একদিন পরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত আদায়ের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এশিয়া উপ-মহাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদগাহ মিনার গোর-এ শহীদ বড় ময়দান কর্তৃপক্ষ। শেষ মুহূর্তে মাঠের শুকনো জায়গা ভেজানোর কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস। আর শ্রমিকেরা কাজ করছেন নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে মুসল্লিদের দাঁড়ানোর কাতারের দাগ। জামাতে অংশ নিতে আশপাশের জেলা থেকে আসা মুসল্লিদের জন্য দুটি স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ।
আজ শনিবার সরেজমিন দেখা যায়, সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি মাঠে মাটি ভরাট, ধোয়ামোছা, পানি ছেটানোসহ বিভিন্ন ধরনের সংস্কারমূলক কার্যক্রম চলছে। মুসল্লিদের নিরাপত্তা নির্বিঘ্নে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। সুপেয় পানি ও অজুখানার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জানা গেছে, ঈদগাহ মিনার জুড়ে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। র্যাব, পুলিশ, আনসার সদ্যসরা ছাড়াও স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করবেন। মাঠের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠে প্রবেশের জন্য মোট ১৯টি গেট তৈরি করা হয়েছে। এসব গেটে মেটাল ডিরেক্টর দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এ ছাড়া মুসল্লিদের অজুর করার সুবিধার্থে অজুখানা ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের নামাজ সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।
শহরের মাতা সাগর এলাকার বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম জানান, আমাদের জেলায় এত বড় ইদগাহ মিনার আর এত বড় ঈদ জামাত হয় এটা আমাদের জন্য অবশ্যই গর্বের বিষয়। গোর-এ শহীদ মাঠ নিয়ে যখন আমাদের সামনে প্রসংশা করে তখন অনেক ভালো লাগে। বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে মুসল্লিরা ঈদের নামাজ পড়তে আসেন, অনেকের সাথে দেখা সাক্ষাৎ হয়। আমরা আশা করি আগামীতে বাইরের দেশ থেকেও এই মাঠে নামাজ পড়তে আসবে।
আকাশ ইসলাম নামে এক মুসল্লি বলেন, এখানে এক সাথে লাখ লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। আশপাশের জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মুসল্লিরা এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন। বাইরে থাকা আসা মুসল্লিদের জন্য দুটি স্পেশাল শাটল ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটা অনেক ভালো উদ্যোগ। এতে করে বাইরে থেকে আসা মুসল্লিরা সহজে যাতায়াত করতে পারবেন। একসাথে যত বেশি মানুষ নামাজ আদায় করবে তত বেশি সওয়াব পাওয়া যায়।
এদিকে শনিবার দুপুরে ঈদগাহ পরিদর্শন করেছেন এশিয়া উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় মিনার ও দেশের সবচেয়ে বড় ঈদগাহ মাঠের উপদেষ্টা জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতরে এই মাঠে একসাথে ৬ লক্ষাধিক মানুষ নামাজ আদায় করেছিলেন। গত ঈদুল আজহা থেকে আশপাশের জেলা ও উপজেলাগুলো থেকে আগত মুসল্লিদের সুবিধার্থে দুটি স্পেশাল ট্রেনে ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এবার পবিত্র ঈদুল আজহায়ও দুটি স্পেশাল ট্রেন চলাচল করবে। বিশাল এই জামাতে দিনাজপুর ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মসুল্লিরা যেন নামাজে অংশ নিতে পারেন এ জন্য প্রচার-প্রচারণা ও নিরাপত্তার বিষয়ে বরাবরের মতো জোর দেওয়া হয়েছে।
পদ্মা সেতুতে প্রায় ৫ কোটি টাকা টোল আদায়
রাজনৈতিক দলে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্যের বিধান বাস্তবায়ন দাবি
ঈদে সিনেমা মুক্তি, প্রচারণায় নেই নায়িকা পূজা