ঈদুল-আজহা বা কুরবানির ঈদ সমাগত। ঈদ অনেক প্রাণচাঞ্চল্য নিয়ে আসে। ঈদে নতুন পোশাক পরিধান করা, ঈদের নামাজ পড়া, ভালো ভালো খাবার খাওয়া, ঈদের সময় পশু কোরবানি , আত্মীয় স্বজনদের সাথে সাক্ষাৎ- কুসল বিনিময় করা এক আন্যরকম অনুভূতি।
ঈদের ছুটিতে বাড়িতে যাওয়া বাবা মা আত্মীয় স্বজনের সাথে ঈদ উদযাপন করা কতইনা আনন্দের। আবার অনেকে ঈদ দেশের বাহিরে অবস্থানকারী স্বজনের সাথে করেন।
ভ্রমণে পূর্বে অবশ্যই সুন্দর একটা পরিকল্পনা থাকা চাই। প্রয়োজনীয় ঔষধ সাথে নিতে হবে। ভ্রমণের সময় আরামদায়ক ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করা উত্তম।
যারা দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগেন, যেমন—ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি বা লিভারের রোগী, হার্টের বা বাত ব্যথার রোগী, এমনকি যাদের হাঁপানি বা শ্বাসজনিত রোগ আছে, তারা তাদের প্রয়োজনীয় ওষুধ নিতে ভুলবেন না। সঙ্গে নেওয়া যেতে পারে মশা নিরোধক ওডোমোস। সঙ্গে বাচ্চা থাকলে তাদের স্বাস্থ্যের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।
ঈদের এ সময়টাতে গরম আবহাওয়ায় বৃষ্টি অনেকটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে। এরপরও সিজনাল ফ্লু হচ্ছে যা মাথায় রাখতে হবে। জ্বর-ঠান্ডা, মাথা ব্যথা ইত্যাদি সমস্যা হওয়াটা স্বাভাবিক। এ ছাড়া বমি, পেট খারাপও হতে পারে। জ্বর ঠান্ডা, বমি ও পাতলা পায়খানার ওষুধ এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে অ্যান্টিবায়োটিক সঙ্গে রাখা জরুরি।
ভ্রমণে যাওয়ার পূর্বে অবশ্যই অতিরিক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। নিজের ঘরের তৈরি খাবার এবং প্রয়োজনীয় বিশুদ্ধ পানি সঙ্গে রাখতে পারেন। কারণ বাইরের খাবার খেয়ে যে কোনো সময় অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন। অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার বা পানীয় পান করবেন না।
ভ্রমণের পূর্বে পর্যাপ্ত ঘুমানোর প্রয়োজন। প্রায়ই যানজটের জন্য দীর্ঘক্ষণ রাস্তাতেই কেটে যায়। এমতাবস্থায় শরীরে যথেষ্ট পরিমাণে শক্তির জোগানের জন্য ভ্রমণের আগে পর্যাপ্ত ঘুম দরকার।
দীর্ঘক্ষণ একস্থানে বসে থাকলে রক্ত চলাচল কমে যায়। তাই সম্ভব হলে যাত্রা বিরতিতে কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করে নিন। ট্রাভেল করার সময় দীর্ঘসময় বসা অবস্থায় থাকলে পায়ের ব্যায়াম করা উচিত। এতে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।
সবার ভ্রমণ সুন্দর ও নিরাপদ হোক। ঈদ উদযাপন আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য ও সুন্দর হোক।
ঈদ মোবারক।
সহযোগী অধ্যাপক
হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে
