সম্পাদক পরিষদ

পুলিশ সার্ভিসের বিবৃতি গণমাধ্যমের জন্য হুমকি

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৪, ০২:১৭ এএম

সম্প্রতি দেশের কিছু সাবেক ও বর্তমান পুলিশ সদস্যের অস্বাভাবিক সম্পদের বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত এবং প্রচারিত হওয়ায় উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দেয় পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএসএ), যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন আকারে প্রকাশিত হয়েছে। পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের এই বিবৃতি স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য হুমকিস্বরূপ বলে মনে করছে দেশের সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ। গতকাল রবিবার পরিষদের সভাপতি মাহ্ফুজ আনাম ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ওই বিবৃতির বিষয়ে উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

এদিকে সাংবাদিকতা নিয়ে বিপিএসএর বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পেশাজীবী সাংবাদিকদের দুই সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) ও ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি)। গতকাল পৃথক বিবৃতিতে দুই সংগঠনের পক্ষে এ উদ্বেগ জানানো হয়। এ সংগঠন দুটিও বিপিএসএর বিবৃতিকে স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতি হুমকিস্বরূপ বলে উল্লেখ করেছে।

সম্পাদক পরিষদের বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রতিবাদলিপির শেষাংশে অনুরোধ জানানো হয়েছে জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে এ ধরনের ‘বিভ্রান্তিকর’ প্রতিবেদন প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে। ভবিষ্যতে পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে কোনো ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন ও সাংবাদিকতার নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণের জন্যও সনির্বন্ধ অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু পুলিশের ভালো কাজের মূল্যায়ন প্রতিবেদন আকারে গণমাধ্যম প্রচার করে থাকে। আবার সরকারের দায়িত্বশীল পদে কর্মরত থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সম্পদ অর্জন, যা জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয় এমন তথ্য অনুসন্ধান করে পেশাদারিত্বের সঙ্গে তা প্রকাশের কাজটিও করে গণমাধ্যম। এসব বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

সম্পাদক পরিষদ মনে করে, সাম্প্রতিককালে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে ঢালাও প্রতিবাদলিপির মাধ্যমে পারস্পরিক দোষারোপ চর্চার বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। প্রতিবাদের মাধ্যমে দেওয়া পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্য স্বাধীন গণমাধ্যম ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা চর্চার প্রতি অশোভন, অযৌক্তিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের বহিঃপ্রকাশ।

সম্পাদক পরিষদের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যারা এসব খবর প্রকাশ করেছেন, তাদের দায়িত্ব পালন নিয়ে সংশয় থাকলে নিয়ম ও বিধি অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট সংস্থা প্রেস কাউন্সিলের দ্বারস্থ হওয়া যেতে পারে। তা না করে প্রতিবাদের মাধ্যমে পারস্পরিক দোষারোপ ভবিষ্যতে পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে যেকোনো ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধের নামে গণমাধ্যমকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা স্বাধীন গণমাধ্যম ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা চর্চার পরিপন্থী বলে মনে করে সম্পাদক পরিষদ।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের নীতি বাস্তবায়নে গণমাধ্যমকর্মীদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় পুলিশের সহযোগিতাও চেয়েছে সম্পাদক পরিষদ।

ডিআরইউ-বিজেসির উদ্বেগ : সাংবাদিকতা নিয়ে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের দেওয়া বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পেশাজীবী সাংবাদিকদের দুই সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) ও ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি)। গতকাল পৃথক বিবৃতিতে দুই সংগঠনের পক্ষে এ উদ্বেগ জানানো হয়।

ডিআরইউর বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি পুলিশের সাবেক ও বর্তমান কয়েক কর্মকর্তাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর কোনো কোনো মহল ও সংগঠন যে ভাষায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে, তা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী। পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের চিঠি স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতি হুমকিস্বরূপ।

ডিআরইউর সভাপতি সৈয়দ শুকুর আলী ও সাধারণ সম্পাদক মহি উদ্দিন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তার অস্বাভাবিক সম্পদের মালিক হওয়ার সংবাদ কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে বলে তারা মনে করেন না। সাংবাদিকরা সবসময় দায়িত্বশীল এবং তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশ করে থাকেন।

ডিআরইউর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, সব তথ্যই গণমাধ্যমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাংবাদিকদের বড় কাজটি হচ্ছে বিভিন্ন বিষয়ে অনুসন্ধানী সংবাদ পরিবেশন করা। সাংবাদিকরা অনুসন্ধান করে তথ্য-উপাত্ত বের করে থাকেন ও পেশাদারির সঙ্গে তা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে বিজেসির বিবৃতিতে বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে পুলিশ বাহিনীর কর্তাব্যক্তিরা বলেছেন, ব্যক্তির দায় কোনোদিন প্রতিষ্ঠান নেবে না। কিন্তু পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের এ চিঠির মাধ্যমে কি ব্যক্তির দুর্নীতির দায় প্রতিষ্ঠানের ঘাড়ে তুলে নেওয়া হয় না? যেসব প্রতিবেদন গণমাধ্যমে হয়েছে তা সত্য না মিথ্যা সে বিষয়ে কোনো ধরনের তদন্ত না করে ঢালাওভাবে এ ধরনের চিঠি দেওয়া পেশাদারি দায়িত্বশীলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত