সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

যাত্রাবাড়ীতে দম্পতি খুন

জমির বিরোধ ঘিরে তদন্ত গ্রেপ্তার নেই

আপডেট : ২২ জুন ২০২৪, ০২:১২ এএম

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মোমেনবাগে এক পুলিশ কর্মকর্তার বাবা-মাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি খুনিদের কাউকে শনাক্তও করতে পারেনি তদন্তসংশ্লিষ্টরা। ক্ষণিকালয় নামে ওই বাড়িতে কোনো ক্লোজসার্কিট (সিসি) ক্যামেরা নেই। ফলে ওই এলাকার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে সেগুলো বিশ্লেষণ করে খুনিদের শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নিহত শফিকুর রহমানের পারিবারিক জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধ সামনে রেখে তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছেন তারা। এ ছাড়া বেশ কিছু বিষয় সামনে রেখে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। পুলিশ জানায়, চাচাতো ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে শফিকুরের জমিসংক্রান্ত বিরোধ ছিল। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে পরপর চারটি মামলা করেছিল ওই পরিবার। এখনো দুটি মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। এ সংক্রান্ত বিরোধ ছাড়া শফিকুর ও তার স্ত্রী ফরিদার সঙ্গে কারও শত্রুতা খুঁজে পাওয়া যায়নি এখনো। ফলে জমিসংক্রান্ত বিরোধকে গুরুত্ব দিয়ে খুনিদের শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ওই ভবনের অন্য বাসিন্দাদের সন্দেহ করা হচ্ছে। তাদের মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে মাতুয়াইলের পশ্চিম মোমেনবাগের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ২ নম্বর হোল্ডিংয়ের ক্ষণিকালয় নামে ওই বাড়িতে যায় যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা বাসার নিচতলার পার্কিংয়ে শফিকুর রহমানের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পায়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ও গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরে দোতলায় গিয়ে শোবার ঘরে মশারির ভেতর তার স্ত্রী ফরিদা আক্তারের লাশ পাওয়া যায়। তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। ঘটনার সময় নিহত দম্পতির ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুন ফেনীতে দাদাবাড়িতে ছিলেন। পুলিশ নিহত দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে ওই রাতেই নিহতদের মাতুয়াইল কবরস্থানে দাফন করা হয়। চারতলা ওই বাড়ির ভাড়াটিয়ারা দাবি করেছেন, তারা কেউ বিষয়টি টের পাননি।

এ ঘটনায় নিহত দম্পতির ছেলে পুলিশের বিশেষ শাখার (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে ইমন বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।

এজাহারে তিনি বলেন, গত বুধবার রাত ১টা থেকে পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার মধ্যে তাদের বাড়িতে দুষ্কৃতকারীরা ঢুকে তার বাবা-মাকে কুপিয়ে হত্যা করে। পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চাচাতো ভাইয়ের ছেলে ও তার পরিবারসহ অন্য সন্দেহভাজন আত্মীয়দের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তাদের মোবাইল ফোনের তথ্য ও অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করে হত্যাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ছাড়া তাদের বাড়ির ভাড়াটিয়াদেরও সন্দেহ করা হচ্ছে। এ হত্যাকান্ডের ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শফিকুর রহমানের ভাই মফিজুর রহমান বলেন, ‘যাদের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ তারা আমাদের শরিক ও ভাগীদার হলেও খুবই দুষ্টপ্রকৃতির। আমাদের চাচাতো ভাইয়ের এক ছেলে শফিকুর ভাইয়ের কাছ থেকে জোর করে কিছু জমি কিনতে চেয়েছে কয়েকবার। কিন্তু ভাই সেটা দেননি। এটা নিয়েই তারা একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়েছে।’

গতকাল নিহত দম্পতির মেয়ের জামাতা আরিফুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা এসে আশপাশে বাড়িগুলো থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। তবে সেসব ফুটেজে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তারা। এ ছাড়া তদন্তসংশ্লিষ্টরা মামলার বাদী ইমনের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। তবে হত্যার কারণ ও খুনিদের শনাক্তের বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি তারা।

এ ঘটনায় ভাড়াটিয়াদের সন্দেহ করছে পুলিশ। তাদের কেউ বাইরে আছে কি না, জানতে চাইলে আরিফুর রহমান বলেন, চারতলার একজন ভাড়াটিয়া বাসায় থাকছেন না। তিনি এলাকাতেই তার এক আত্মীয়র বাসায় চলে গেছেন। তিনি একা থাকেন, তাই এ ঘটনার পর ভয় পেয়েছেন। যাওয়ার আগে ঘরের চাবি দিয়ে বাড়ির সবাইকে এ কথা বলে গিয়েছেন। পুলিশ কোনো ভাড়াটিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করেনি।

যাত্রাবাড়ী থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, হত্যাকারীদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি। সম্ভাব্য সব বিষয় সামনে রেখে তদন্ত চলছে। এখনই নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত