রোহিত শর্মাকে একটা ধন্যবাদ দিতেই পারে বাংলাদেশ। লন্ডন আর আহমেদাবাদে, আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ আর ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের ক্ষোভটা পুষে রেখেছিলেন বোধহয়। সেটাই উগরে দিলেন সেন্ট লুসিয়াতে, অস্ট্রেলিয়াকে প্রতিপক্ষ পেয়ে। ৪১ বলে ৯২ রানের ইনিংস, ৭টা বাউন্ডারি আর ৮ খানা ছক্কা। মিচেল স্টার্কের বলে বোল্ড না হলে নিঃসন্দেহে সেঞ্চুরি তুলে নিতেন হিটম্যান। তার অমন ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের রান ২০ ওভার শেষে ৫ উইকেটে ২০৫। ট্র্যাভিস হেডের ব্যাটে বেশ অনেকটা সময় লড়ে গেলেও শেষ দিকে একের পর এক উইকেট হারিয়ে আর জিততে পারেনি অস্ট্রেলিয়া, আটকে গেছে ৭ উইকেটে ১৮১ রানে। হেরেছে ২৪ রানে।
অস্ট্রেলিয়ার হারে সম্ভাবনার দুয়ার খোলা আছে বাংলাদেশের জন্যও। ভোরবেলায় আফগানিস্তানকে ৬২ রানে হারাতে পারলে অথবা নেট রানরেটে অস্ট্রেলিয়া এবং আফগানিস্তানকে পেছনে ফেলতে পারলে সেমিফাইনালে খেলতে পারে বাংলাদেশও। আফগানিস্তানের জন্য সমীকরণটা আরও সহজ। বাংলাদেশকে হারালেই তারা পৌঁছে যাবে স্বপ্নের সেমিফাইনালে, যেখানে অপেক্ষায় আছে দক্ষিণ আফ্রিকা। টস জিতে মিচেল মার্শ নিলেন ফিল্ডিং। ০ রানে বিরাট কোহলি ফিরলেন। কিন্তু রোহিত গুরুনাথ শর্মা নামের একজন যে পণ করে বসে আছেন বদলা নেবার। তার ব্যাটে খুনে মেজাজ। বিধ্বংসী ট্যাংকের মতো রোহিত গুঁড়িয়ে দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বোলিং। মিচেল স্টার্কের দ্বিতীয় ওভারে নিয়েছেন ২৯ রান! চারখানা ছক্কা, একটা চার। সেই স্টার্কই আউট করেছেন রোহিতকে। এরপর ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া, কিন্তু অ্যাডাম জাম্পার বলে মিচেল মার্শ সহজ ক্যাচ ছাড়লেন হার্দিক পান্ডিয়ার। পরের বলে শিভাম দুবের ক্যাচটা নিতে এগিয়ে আসতে দেরি করলেন মার্কাস স্টয়নিস। সেই হার্দিক স্টয়নিসের শেষ ওভারে মেরেছেন দুটো ছক্কা। এমনকি কামিন্সের করা শেষ ওভারে ছয় মেরেছেন জাদেজাও। তাতেই রানটা দুইশর ওপারে চলে গেছে।
ডেভিড ওয়ার্নার শুরুতেই মাত্র ৬ রান করে আউট হলেও হেডমাস্টার ছিলেন। আইসিসি ইভেন্টে ভারতের বোলারদের পেটানোটা অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছেন হেড। ৪৩ বলে ৭৬ আর মিচেল মার্শের ২৮ বলে ৩৭ রানের ইনিংসে ভারতের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই এগোচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া। ১৩ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার রান ১২৮/২, উইকেটে হেড এবং ম্যাক্সওয়েল। কিন্তু কুলদীপ যাদবের বলে এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে ম্যাক্সওয়েল হলেন বোল্ড, মার্কাস স্টয়নিসও সুইচ হিট মারতে গিয়ে ক্যাচ দিলেন হার্দিকের হাতে। টিম ডেভিড আশানুরূপ খেলতে পারেননি। ম্যাথু ওয়েডও ২ বলে ১ রান করে বিদায় নিলে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় অস্ট্রেলিয়া।
এখন বাংলাদেশের সামনে সমীকরণ হচ্ছে, তারা যদি আগে ব্যাট করে ১৬০ রান করে আর আফগানদের হারায় ৬২ রানে, তাহলে বাংলাদেশ উঠে আসবে গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলে দুইয়ে। এর চেয়ে বেশি ব্যবধানে হারালে তো আরও ভালো, তবে -২.৪৮৯ রানরেট থেকে -০.৩৩১ রানরেটকে টপকে যেতে কমপক্ষে এই ব্যবধানে জিততে হবে বাংলাদেশকে। আর আফগানিস্তান যদি বাংলাদেশকে হারিয়ে দেয়, তাহলে সরাসরি ৪ পয়েন্ট নিয়েই তারা খেলবে সেমিফাইনালে।
