ফখরুল বললেন

তারেককে গ্রেপ্তারের হুমকি গভীর চক্রান্ত

আপডেট : ১৪ জুন ২০২৪, ০২:৪১ এএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এ সরকার জনপীড়ক ও অত্যাচারী; তারা বিচারশূন্য প্রশাসন ও আইন বিভাগ দিয়ে গণতন্ত্রকামী নেতাকর্মীদের নিষ্ঠুরভাবে দমন করছে। যখন সরকারের ঘনিষ্ঠজনদের দুর্নীতি প্রকাশ পাচ্ছে, দুর্নীতির মহামারীর কথা জানা যাচ্ছে, ক্ষমতা-সংশ্লিষ্ট বড় কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কথা ভাইরাল হচ্ছে, তখন তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারের হুমকি গভীর চক্রান্তেরই অংশ। জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতীক এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা তারেক রহমানকে গ্রেপ্তারের হুমকি জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল।’

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, ‘জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশ্নোত্তর পর্বে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানসহ ১৫ জন সাজাপ্রাপ্ত আসামির পলাতক থাকার যে তথ্য সংসদে দিয়েছেন, তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ২১ আগস্টের বোমা হামলা মামলায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তারেক রহমান ও বিএনপির কয়েকজন নেতাকে যুক্ত করা হয়েছে। এটি তারেক রহমানের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্র। জাতীয়তাবাদী নেতৃত্বকে দুর্বল করতে এবং গণতন্ত্রকে বিপন্ন করতে আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর তারেক রহমানের নাম চার্জশিটে ঢোকানো হয় অবসরপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তাকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করার মাধ্যমে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে তাদের আন্দোলনের ফসল এক-এগারো সরকারের সময় দুই দফা তদন্তপ্রসূত চার্জশিটে তারেক রহমানের নাম না থাকার পরও তাকে জড়িত করা ডামি আওয়ামী সরকারের আক্রোশেরই বহিঃপ্রকাশ। রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বকে ও নাগরিক স্বাধীনতাকে বর্তমান দশায় উপনীত করার জন্যই তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলায় জড়িত করে এবং বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করে সাজা দেওয়া হয়েছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। বাংলাদেশে আইনের শাসন নেই। এ দেশে সত্যের জন্য, সম্মানের জন্য, আত্মমর্যাদার জন্য সুশীলসমাজের টিকে থাকাকে অসম্ভব করে তোলা হয়েছে। স্বার্থান্ধতা, ঔদ্ধত্য, অসহিষ্ণুতা ও মহা-দুর্নীতিকে আড়ালে রেখে সরকার তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছে। সুশাসন ও ন্যায়বিচার থাকলে লুটেরা, টাকা পাচারকারী ও ক্ষমতাঘনিষ্ঠ ঋণখেলাপিদের শাস্তি হতো। অথচ তারা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় তাদের (পলাতকদের) নাকি আওয়ামী লীগ গ্রেপ্তারের চেষ্টা করবে। বোমা হামলায় তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতাদের ফরমায়েশি রায়ে সাজা দেওয়া হয়েছে এ কথা সর্বজনবিদিত।’

তিনি বলেন, ‘অহেতুক ক্রোধ ডামি সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। ভারত থেকে তিনি শক্তি সঞ্চয় করে এসেছেন মনে হচ্ছে। তিনি যে শ্লাঘাবোধ করছেন, তার মধ্যে ভারতের আশ্রয় লক্ষ করা যাচ্ছে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিহিংসামূলক বক্তব্য প্রায়ই শোনা যায়। যখন তিনি সম্পূর্ণরূপে দিশাহারা হয়ে পড়েন, তখনই তার ক্রোধ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।’

সংবাদ সম্মেলনে দলের নেতা হাবিব উন নবী খান সোহেল, সরাফত আলী সফু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত