ছোট পর্দার ‘কিং অব রোমান্স’ বলা হয় জিয়াউল ফারুক অপূর্বকে। এবার ঈদেও পর্দা মাতাতে নাটক ও ওটিটি দুই প্ল্যাটফর্মেই হাজির হচ্ছেন তিনি। এর মধ্যে উন্মুক্ত হয়েছে তার নতুন সিরিজ ‘গোলাম মামুন’, যেখানে তিনি দেখা দিয়েছেন অ্যাকশন রূপে। নাটক, সিরিজ এবং ঈদ ব্যস্ততা নিয়ে এই তারকার সঙ্গে কথা বলেছেন ইমরুল নূর
‘গোলাম মামুন’-এ সাড়া
ফোন রিসিভ করার পর ‘কেমন আছেন?’ প্রশ্ন করার পর অপূর্বর ওপাশ থেকে উত্তর এলো, ‘সুপার, একদম সুপার আছি’। উচ্ছ্বাস নিয়ে বললেন, ভীষণ আনন্দিত আমি। একে তো বিশ্বকাপ খেলা, তার মধ্যে সবার এখন ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার তাড়া; এর মধ্যেই অনেকে সিরিজটি দেখেছেন এবং তাদের কাছ থেকে যে পরিমাণে ইতিবাচক সাড়া এবং প্রশংসা পাচ্ছি, সেটা দেখে ভালো না থেকে উপায় নেই। দেশে এবং দেশের বাইরে থেকে ভূয়সী প্রশংসা পাচ্ছি। এক কথায় অভাবনীয়। সবাই এটি উপভোগ করছেন, আমি সত্যিই ভীষণ আনন্দিত, উচ্ছ্বসিত। শুধু আমি একা নই, সিরিজটির প্রত্যেকটি অভিনয়শিল্পী কাজটির জন্য অনেক পরিশ্রম করেছেন এবং সবাই সেটার ফল পাচ্ছেন। সব জায়গায় সবাইকে নিয়ে প্রশংসা দেখছি। এটা দারুণ। মনে হচ্ছে, সবার পরিশ্রম সার্থক হলো। শাহীন ভাইয়া (শিহাব শাহীন) সবাইকে দৌড়ের ওপর রেখেছে, উঠতে দেয়নি। কারণ, যারাই দেখেছেন সবাই বলছেন, প্রথম পর্ব থেকেই তারা গল্পে ডুবে গেছেন এবং দম বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা, এরপর কী হবে! এটাই আসলে শাহীন ভাইয়ার ম্যাজিক।
অ্যাকশন লুকে চ্যালেঞ্জ
ছোট পর্দার ‘কিং অব রোমান্স’ হলেও প্রায় সব ধরনের চরিত্রেই অপূর্ব নিজেকে মানানসই করে নেন। এর আগেও তিনি অ্যাকশন রূপে হাজির হয়েছেন কিন্তু এই সিরিজের জন্য তাকে আলাদা করে প্রস্তুতি নিতে হয়েছে বলে জানান। তিনি বললেন, ‘এখানে চ্যালেঞ্জটা শুধু আমি একা ফেস করেছি, এমনটা বললে ভুল বলা হবে। কারণ এটার পেছনে আমাদের গোটা টিম কাজ করেছে। সুতরাং চ্যালেঞ্জটা তাদের বেশি ছিল। আমার থেকে সেরাটা বের করার জন্য পুরো টিম চ্যালেঞ্জ ফেস করেছে। তাদের চ্যালেঞ্জের কাছে আমারটা কিছুই না। নিজের বিষয়ে বলতে ভালো লাগে না আমার। তারা আমার পেছনে সময় দিয়েছে, পরিশ্রম করেছে, যার কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। আমার কাছে তারা সফল। যথেষ্ট সময় পেয়েছি পরিচালক, অ্যাকশন ডিরেক্টরের কাছ থেকে, যার কারণে আমি সেটা করতে পেরেছি। তা ছাড়া সহকর্মীরা প্রতিটি মুহূর্তে সাপোর্ট করেছেন বলেই এটা করতে পেরেছি। তাই পুরোটা ক্রেডিট আসলে আমার টিমের। চেজিং দৃশ্য করতে গিয়ে আমি ইনজুরড হয়ে গিয়েছিলাম। সে সময় আমি যখন শট দিতে গিয়ে বারবার পড়ে যাচ্ছিলাম তখন বর্ষণ (ইমতিয়াজ বর্ষণ) আমাকে বারবারই টেনে তুলছিলেন, দাঁড় করাচ্ছিলেন, কেয়ার করছিলেন। এই যে আমার প্রতি সহকর্মীদের এই সুইটনেস, কেয়ার, সাহস জোগানো এগুলোই আমার কাছে অনেক বড় ব্যাপার, সেগুলোর কাছে আমার চ্যালেঞ্জ কিছুই না।
অপূর্ব-শিহাব শাহীন জুটি
শাহীন ভাইয়ার সঙ্গে আমার বিশ বছরেরও বেশি সময়ের কাজের অভিজ্ঞতা। অনেক বছর একসঙ্গে কাজ করার ফলে আমাদের মধ্যে আলাদা একটা বন্ডিং, আন্ডারস্ট্যান্ডিং তৈরি হয়েছে। যার কারণে আমরা দুজনেই দুজনের পালসটা খুব ভালো বুঝি। চোখের ইশারায়ও বুঝে যাই তিনি আমার কাছে কী চাচ্ছেন বা আমি কী চাচ্ছি তার কাছে! সেই বন্ডিং, আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের কারণে তার সঙ্গে কাজ করে
আমি খুব আরাম পাই। তিনি তো অসাধারণ একজন নির্মাতা, যিনি তার প্রতিটি কাজেই নতুনত্ব এবং তার নৈপুণ্যতার ছাপ রাখেন। এটাই তার বিশেষ গুণ বা ম্যাজিক। তার সঙ্গে কাজ করতে গিয়েছি কিন্তু নতুন কিছু পাইনি, নতুন কিছু শিখিনি এই বিশ বছরে এমনটা কখনো হয়নি। আমি তাকে ওই সম্মানটুকু করি, তিনি আমাকে সেই স্নেহটুকু করেন এবং সেটা সব সময়ই রাখতে চাই। আমাদের মধ্যে এই আন্তরিকতাগুলোর কারণেই মনে হয় আমাদের কাজগুলো ভালো হয়। হি ইজ জাস্ট অ্যা ম্যাজিশিয়ান।
ঈদনাটক
ঈদের জন্য দুটি নাটকের শুটিং করেছি। একটা এস আর মজুমদারের ‘ধূসর’। এখানে জাকিয়া বারি মম, তানজিকা আমি অভিনয় করেছেন। এটা আসবে। আর জাকারিয়া সৌখিনের একটা নাটকের শুটিং করেছি কিন্তু এটার অল্প কিছু কাজ বাকি রয়েছে, যদি এর মধ্যে শেষ করে ফেলতে পারি, তাহলে হয়তো সেটাও আসবে, নয়তো একটাই।
ঈদের পরিকল্পনা
ঈদের পরিকল্পনা আর দশটা সাধারণ মানুষের মতোই। আমি নিজেকে কখনো অন্য দশজনের চেয়ে আলাদা করে দেখি না। এখনো গরু কেনা হয়নি। একটু পর (গতকাল বিকেলে) গরুর হাটে যাব। যখন আব্বু ছিল তখন সবকিছু আব্বুই দেখাশোনা করতেন কিন্তু এখন তো আর তিনি নেই। আমাকেই সবকিছু দেখতে হচ্ছে। যেটাই করতে যাচ্ছি সবকিছুতে বারবার আব্বুর কথা ভীষণ মনে পড়ছে। খুব মিস করছি তাকে। কোরবানি ঈদ নিয়ে আব্বুর এক্সাইটমেন্ট সব সময় বেশি থাকত, যার কারণে এবার আরও বেশি মনে পড়ছে তাকে। ঈদের দিন মাংস কাটাকাটি করা, তদারকি করা, আত্মীয়স্বজনের মধ্যে মাংস বিলানো সবকিছু প্রতিবারই নিজে তদারকি করি, এবারও তাই করব। আমার স্ত্রী দেশে এসেছেন। আয়াশ (অপূর্বর সন্তান) আছে; ঈদের দু-একটা দিন পরিবারকেই সময় দেব, এরপর আবার কাজে নেমে পড়ব।
ঈদের প্রিয় পোশাক, খাবার
পাঞ্জাবি আমার ভীষণ পছন্দ। ঈদে সব সময় সাদা পাঞ্জাবি পরা হয় আমার। এবারও তাই। আর প্রিয় খাবারের মধ্যে রয়েছে পায়েশ, মাংস। কোরবানিতে ঝাল মাংস বেশ পছন্দ, ওটাই খাওয়া হয়। আব্বু, আম্মুর হাতের রান্না আমার ভীষণ পছন্দ। আম্মু কাঁচা মসলা দিয়ে মাংস রান্না করতেন, সেটা খুবই পছন্দ আমার। তা ছাড়া আব্বু পায়া, নিহারি এগুলো রান্না করতেন যেটা অনেক পছন্দ। আব্বু তো নেই আর আম্মু এখন অসুস্থ, নিজে রান্না করতে পারেন না এখন। সেগুলো এখন কপালে নেই আর কি!
