কোরআন হাদিসে কোরবানির ফজিলত

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৪, ০৮:০৯ এএম

যেসব আমলের মাধ্যমে খুব সহজে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায় তার অন্যতম একটি কোরবানি। কোরবানি ইসলামের অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি বিধান। কোরবানি ইসলামের অন্যতম নিদর্শন। কোরবানির বিধান শুধু এই উম্মতের সঙ্গেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সকল নবী ও রাসুলদের শরিয়তে কোরবানি ছিল। যদিও বিধানগত ও পদ্ধতিগত দিক থেকে অনেকগুলো পার্থক্য ছিল।

সামর্থ্যবান প্রতিটি নারী-পুরুষের ওপর কোরবানি ওয়াজিব। কোরআন ও হাদিসে কোরবানির গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে অনেক আয়াত ও হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনা করা হলো।

কোরআনে কোরবানি প্রসঙ্গ : কোরবানি সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কোরবানির নিয়ম করে দিয়েছি, যাতে আল্লাহ তাদেরকে যে চতুষ্পদ জন্তুসমূহ দিয়েছেন তাতে তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে। তোমাদের মাবুদ একই মাবুদ। সুতরাং তোমরা তারাই আনুগত্য করবে আর সুসংবাদ দাও বিনীতদেরকে।’ (সুরা হজ ৩৪)

কোরবানির সূচনা যেভাবে হয়েছিল : পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তাদের সামনে আদমের দুই পুত্রের বৃত্তান্ত যথাযথভাবে পড়ে শোনান, যখন তাদের প্রত্যেকে একেকটি কোরবানি পেশ করেছিল এবং তাদের একজনের কোরবানি কবুল হয়েছিল, অন্যজনের কবুল হয়নি। সে (দ্বিতীয়জন প্রথমজনকে) বলল, আমি তোমাকে হত্যা করে ফেলব। প্রথমজন বলল, আল্লাহ তো মুত্তাকিদের পক্ষ হতে কোরবানি কবুল করেন।’ (সুরা মায়িদা ২৭)

কোরবানির ইতিহাস : পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘অতঃপর সে পুত্র যখন ইব্রাহিমের সঙ্গে চলাফেরা করার উপযুক্ত হলো, তখন সে বলল, বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, তোমাকে জবাই করছি। এবার চিন্তা করে বলো, তোমার অভিমত কী। পুত্র বলল, হে পিতা! আপনাকে যার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে আপনি সেটাই করুন। ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে সবরকারীদের একজন পাবেন।’ (সুরা সাফফাত ১০২-১০৪)

কোরবানির উদ্দেশ্য : পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর কাছে তাদের গোশত পৌঁছে না আর তাদের রক্তও না, বরং তার কাছে তোমাদের তাকওয়াই পৌঁছে। এভাবেই তিনি এসব পশুকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করো, তিনি তোমাদেরকে হেদায়েত দান করেছেন বলে। যারা সুচারুরূপে সৎকর্ম করে তাদেরকে সুসংবাদ দাও।’ (সুরা হজ ৩৭)

কোরবানি একটি শ্রেষ্ঠ আমল : আয়শা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোরবানির দিনে আদম সন্তানগণ এমন কোনো কাজ করতে পারে না, যা আল্লাহর নিকট রক্ত প্রবাহিত করার (অর্থাৎ কুরবানী করা) চেয়ে বেশী প্রিয় হতে পারে। কোরবানির পশুর শিং, পশম, এদের ক্ষুরসহ কিয়ামতের দিন (কোরবানিদাতার নেকির পাল্লায়) এসে হাজির হবে। কোরবানির পশুর রক্ত মাটি স্পর্শ করার পূর্বেই আল্লাহর নিকট মর্যাদাকর স্থানে পৌঁছে যায়। তাই তোমরা সানন্দে কোরবানি করবে। (তিরমিজি)

মিল্লাতে ইব্রাহিমের সুন্নত : যায়েদ ইবনে আরকাম (রা.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবিরা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! এ কোরবানিটা কী? তিনি বললেন, তোমাদের পিতা ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নত। তারা আবার জিজ্ঞেস করলেন, এতে কি আমাদের জন্য সাওয়াব আছে, হে আল্লাহর রাসুল? তিনি বললেন, কোরবানির পশুর প্রত্যেকটি পশমের পরিবর্তে একটি করে প্রতিদান রয়েছে। সাহাবিরা আবার জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! বেশী পশমওয়ালা পশুদের ব্যাপারে কি হবে? তিনি বললেন, সেসবের ক্ষেত্রেও প্রতিটি পশমের পরিবর্তে একটি করে নেকি রয়েছে। (ইবনে মাজাহ)

সগিরা গুনাহ মাফ হয় : আবু সাইদ খুদরি (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ফাতিমা (রা.)-কে বললেন, তুমি তোমার কোরবানির জন্তু জবাইয়ের স্থানে উপস্থিত থাকো। কোরবানির পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তোমার অতীতের সব গুনাহ আল্লাহ ক্ষমা করবেন। ফাতিমা (রা.) বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! এই গুনাহ ক্ষমা হওয়ার বিষয়টি আমাদের জন্য বিশেষ, নাকি সব মুসলমানের জন্য? নবীজি বললেন, আমাদের ও সব মুসলমানের গুনাহ ক্ষমা করা হবে। (মুসতাদরাকে হাকিম)

জাহান্নামের প্রতিবন্ধক : আবদুল্লাহ ইবনে হাসান (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি খুশি মনে সওয়াবের আশায় কোরবানি করবে, ওই জবাইকৃত পশু কুরবানীদাতার জন্য জাহান্নামের প্রতিবন্ধক হবে। (আল মুজামুল কাবির)

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত