সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর

যমুনায় শতাধিক বাড়ি বিলীন, হুমকিতে স্কুল-মাদ্রাসা

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৪, ০১:২৯ এএম

মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে যমুনার ভাঙনে শতাধিক বসতবাড়ি ও আবাদি জমি বিলীন হয়ে গেছে। নদীর পশ্চিম পাড়ে বাচামারা ইউনিয়নের বাগসাস্টা, চরভারাঙ্গা, সুবুদ্ধিয়া ও পাচুরিয়া; বাঘুটিয়া ইউনিয়নের পারুরিয়া বাজার, বাঘুটিয়া বাজার, চরকালীকাপুর, কাশিদারামপুর ও ব্রামদি এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাই স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ ও বাজার। যে কোনো সময় এগুলো নদীতে বিলীন হতে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় দুই কোটি টাকার জিওব্যাগ কোনো কাজেই আসছে না। দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে নদী পাড়ের মানুষগুলোর।

সরেজমিনে ভাঙনপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হঠাৎ করেই এসব এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। দুদিন আগেও যাদের ঘরবাড়ি জায়গা-জমি সবকিছু ছিল, এখন তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। যমুনা নদীর চরে অন্যের জমিতে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। স্থানীয়রা তাদের ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাদি জমি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ভাঙনের শিকার ঠান্ডু সরদার, সোনাই শেখ জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে যমুনা নদীর ভাঙন ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে। এতে প্রায় শতাধিক বাড়িঘর নদীতে চলে গেছে। এছাড়া একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরকালীকাপুর শুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা, বাঘুটিয়া আলিম মাদ্রাসা, ৪ তলা বিশিষ্ট ১টি ভবন ও দুই তলা বিশিষ্ট ১টি ভবন ভাঙনের মুখে রয়েছে। যে কোনো সময় এগুলো নদীতে চলে যেতে পারে।

বাচামারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ সরকার বলেন, ‘বাগসাস্টা, চরভারাঙ্গা, সুবুদ্ধিয়া, পাচুরিয়া, বাঘুটিয়ার পারুরিয়া এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে কয়েকটি স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ ও বাজার। দ্রুত এখানে বালিভর্তি জিও ব্যাগ ড্যাম্পিং করা প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মঈন উদ্দিন বলেন, যমুনা নদীর ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। বাজেট চেয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিয়ান নুরেন বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত