যুক্তরাষ্ট্র-চীন-রাশিয়ায় কোরবানির রীতিনীতি

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৪, ০৬:২৩ পিএম

ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত ঈদুল আজহা। মুসমানদের এই উৎসব যেন ত্যাগেরই আরেক নাম; যা কোরবানির ঈদ নামেও পরিচিত। বিশ্বজুড়ে উদযাপিত ইসলাম সম্প্রদায়ের অন্যতম বিশেষ উৎসব এটি। বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেসব দেশে মুসলমান ধর্মের মানুষ আছেন তারা এই উৎসব উদযাপন করে থাকেন। চলুন দেখে নেওয়া যাক বিশ্বের প্রধান ৩ পরাশক্তি দেশে ঈদুল আজহার রীতিনীতি।

যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে খোলা মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত হয় জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে। নিউইয়র্ক সিটিতেই ২৫২টি মসজিদ রয়েছে। সব কটিতেই ঈদের জামাত হয়। ঈদের জামাতের পর শুরু হয় কোরবানি। নির্দিষ্ট গ্রোসারিতে অথবা পশুর খামারেই সাধারণত কোরবানি করা হয়ে থাকে। গ্রোসারিতে খোলা ময়দানে নিজ হাতে কোরবানির আমেজ পাওয়া যায় না। তাই অনেকে ঈদ জামাত শেষে কোরবানি করার জন্য পশুর খামারে চলে যান। সেখান থেকে পছন্দমতো পশু কিনে নিজ হাতে কোরবানি দেন। খামার ও গ্রোসারি ছাড়াও বিভিন্ন শহরে খোলা ময়দানে কোরবানির অনুমতি দেওয়া হয়। নিউ জার্সি, মেরিল্যান্ড, মিশিগানসহ কিছু এলাকায় খোলা ময়দানে কোরবানির সুযোগ থাকে।

চীন

চীনের মুসলমানদের কাছে ঈদুল আজহা ‘ঈদ আল গোরবান’ বা ‘ঈদ আল কোরবান’ নামে পরিচিত। এ উপলক্ষে বাসাবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। মসজিদগুলো পূর্ণ হয়ে এর সংলগ্ন মাঠ বা খোলা জায়গাগুলোও লোকারণ্য হয়ে যায়। ঈদের জামাত শেষে বাড়িতে বাড়িতে ভেড়া, উট বা গরু কোরবানি করেন চীনা মুসলমানরা। চীনারা সাধারণত কোরবানির গোশতকে তিন ভাগে ভাগ করে এর এক ভাগ নিজেদের জন্য রেখে বাকি দুই ভাগ আত্মীয়-স্বজন ও গরিবদের মধ্যে বণ্টন করে দেন। মসজিদকেন্দ্রিকও কোরবানি করা হয় কোথাও কোথাও।

রাশিয়া

রুশ ভাষায় ঈদুল আজহাকে বলা হয় ‘কোরবান বাইরাম’। আয়তনে পৃথিবীর বৃহত্তম এ দেশের মোট জনসংখ্যা কমলেও ব্যাপকভাবে বাড়ছে মুসলমানের সংখ্যা। মোট দুই কোটি মুসলমানের ২০ লাখই বাস করেন মস্কোতে। রাজধানী মস্কোতে ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে পালিত হয় ঈদুল আজহা। রাশিয়ার মুসলিম অধ্যুষিত তিনটি প্রদেশে ঈদ উপলক্ষে একদিনের সরকারি ছুটি থাকে। কয়েক লাখ মুসলমান সেখানে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টিভি ‘চ্যানেল রাশিয়া’ এর সরাসরি সম্প্রচার করে। কোরবানির জন্য অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে আগেই বুকিং দিয়ে রাখতে হয়। ঈদের জামাতের পর রাশিয়ার মুসলমানরা কোরবানির জন্য নগরের বাইরের নির্দিষ্ট স্থান অথবা খামারে গিয়ে কোরবানি করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত