কিশোর গ্যাংয়ের মদদদাতাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) নতুন মহাপরিচালক ব্যারিস্টার মো. হারুন অর রশীদ। তিনি বলেন, ইদানীং কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বেড়ে চলেছে। কিশোর গ্যাং কালচার নির্মূল, টেকসই সমাজ প্রতিষ্ঠায় গ্যাং কালচারে জড়ানো কিশোরদের সংশোধন করে মূলধারায় কীভাবে আনা যায় সে চেষ্টা করবে র্যাব।
দায়িত্ব নেওয়ার পর গতকাল গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে গতকাল রবিবার প্রথম আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভায় র্যাব ডিজি এসব কথা বলেন।
রাজধানীর কুর্মিটোলা র্যাব সদর দপ্তরে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। পাঁচ দফা দিকনির্দেশনা ও কর্মপন্থা ঘোষণা করেন র্যাবের ডিজি হারুন অর রশীদ। তিনি বলেন, ‘যারা কিশোর গ্যাং পরিচালনা করছে সেদিকেও নজর দিচ্ছি। যে অপরাধ করে, যারা অপরাধ করায় দুজনই অপরাধী। উভয়কেই আইনের আওতায় আনা হবে। কিশোর গ্যাং নির্মূলে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সম্পর্ক খুঁজে পেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
র্যাবের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস বাড়াতে চান জানিয়ে র্যাব ডিজি বলেন, পাঁচটি বিষয়ে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালনে প্রতিটি ব্যাটালিয়নকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। র্যাবের প্রতিটি সদস্যকে সব ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শৃঙ্খলা বজায় রাখা, চেইন অব কমান্ড অনুসরণ এবং শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ থেকে বিরত থাকার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো র্যাব সদস্য যদি আইন বহির্ভূত কাজ করেন বা অসৎ উদ্দেশ্যে কোনো কাজ করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘আজ সিও (অধিনায়ক) কনফারেন্স ছিল। আমি তাদের পাঁচটি বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছি। মানুষকে সেবা দেওয়া, অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জঙ্গি সন্ত্রাস দমন, মাদক উদ্ধারসহ আভিযানিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার নির্দেশনা দিয়েছি। এজন্য প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে র্যাবকে স্মার্ট বাহিনী হিসেবে কর্মপরিধি বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
মানবাধিকার প্রসঙ্গে র্যাব ডিজি বলেন, ‘আমরা মানুষের মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে চাই। র্যাবের কোনো সদস্য অবশ্যই মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো কাজে জড়াবে না। কোনো সদস্য যদি কারও মানবাধিকার হরণ করতে চায় তাহলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।’
এছাড়া তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে র্যাবের অবস্থান, রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা এবং অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণসহ সব অভিযানিক কার্যক্রমে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে র্যাব ডিজি বলেন, ‘তিনটা কাজকে গুরুত্ব দেব। মাদক, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, উগ্রবাদ; সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন এবং কিশোর গ্যাং কালচার নির্মূল।’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে গণমাধ্যমই আগে জেনে যায়।
র্যাবের প্রধান জঙ্গি ও মাদকবিরোধী কার্যক্রম, অস্ত্র উদ্ধার, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, অপরাধী ও সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারে র্যাবের সাফল্যের বিষয়টিও তুলে ধরেন।
এর আগে র্যাবের অধিনায়ক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন র্যাব ডিজি। উগ্র জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস নির্মূল, অবৈধ অস্ত্র, মাদক উদ্ধার ও কিশোর অপরাধকে অগ্রাধিকার দিয়ে ৫ দফা দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
