কোরবানির ২৬ লাখ পশু অবিক্রীত

আপডেট : ২০ জুন ২০২৪, ০১:১৩ এএম

বাংলাদেশে ঈদুল আজহা সামনে রেখে যেসব পশু লালনপালন করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে প্রায় ২৬ লাখ অবিক্রীত রয়ে গেছে। গতবারের চেয়ে এবার পশু কোরবানির সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও বাজারে সংকট তৈরি হয়নি। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।

সরকার দাবি করছে, দেশের ভেতরের পশু উৎপাদন দিয়ে কোরবানির চাহিদা মিটে গেছে। তবে মাংস ব্যবসায়ীদের দাবি, সীমান্ত পথে ভারত ও মিয়ানমার থেকে পশু দেশের ভেতরে আসার কারণে বাজারে সেটির ‘ইতিবাচক প্রভাব’ পড়েছে। অন্যদিকে, ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, অধিদপ্তরের হিসাবের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের চিত্রের মিল রয়েছে।

ঈদের আগে প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আবদুর রহমান জানিয়েছিলেন, দেশে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে। তিনি তখন ২৩ লাখ উদ্ধৃত্ত অর্থাৎ, অবিক্রীত থাকার কথা বললেও ঈদের পর দেখা যাচ্ছে অবিক্রীত পশুর সংখ্যা আরও কয়েক লাখ বেশি।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘এ বছর সারা দেশে ১ কোটি ৪ লাখ ৮ হাজার ৯১৮টি গবাদি পশু কোরবানি হয়েছে। গত বছর সারা দেশে কোরবানি করা গবাদি পশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৪১ হাজার ৮১২টি। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় এবার সাড়ে তিন লাখ বাড়তি কোরবানি হয়েছে।’

মাঠপর্যায় থেকে প্রাপ্ত তথ্য উদ্ধৃত করে অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘এ বছর সবচেয়ে বেশি পশু কোরবানি হয়েছে ঢাকা বিভাগে এবং সবচেয়ে কম হয়েছে ময়মনসিংহে। ঢাকা বিভাগে ২৫ লাখ ২৯ হাজার ১৮২টি এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ২০ লাখ ৫৭ হাজার ৫২০টি কোরবানি হয়েছে।’

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সম্প্রসারণ বিভাগের পরিচালক মো. শাহিনুর আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংগৃহীত তথ্যের বাইরেও কিছু কোরবানির পশু বিক্রি হয়ে থাকবে। অনেকে নিজেরা লালনপালন করেন, নিজেরা কোরবানি দিয়ে থাকেন। তারা এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত নন। সব মিলিয়ে, ঈদুল আজহা ঘিরে বাংলাদেশে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার অর্থনীতি দাঁড়িয়েছে।’

খামারিদের সংগঠন ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. ইমরান হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত দুবার প্রচুর সংখ্যায় গরু ফেরত গেছে। একটি-দুটি করে গরু ফিরিয়ে নেওয়া ব্যয়বহুল। তাই এবার অনেক গৃহস্থ ঢাকায় গরু আনেননি। কারণ, নির্ধারিত সময়ের পরও সেগুলো লালনপালন করা ব্যয়সাপেক্ষ। তাতে লোকসানের শঙ্কা বাড়ে। কারণ একটা সময়ের পর গরু আর বাড়ে না। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এবার মাসখানেক আগেই প্রায় ২৩ লাখ পশু অতিরিক্ত আছে জানানোর পর, ক্রেতারা একটু ব্যাকফুটে চলে যান।’

সরকারের দেওয়া উদ্বৃত্তের হিসাব নিয়ে সংশয় আছে বলে মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘যদি বাংলাদেশে ভারতীয় এবং মিয়ানমারের গরু না প্রবেশ করত, তাহলে সংকট দেখা দিত। কারণ তার মতে, বাংলাদেশ এখনো গবাদি পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। তবে যারা ঢাকা বা চট্টগ্রামে পশু নিয়ে আসেননি, তারা স্থানীয় বাজারে নিয়ে গেছেন। সেখানে বিক্রি না হলে বাসায় ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন। বড় শহর থেকে ফেরত না গেলেও স্থানীয় পর্যায় অবিক্রীত পশুর সংখ্যা কম নয়।’ সীমান্ত দিয়ে এবার প্রায় ৩০ লাখ গরু বাংলাদেশে এসেছে বলেও দাবি করেন রবিউল আলম।’

সীমান্ত দিয়ে কত গরু এসেছে সেই পরিসংখ্যান হাতে নেই জানালেও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. শাহিনুর আলম বলেন, ‘খুব উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় এমন চোরাচালানের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করি না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত