স্বামীকে দেখতে এসে গাড়িচাপায় নিহত স্ত্রী

আপডেট : ২২ জুন ২০২৪, ০২:০৯ এএম

কুমিল্লা থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে আসছিলেন রানু বেগম (৫০)। কিন্তু স্বামীর সঙ্গে আর দেখা করা হয়নি তার। ফতুল্লার ওসমান আলী স্টেডিয়াম বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে সড়ক পারাপার হতে গিয়ে মাইক্রোবাসের চাপায় নিহত হয়েছেন তিনি। গতকাল শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নারায়ণগঞ্জের এ ঘটনা ছাড়াও গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সময়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সড়ক দুর্ঘটনায় আরও চারজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। এর মধ্যে টাঙ্গাইলের মধুপুরে প্রাইভেট কার ও মাহিন্দ্রার (তিন চাকার যান) সংঘর্ষে দুজন, রাজবাড়ীতে নছিমন (শ্যালো ইঞ্জিনচালিত তিন চাকার অবৈধ যান) ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে এক তরুণ এবং রাজধানীর মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জের দুর্ঘটনায় নিহত রানু বেগম কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানার বেড়াখোলা গ্রামের আবু তাহেরের স্ত্রী। আবু তাহের শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং কাজের সুবাদে ফতুল্লায় একাই ভাড়া বাসায় বাস করেন। ঘটনাস্থলে যাওয়া ফতুল্লা মডেল থানার এসআই সঞ্জয় বলেন, ‘রাস্তা পারাপারের সময় নারায়ণগঞ্জগামী একটি গাড়ি রানু বেগমকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। রানু গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা থেকে ফতুল্লার দাপা এলাকায় স্বামীর কাছে যাচ্ছিলেন।’

নিহতের স্বামী আবু তাহের বলেন, ‘আমার স্ত্রী কুমিল্লায় আমার পৈতৃক বাড়িতে থাকে। আমি শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় ফতুল্লায় জীবিকা নির্বাহের জন্য একাই বাস করি। আজকে (গতকাল) তার (রানু বেগম) ফতুল্লায় আসার পরিকল্পনা ছিল। দুপুরে পুলিশ ফোন দিয়ে জানায় আমার স্ত্রী রাস্তায় অ্যাকসিডেন্টে মারা গেছে।’

টাঙ্গাইলের মধুপুরে প্রাইভেট কার ও মাহিন্দ্রার সংঘর্ষে দুজন নিহত ও আটজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল সকালে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুপুর পৌরশহরের মালাউড়ি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের মধ্যে ঘটনাস্থলেই মারা যান কামরুল ইসলাম। তার বাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুর থানার জয়নাবাজার এলাকায়। তিনি ওই এলাকার একটি ভাতের হোটেলের কর্মচারী। অন্যজন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা গেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মধুপুর পৌরশহরের মালাউড়ি এলাকায় এলে টাঙ্গাইলগামী প্রাইভেট কারের সঙ্গে মধুপুরগামী যাত্রীবাহী মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। উভয় যান দ্রুতগতির থাকায় মাহিন্দ্রা ভেঙে কয়েক টুকরো হয়ে যায়। আর প্রাইভেট কার সড়কের কয়েক গজ দূরে গিয়ে থমকে দাঁড়ায়। মাহিন্দ্রার যাত্রীরা ছিটকে পড়েন।

স্থানীয় বাসিন্দা মিলন হোসেন বলেন, ‘বিকট শব্দ শুনে আমরা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠাই। অন্যদিকে প্রাইভেট কারের চালক দ্রুত পালিয়ে গেলেও ভেতরে আটকা পড়া এক যাত্রীকে কাচ ভেঙে উদ্ধার করা হয়।’

প্রাইভেট কার থেকে উদ্ধার করা যাত্রীর নাম চিকিৎসক আদনান আহসান চৌধুরী। তাকে বের করার পরপরই প্রাইভেট কারটিতে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে মধুপুর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে উদ্ধার তৎপরতা চালান।

মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাজ্জাদ হোসেন মানিক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই একজনের মৃত্যু হয়। নয়জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আহতরা হলেন নেত্রকোনার ইমাম হোসেনের ছেলে আবদুল হাশেম (৫৫), নেত্রকোনার বারহাট্টা এলাকার সুমন খানের ছেলে আবদুল কদ্দুস, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার আহাম্মদ আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩৫), মাহিন্দ্রাচালক মধুপুর উপজেলার লুচিয়া নগরবাড়ী এলাকার আরফান আলীর ছেলে মো. জালাল হোসেন (৩০), ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার আদনান আহসান চৌধুরী, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার জয়নাতলী গ্রামের শহর আলীর ছেলে রুবেল মিয়া (৪০), একই উপজেলার নগর হাওলা গ্রামের রইজ উদ্দিনের ছেলে মঞ্জুরুল ইসলাম (৪০) ও জয়নাবাজার এলাকার মইন উদ্দিনের ছেলে মো. সেলিম মিয়া।

রাজবাড়ীতে নছিমন ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে শহিদুল (২০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের আরও দুই আরোহী আহত হয়ে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গতকাল দুপুর ১টার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের সিংগা বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শহিদুলের বাবার নাম নুরাল মাঝি। তার বাড়ি দাদশী ইউনিয়নের নিজাতপুর গ্রামে। তিনি ডেকোরেশনের কাজ করতেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শহিদুলসহ আরও তিনজন একটি বিয়েবাড়িতে ডেকোরেশনের কাজ করছিলেন। দুপুরে ডেকোরেটর মালিকের মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়িতে খেতে যাচ্ছিলেন। দাদশী ইউনিয়নের সিংগা বাজার এলাকায় পৌঁছলে অন্যদিক থেকে আসা একটি কাঠের গুঁড়িবোঝাই নছিমনের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা সবাই নছিমনে থাকা গাছের গুঁড়ির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যান। শহিদুল মাথায় আঘাত পান। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পরপরই শহিদুল মারা যান।

রাজবাড়ী সদর থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নছিমনটির চালককে আটক করে থানায় আনা হয়েছে।

রাজধানীর মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের ওপর সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় এক ব্যক্তি মারা গেছেন। গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে টিকাটুলী মোড়ের ঠিক ওপরে ফ্লাইওভারে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতের নাম দ্বিজেন্দ্র লাল চৌধুরী (৬০)। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে আসেন ভাতিজা প্রদীপ রায় চৌধুরী। তিনি জানান, তার চাচার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের দক্ষিণ মতলব থানায়। তবে তিনি ভারতের নদীয়া জেলায় পরিবার নিয়ে থাকেন। এক মাস আগে তিনি ঢাকায় আত্মীয়র বাসায় বেড়াতে আসেন।

সংশ্লিষ্ট জেলার প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে প্রতিবেদনটি তৈরি

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত