ইসলামে সৌন্দর্য

আপডেট : ২১ জুন ২০২৪, ০২:০০ এএম

ইসলাম শুধু একটি ধর্মের নাম নয়। নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, ঈদ, কোরবানি ইত্যাদি আচার-অনুষ্ঠানের নামই শুধু ইসলাম নয় এবং ইসলামের সামগ্রিক ব্যবস্থা শুধু বিভিন্ন উৎসব আর আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের জীবনের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয় সম্পর্কে ইসলামের যুগোপযোগী ও পরিপূর্ণ দিকনির্দেশনা রয়েছে। আর সেজন্যই ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থার নাম। অর্থাৎ মানুষের জীবন সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমে যে বিশেষ নিয়ম-পদ্ধতি বলে দিয়েছেন এবং শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) যা বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন, তাই হচ্ছে পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা।

ইসলাম কোনো বিশেষ দেশের জন্য বা বিশেষ কোনো অঞ্চলের জন্য আসেনি। এমনকি ইসলাম কোনো বিশেষ জাতি-গোষ্ঠী, কোনো বিশেষ বর্ণ-গোত্রের জন্য আসেনি। ইসলাম শুধু মুসলমানদের জন্যও নয়। এটা কারও একক সম্পত্তি নয়। যারা ইসলাম মেনে চলে তাদের মুসলমান বলা হয়। ইসলাম নীতিগতভাবে আরব বা অনারব কারও পক্ষে বা বিপক্ষে নয়। ইসলাম প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য কারও বিরোধী নয়। তবে শিরক ও ধর্মহীনতা ইসলাম বরদাশত করে না। ইসলাম অসত্য, অন্যায়, জুলুম, নির্যাতন, নিপীড়ন, অত্যাচার, অনাচার, শোষণ, বঞ্চনা, নীতিহীনতা, আদর্শহীনতা, অশ্লীলতা, ব্যক্তি বাদ, বস্তু বাদ, ব্যক্তি পূজা, বস্তু পূজা, অমানবিকতা, বৈষম্য ইত্যাদির ঘোরবিরোধী।

আর এগুলো প্রাচ্যে হোক বা পাশ্চাত্যে হোক ইসলাম সবসময় তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে। অতএব নীতিগতভাবে ইসলাম কখনোই কোনো বিশেষ অঞ্চল বা জাতি-গোষ্ঠীর প্রতিপক্ষ নয়। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ইসলাম সবসময় সোচ্চার। অন্যায়-অবিচার যেখানে, যে দেশেই হোক ইসলাম তার বিরুদ্ধে। ইসলাম কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাষ্ট্রকে কখনো ঘৃণা করে না। যখন কোনো ব্যক্তি আল্লাহতায়ালাকে একমাত্র উপাস্য, ইসলামকে একমাত্র পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা এবং নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে একমাত্র আদর্শ নেতা হিসেবে মেনে নেয়, কেবল তখনই সে মুসলমান হয়।

ইসলাম কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সমর্থন করে না। ইসলাম জাতি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষের মৌলিক মানবাধিকার, জান-মাল ও ইজ্জত-আব্রুর হেফাজতের নিশ্চয়তা দেয়। ইসলাম সহনশীল সমাজ গঠনের পাশাপাশি মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও স্বীকার করে। ইসলাম মনে করে বিচার ব্যবস্থা হবে স্বাধীন, প্রতিটি মানুষ পাবে সুবিচার। চালু হবে ন্যায়ভিত্তিক একটি অর্থনৈতিক সমাজ ব্যবস্থা। যেখানে অভাবগ্রস্ত প্রতিটি মানুষের জন্য অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা, শিক্ষা ও বাসস্থানের ব্যবস্থা হবে নিশ্চিত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত