্থা কী কাজ করবে তাও বলা হয়েছে। ওখানে ড্রেনেজে যে অথরিটির কথা বলা হয়েছে সেখানে সিডিএ নয়। আমরা যদি প্ল্যানগুলো বাস্তবায়ন করতে চাই তাহলে প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি লাগবে। এর জন্য নতুন একটি প্রতিষ্ঠান করতে হবে অথবা সিডিএকে ট্রান্সফর্ম করে তা করতে হবে।

image

টার্গেটবিহীন উন্নয়নে চট্টগ্রাম শ্রীহীন হবে

দেলোয়ার হোসেন মজুমদার

আমাদের এখানে উন্নয়ন হয় কৃতিত্ব, বাহবা ও পকেট ভারী করার জন্য। উন্নয়নের টার্গেটে যদি জনগণ না থাকে তাহলে সে উন্নয়নে চট্টগ্রাম শ্রীহীন হবে। আগে ছিল ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট। নাম পরিবর্তন করে তা হলো রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। ওই যে শুরু হলো ভুল যাত্রা, তা এখনো চলছে। এই সংস্থাগুলো তৈরি করা হয়েছে প্ল্যানিং কন্ট্রোল করার জন্য। আর নাম হয়েছে উন্নয়ন সংস্থা। ১৯৯৫ সালের মাস্টারপ্ল্যান যখন করা হয় তখন ওই নাম সংশোধনের একটা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। ডেভেলপমেন্ট শব্দটার সঙ্গে যেহেতু অনেকের স্বার্থ জড়িত তাই ওটাকে বাদ দেওয়া হয়নি। কিন্তু নাম  দেওয়া হয়েছিল প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি। যেন মাথা থেকে প্ল্যানিং শব্দটা বাদ না যায়।

জলবদ্ধতা প্রকল্পটা যখন নেওয়া হয় তখন অনেকেই বলছিল সিটি করপোরেশনের যোগ্যতা নেই, সিডিএর যোগ্যতা নেই। কিন্তু সিটি করপোরেশন তো ওই সময়ে খালগুলো পরিষ্কার করছিল। একটা খালে একটা বোতল ভেসে গেলে তা পরিষ্কার করার বা তুলে নেওয়ার সক্ষমতা কি সিডিএর তখন ছিল? তাদের তো তখন কোনো জনবল ছিল না। সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র আমাদের ডেকে নগরের অবস্থা বুঝতে চেষ্টা করলেন। একটা চীনা বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শে ড্রেনেজ সিস্টেম নিয়ে একটি প্ল্যানও তৈরি করা হলো। কিন্তু পরে ঢাকার একটা প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে তাড়াহুড়ো করে মাস্টারপ্ল্যান করে তা একনেকে পর্যন্ত নিয়ে গেল। যারা এই মাস্টারপ্ল্যানটি করেছে, তাদের সঙ্গে চট্টগ্রামের কোনো সম্পর্কই ছিল না।

image

সিডিএ না থাকলে শহর আরও সুন্দর থাকত

আশিক ইমরান

সেই সময়টা আর খুব বেশি দূরে নেই, যখন আমরা বলব একসময় চট্টগ্রাম সবুজ ছিল, পাহাড় ছিল, নদী ছিল। এখন যে অবস্থায় যাচ্ছে, এগুলো হয়তো আর বেশিদিন থাকবে না। অনেক উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু চট্টগ্রাম শ্রীহীন। আমরা সবাই জানি, জলাবদ্ধতা, পাহাড় কাটা, উন্মুক্ত স্থান ধ্বংস করাসহ কোনটা ভুল, কোনটা শুদ্ধ, কোনটা করা প্রয়োজন, কোনটা প্রয়োজন নয়। কিন্তু বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধার যে বিষয় সেটা অনুপস্থিত।

আমি গত চার বছর ধরে সিডিএর বোর্ড মেম্বার। কিন্তু আমি এখনো বুঝতে পারিনি বোর্ড মেম্বার হিসেবে আমার কাজটা কী? আমি জানি না এটা সৌভাগ্য, না দুর্ভাগ্য। কিন্তু এটাই বাস্তবতা। ওখানে যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এগুলো খুবই সাদামাটা। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে, অর্থাৎ কী হবে, কী না হবে এসব বিষয় নিয়ে  ওখানে কোনো আলোচনা হয় না। আমি কয়েকবার প্রস্তাব দেওয়ার পরও কোনো লাভ হয়নি।

দুঃখজনক বিষয় হলো সিটি করপোরেশন ও সিডিএ; এ দুটি সংস্থা নগরের অভিভাবক হিসেবে কাজ করছে। দুটো সংস্থাই অত্যন্ত দুর্বল। মানসিকভাবে দুর্বল, প্রশাসনিকভাবে দুর্বল ও আর্থিকভাবে দুর্বল।

আমি একজন আর্কিটেক্ট হিসেবে সিডিএর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। ওখানে কী প্রক্রিয়ায় ভবন নির্মাণের প্ল্যান পাস হয় সেটা আমরা জানি। আমি বোর্ড মেম্বার হওয়ার পরও এই প্রক্রিয়া চলমান।

image

সিডিএ দিয়ে নগরী বাসযোগ্য করা যাবে না

সুভাষ বড়ুয়া

আসলে আমরা চট্টগ্রামকে কেমন দেখতে চাই, তা নির্ধারণ করার প্রয়োজন আছে। এটা কি আমরা শুধু বড়লোকদের জন্য করব নাকি সমগ্র জনগণের জন্য করব? আমাদের কিন্তু সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলের মধ্যে আছে মানুষের জন্য। নো ওয়ান ইজ লিফট বিহাইন্ড।

সিডিএ ও সিটি করপোরেশন দিয়ে চট্টগ্রামকে বাসযোগ্য করতে পারবেন না। ইট ইজ সিম্পলি ইম্পসিবল। এই দুটো প্রতিষ্ঠানের রিফর্ম লাগবে। সেটা ছাড়া কোনোদিন হবে না। এজন্য প্রয়োজন পলিটিক্যাল সিদ্ধান্ত। টাইগার পাসে যে রাউন্ডএবাউট (গোলচত্বর) আছে, ওটা করতে গিয়ে তৎকালীন ট্রাফিকের ডিসি সাহেবের সঙ্গে আমাদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ওখানে আপনারা থাকবেন না, কোনো পুলিশ থাকবে না। ওটা এমনিই চলবে। পরে ড্রাম দিয়ে প্রথমে আমরা গোলচত্বর করি। সেটা যখন সফল হয় এরপর স্থায়ী করার জন্য সিটি করপোরেশনের চিফ ইঞ্জিনিয়ার সাহেবকে আমরা বলি। তিনি তা করে দেন। বর্তমানে পুলিশ ডিপার্টমেন্ট তা আবার ছোট করে সমস্যাটা নতুন করে ক্রিয়েট (সৃষ্টি) করেছে। কিন্তু এটা তো ডিজাইনভিত্তিক, এটা ভাবতে হবে।

মূল সমস্যাটা হলো আমাদের কোনো ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট নেই। ১৯৯৫ সালের মাস্টারপ্ল্যানে আমরা শর্ট টার্ম ও লং টার্ম প্রস্তাবনা দিয়েছি। সেখানে আছে শুধু ম্যানেজমেন্ট। শর্ট টাইমে আছে ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট, ট্রান্সপোর্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল রিফর্ম। লং টার্মেও তাই। এই ইনস্টিটিউশনাল রিফর্ম হয়নি আজ পর্যন্ত। সিডিএ ও সিটি করপোরেশনের মতো ইনস্টিটিউশন দিয়ে চট্টগ্রামকে বাসযোগ্য করতে পারবেন না। এ প্রতিষ্ঠানগুলোতে একজন ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ার নেই। তাহলে আপনারা কীভাবে নগরের উন্নয়ন করবেন। তাই নগর বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা প্রয়োজন যারা প্রতিনিয়ত পরামর্শ দেবেন।

image

জলজট যানজট নগরের মূল সমস্যা

 রফিকুল ইসলাম

‘চট্টগ্রাম নগরের মূল সমস্যা দুটি। একটি যানজট। অন্যটি জলজট। জনসংখ্যা যত বাড়ছে এই দুটি সমস্যা ততই বাড়ছে। শহরে এক বর্গমাইলের মধ্যে লক্ষাধিক লোক বসবাস করছেন।  গ্রামে না থেকে আমি কেন শহরে থাকছিÑ এর মূল কারণ স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাসেবা। এই দুটো সেবা যদি গ্রামে যথাযথভাবে নিশ্চিত করা যেত তাহলে শহরে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা কমে যেত। আমাদের উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু উন্নয়নটা কি পরিকল্পিত নাকি অপরিকল্পিত সেটাই বড় প্রশ্ন। আবাসন বৃদ্ধি পাওয়ায় বিল, ন্যাচারাল জলাধার এখন আর নেই। মাস্টারপ্ল্যানে চারটি জলাধার করার কথা ছিল। একটিও করা হয়নি। তাহলে বৃষ্টির পানি যাবে কোথায়? বাকলিয়া এক্সেস রোড তৈরি করায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। নগরের টোল রোডসহ আরও একাধিক রোড পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত করছে। 

মানুষকে ম্যানেজ করার জন্য আবাসন তৈরি করতে হচ্ছে। যানজটও আমরা ম্যানেজ করতে পারছি না। অসংখ্য ছোট গাড়ি বাড়ছে। সড়কে চলাচলরত যানবাহনের মধ্যে পঞ্চাশ শতাংশের বেশি রিকশা ও সিএনজি অটোরিকশা। বড় রাস্তায় বাস, মাঝারি রাস্তায় হিউম্যান হলার এবং ছোট রাস্তাগুলোয় যদি টেম্পো দিতে পারিÑ তাহলে মূল সড়কগুলোয় রিকশার আধিক্য থাকবে না। যানজট কমে আসবে। শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের জন্য স্কুলবাস চালু করতে হবে। দরিদ্র পরিবারের সন্তান যখন দেখে যে,  তারই সহপাঠী ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান পাজেরো জিপে চড়ে স্কুল এসেছে আর তাকে আসতে হচ্ছে রিকশা বা হেঁটে। ফলে এটি ওই শিশুর মধ্যে একটা হতাশা তৈরি করে। এজন্যই স্কুল বাস দরকার। এসব বিষয় পরিকল্পনায় আনতে হবে। আবাসিক এলাকায় আমরা কেন হাসপাতাল গড়ে তুলব। এসব বিষয় যদি আমাদের মাথায় না আসে তাহলে যতই উন্নয়ন করা হোক না কেন চট্টগ্রাম শ্রীহীন হতে বাধ্য। আমরা যদি উন্নয়নগুলো পরিকল্পিতভাবে করতে পারি তাহলে যানজট ও জলজটের সমস্যা সমাধান করা যাবে। সবাই যদি সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করি তাহলে এখনো সুযোগ ও সম্ভাবনা আছে চট্টগ্রামকে সুন্দর পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার।

image

পরিকল্পনা গ্রহণে দূরদর্শিতার অভাব

সালাহ্উদ্দিন মো. রেজা

চট্টগ্রামের উন্নয়ন চলছে। তবে সেই উন্নয়ন পরিকল্পিভাবে চলছে কি না সেটিই হলো মুখ্য বিষয়। পরিকল্পনামাফিক চলছে না বলেই আমার মনে হয় চট্টগ্রাম শ্রীহীন হচ্ছে। পরিকল্পনার ক্ষেত্রে দূরদর্শী চিন্তা করতে হবে। যারা এই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন তাদের দূরদর্শিতার অভাব ছিল। স্লুইস গেট নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ পানি নিষ্কাশনের জন্য পথ রাখা হয়েছে ছোট। স্লুইস গেটগুলো রক্ষণাবেক্ষণের তথা এগুলো কখন ওঠাবে বা কখন নামাবে সেজন্য লোক রাখা হয়নি। তাই এসব উন্নয়ন সাসটেইনেবল না। যার কারণে বৃষ্টি হলেই ডুবে যায় চট্টগ্রাম শহর। সিডিএর যে গঠনতন্ত্র আছে তাতে কিন্তু জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব তাদের না। জলাবদ্ধতার দায় সিডিএ ও সিটি করপোরেশন একজন আরেকজনকে দায়ী করছে। প্রকৃতপক্ষে জলাবদ্ধতা নিরসনে এই দুটো সংস্থারই সক্ষমতা নেই। জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএর ৫ হাজার ৬৬১ কোটি টাকার প্রকল্পের মেয়াদ ২০০০ সালে শেষ হয়ে গেছে। আরও কত বছর চলবে আল্লাহ জানেন। এদিকে বে-টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে ৯ থেকে ১০ বছর আগে। অথচ এটির এখনো মাস্টারপ্ল্যানও তৈরি করা হয়নি।

image

বন্দরকে বাদ দিয়ে চট্টগ্রামের উন্নয়ন হবে না

খায়রুল আলম সুজন

শুধুমাত্র সিস্টেমের কারণে আমরা পিছিয়ে পড়ছি। সিঙ্গাপুর এমন একটা দেশ যেটা শুধু সিস্টেমের কারণে পৃথিবীর উন্নত দেশে পরিণত হয়েছে। আমি শিপিং ব্যবসায়ী। ৯টা মন্ত্রণালয়ের ২২টা জায়গা থেকে পারমিশন নিয়ে ব্যবসা করতে হচ্ছে। দেশের অর্থনীতির হাব মাতারবাড়ী। এটি কি দেশের অপারেটর দিয়ে ব্যবহার করব নাকি বিদেশি অপারেটর দিয়ে ব্যবহার করব সে বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল দুই বছর ধরে অলস বসে রয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা এটি ব্যবহারই করতে পারিনি। দুই বছর পরে এসে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে এটি বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়া হবে। কিন্তু এই পরিকল্পনা যদি টার্মিনাল তৈরির আগে করত তাহলে এটি অলস পড়ে থাকত না।

বে-টার্মিনাল হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ফার্স্ট ট্র্যাকের প্রজেক্ট। মাত্র ৭২৫ একর জমি বন্দরের হাতে এসেছে। বাকি জমি এখন পর্যন্ত বন্দরের হাতে এসে পৌঁছায়নি। তাহলে এই প্রকল্প কবে বাস্তবায়ন হবে? চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে মহাপরিকল্পনা আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে। মাতারবাড়ীকে যদি আমরা হাব হিসেবে ধরি তাহলে পণ্যগুলো দেশের বিভিন্ন বন্দরে পাঠাতে পারব। বন্দরকে বাদ দিয়ে চট্টগ্রামের উন্নয়ন চিন্তা করা যাবে না।

image

সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জরুরি

আবদুল মালেক

ট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ইতিমধ্যে চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের প্রথম স্মার্ট জেলা হিসেবে গড়ে তোলার একটি প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন। এই লক্ষ্যে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক কাজ করে যাচ্ছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের উদ্যোগ আমরা প্রথমে বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা নিয়েছি।

ট্রাফিক সমস্যা নিয়ে এখানে আলোচনা হয়েছে। মাননীয় জেলা প্রশাসক ইতিমধ্যে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে পাঁচটি স্কুলবাস চালু করেছেন। আরে ১০টি স্কুলবাস চালু করা হবে। এছাড়া পর্যটন স্পটগুলো ভ্রমণের জন্য পর্যটন বাস চালু করা হয়েছে। আমরা মনে করি, সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে চট্টগ্রামকে পরিবর্তন করে অনেকগুলো সম্ভাবনার সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।

আমি মনে করি, যতগুলো সমস্যা রয়েছে সবগুলো সমাধান করতে সরকারি ও দায়িত্বশীল সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জরুরি। পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। অন্যথায় অনেক কিছু চাপিয়ে দিয়ে এ চট্টগ্রামকে সুন্দর করতে পারব না।

image

বাস ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ জরুরি

নাসির উদ্দিন

চট্টগ্রাম নগরের পরিকল্পিত উন্নয়ন হলে যানজট সমস্যা থাকবে না। ব্যস্ততম সড়কের পাশ থেকে স্কুল-কলেজ, পাইকারি বাজার সরিয়ে না নিলে যানজট সমস্যা দূর হবে না। এজন্য দরকার টেকসই উন্নয়ন। নগর উন্নয়ন পরিকল্পনায় সবাইকে সম্পৃক্ত করতে হবে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা আমাদের সবার কাম্য। কিন্তু ট্রাফিক নিয়মকানুন সম্পর্কে অনভিজ্ঞ ও অসচেতনতাসহ বিভিন্ন কারণে সড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনা রোধে রাস্তা পারাপারে ফুটওভার ব্রিজ বা জেব্রাক্রসিং ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে বাস ও ট্রাক টার্মিনাল গড়ে তোলা খুবই প্রয়োজন।

image

সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয় দরকার

তপন চক্রবর্তী

প্রভাবশালী মহল চট্টগ্রাম শহরের যেসব খাল, নালা দখল করেছে সেসব উদ্ধারে সিডিএ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখছি। এই সমন্বয়হীনতা দূর করে এই তিন সংস্থাকে খাল-নালা উদ্ধারে কাজ করতে হবে। তা না হলে চট্টগ্রামে বসবাস করা যাবে না। প্রেজেন্টশনে আমরা দেখেছি,  চট্টগ্রাম শহর কী ছিল এখন কী হয়েছে। আমরা যদি অচিরেই এসব প্রতিরোধ না করি তাহলে চট্টগ্রাম শহর বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাবে। চট্টগ্রামকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এই চট্টগ্রামের উন্নয়নে হাজার হাজার কোটি টাকা তিনি বরাদ্দ দিচ্ছেন। কিন্তু সিডিএ, চসিক, জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার লুটপাটের কারণে সেই উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো ভেস্তে যাচ্ছে। তাই আমাদের এখনই লেখনীর মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে করতে হবে।

image

খাল-নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ জরুরি

আলিউর রহমান

সম্প্রতি নগরীর ষোলশহর দুই নম্বর গেট থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা পর্যন্ত তিনদিন পানিতে ডুবে ছিল। এটার মূল কারণ হচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরশন, জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়হীনতা। এই সংস্থাগুলোর কারণে পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো শহর চট্টগ্রাম এখন খারাপ শহরে পরিণত হয়েছে। ১৯৬১ সালে সিডিএর করা মাস্টারপ্ল্যানে চট্টগ্রাম শহরে কয়টি খাল আছে এবং কোনটির গভীরতা কত ফুট, কোন খাল দিয়ে কী পরিমাণ পানি প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে তা সবিস্তারে উল্লেখ আছে। চাক্তাই খালের আরএস খতিয়ান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই খালে ২৮ একরের মতো পোতাশ্রয় ছিল। যেগুলোতে বন্যা বা বৃষ্টির পানি জমা হতো। এখন সেসব পোতাশ্রয় দখল করে গড়ে উঠেছে মানুষের বাড়িঘর। তাহলে পানি যাবে কোথায়? জলাবদ্ধতা নিরসন কীভাবে হবে? চাক্তাই এবং রাজাখালী খালের মোহনায় সিডিএ যে স্লুইস গেইট দিয়েছে সেই এলাকাটি ভরাট হয়ে গেছে। চাক্তাই খালে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট পোতাশ্রয় এবং কর্ণফুলী নদীর জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করলে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও সুফল মিলবে না। চট্টগ্রাম শহর দিন দিন আরও শ্রীহীন হয়ে পড়বে।

image

অর্থনীতির স্বার্থে বিকেন্দ্রীকরণের বিকল্প নেই

মোস্তফা মামুন

এই গোলটেবিল বৈঠকে অনেক রিসোর্র্স পারসন অংশ নিয়েছেন। তারা যুক্তি দিয়ে চট্টগ্রামের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন। পরিকল্পিতভাবে চট্টগ্রামকে সুন্দর নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে বক্তারা পরামর্শ দিয়েছেন। আমি চট্টলপ্রেমী মানুষ হিসেবে তাদের ধন্যবাদ জানাই। আমি সিলেটের মানুষ। অনেকেই মনে করেন সৌন্দর্যের দিক থেকে সিলেট এক নম্বর। কিন্তু চট্টগ্রামের মানুষ সেটি এখন কেড়ে নিচ্ছেন। বাস্তবেও তাই। সিলেটে পাহাড় আছে। চট্টগ্রামে পাহাড় আছে, নদী আছে, সাগর আছে, গরুর মাংস আছে। যেটা আমাদের সবার প্রিয় খাবার। চট্টগ্রামের মেজবান সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। ঢাকায় এখন মেজবানি মাংস পরিবেশন ছাড়া সামাজিক অনুষ্ঠান খুব একটা হয় না। এটা জাতীয় স্মার্টনেসের অংশ হয়ে গেছে। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, হাটহাজারী থেকে বাবুর্চি হায়ার করে ঢাকায় নিয়ে মেজবানি মাংস রান্না করা হয়। আমরা খেয়াল করলাম না, যেই চট্টগ্রামের মেজবান ছড়িয়ে গেল সারা দেশে সেই চট্টগ্রামের বন্দর দিয়েই দেশের সিংহভাগ আমদানি-রপ্তানি হয়। আমরা চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী বলছি। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। বাণিজ্যিক রাজধানীর মর্যাদা হারাল চট্টগ্রাম। সবকিছু পরিচালিত হচ্ছে ঢাকা থেকে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে বাণিজ্যিক রাজধানীকে যেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় চট্টগ্রামকে সেভাবে দেওয়া হচ্ছে না। চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক জীবনমান উন্নয়নে নিয়ে আমরা কিছুই করতে পারলাম না। চট্টগ্রামে আছে সরকারি-বেসরকারি ৫৯টি ব্যাংক। ব্যাংকগুলোতে প্রতিদিন শত-কোটি টাকা লেনদেন হয়। অথচ একটি ব্যাংকের সদর দপ্তর চট্টগ্রামে নেই। চট্টগ্রামের অতীত বঞ্চনা ও আগামীর সম্ভাবনা নিয়ে কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশ রূপান্তর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই ধরনের গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজনের। যেভাব খাল-নদী দখল হচ্ছে, পাহাড় উজাড় করা হচ্ছে চট্টগ্রাম শহরকে ভালোবাসার অভাব থেকে এসব কর্মকান্ড হচ্ছে। ঢাকায় যেমন দেশের বিভিন্ন জায়গার মানুষ বসবাস করে চট্টগ্রামেও তাই। কিন্তু কেউ এটাকে নিজের মনে করে না। এই দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের বদলাতে হবে। দেশ রূপান্তর মানুষের কথা বলে। সব সেক্টরের মানুষকেই আমরা সঙ্গে রাখতে চাই। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী চট্টগ্রামকে নিয়ে আমরা বিশেষভাবে চিন্তা করি। আর এই চিন্তা  থেকেই চট্টগ্রামের সমস্যা নিয়ে আমাদের এ আয়োজন। আমরা আশা করি, দেশ রূপান্তর চট্টগ্রামকে ভালোবাসবে, চট্টগ্রামবাসীও দেশ রূপান্তরকে ভালোবাসবে। দেশ রূপান্তর ও চট্টগ্রাম সব সময় আমরা একে অন্যের পাশে থাকব। চট্টগ্রামকে ভালোবাসব, দেশ রূপান্তরের সঙ্গে থাকব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত