শেষদিনে ব্যাংকগুলোতে টাকা তোলার হিড়িক

আপডেট : ১৪ জুন ২০২৪, ০১:৫০ এএম

আসন্ন ঈদুল আজহার আগে গতকাল (বৃহস্পতিবার) ছিল ব্যাংকের শেষ কর্মদিবস। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যাংকগুলোতে গ্রাহকের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। প্রতিটি শাখায় দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করেছেন গ্রাহক। নগদ টাকা উত্তোলনের চাপে সেবা দিতে হিমশিম খান ব্যাংক কর্মকর্তারা। রাজধানীর ব্যাংকপাড়া মতিঝিল ও দিলকুশা, দৈনিক বাংলা, পল্টনসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যাংকের শাখাগুলো ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

মতিঝিলে সোনালী ব্যাংকের লোকাল অফিসে দেখা যায়, সকাল থেকেই ব্যাংকের শাখাগুলোর ক্যাশ ও জমা কাউন্টারের সামনে গ্রাহকের লম্বা লাইন। নতুন টাকা নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন চালানপত্র, ডিপোজিটসহ বিভিন্ন সেবার বিল জমা দেওয়ার লাইনও লক্ষ করা গেছে। অতিরিক্ত গ্রাহকের চাপে ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টারের কর্মকর্তাদের বেশ চাপ সামলাতে হচ্ছে। তবে টাকা জমার চেয়ে উত্তোলন বেশি ছিল। জমাও ছিল তবে তাদের সংখ্যা হাতেগোনা। টাকা তুলেতে আসা সোনালী ব্যাংকের গ্রাহক মেহেদি জানান, তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩০ জন কর্মরত আছেন। তাদের আজ বেতন-বোনাস দিতে হবে। এজন্য টাকা উত্তোলনের জন্য এসেছেন। জাহিদ নামে আরেকজন বলেন, টাকা তুলতে লাইনে দাঁড়িয়েছি আধাঘণ্টা হবে। আজ শেষ অফিস। অন্যান্য দিনের থেকে আজ অনেক বেশি ভিড়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মতিঝিল সোনালী ব্যাংকের লোকাল অফিসের জেনারেল ম্যানেজার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসে সবসময় ভিড় হয়। মানুষজন ঈদ উদযাপন করতে গ্রামে যাবে কোরবানির পশু কিনবে তাই টাকা উঠাচ্ছেন। আবার কারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন ভাতা দিতেও নগদ অর্থ তুলছেন।’ স্বাভাবিক দিনের সঙ্গে তুলনা করলে লেনদেনের পরিমাণ কেমন ও নগদ টাকার সংকট আছে কি না জানতে চাইলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটির এ কর্মকর্তা বলেন, এ সপ্তাহে অন্যান্য সময়ের তুলনায় ৩০ শতাংশ লেনদেন বেড়েছে। এখানে জমার চেয়ে উত্তোলনের পরিমাণই বেশি। তবে নগদ টাকার সংকট নেই; গ্রাহকের চাহিদা মতো টাকা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গ্রাহক বুথ থেকে চাহিদা অনুযায়ী টাকা তুলতে পারবেন বলে জানান লোকাল অফিসের এ জেনারেল ম্যানেজার।

একই অবস্থা দেখা যায় অন্যান্য ব্যাংকের শাখাগুলোতেও। ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় গিয়েও দেখা যায় গ্রাহকের অনেক ভিড় রয়েছে। টাকা তুলতে আসা আল আমিন নামে একজন জানান, আজ শেষ দিন তাই ভিড় বেশি। দুপুর ১২টার দিকে ব্যাংকে এসেছি। টাকা উঠাতে ঘণ্টার বেশি মতো সময় লেগে গেল। শাখাটির ক্যাশ কাউন্টারে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা জানান, ঈদের আগে আজ শেষ দিনের অফিস। তৈরি পোশাকসহ সব ধরনের কল-কারখানা আজ বন্ধ হয়ে যাবে। মানুষ ঈদ করতে বাড়ি যাবে। তাই সকাল থেকেই গ্রাহকের অনেক চাপ। সাধারণ দিনের চেয়ে তিন চারগুণ বেশি লেনদেন হচ্ছে।

এদিকে শুক্র-শনিবার সপ্তাহিক ও রবিবার ঈদের বন্ধসহ ১৪, ১৫ ও ১৬ জুন টানা তিনদিন ঈদের ছুটি। তৈরি পোশাক শ্রমিকদের বেতন, ঈদ বোনাস, ভাতা পরিশোধ এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিশোধের সুবিধার্থে শিল্পাঞ্চলে ১৬ জুন পর্যন্ত ব্যাংক খোলা রাখতে বলা হয়েছে। ওই তিনদিন সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোতে লেনদেন চলবে নির্ধারিত সময়ে। এছাড়াও ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরী এবং নাটোরের সিংড়া পৌরসভায় কোরবানির পশুর হাটের কাছাকাছি ব্যাংকের শাখা ও উপ-শাখায় ১৪ জুন থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত তিনদিন রাত ১০টা পর্যন্ত ব্যাংকিং কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত