পরীমণির সঙ্গে সম্পর্ক

চাকরি হারাচ্ছেন পুলিশের এডিসি সাকলায়েন

আপডেট : ২৬ জুন ২০২৪, ০৪:৫২ এএম

অভিনেত্রী পরীমণির সঙ্গে রাত্রিযাপনসহ অনৈতিক সম্পর্ক প্রমাণিত হওয়ায় চাকরি হারাচ্ছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) গোলাম সাকলায়েন। তাকে চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর প্রদানের’ সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সাকলায়েনের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনেরও (পিএসসি) অভিমত চাওয়া হয়েছে। পরীমণির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরুর পর প্রথমে তাকে ডিবি থেকে সরিয়ে মিরপুরের পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টে (পিওএম) সংযুক্ত করা হয়েছিল। পরে সেখান থেকে ঝিনাইদহ ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে তাকে বদলি করা হয়।

জানা গেছে, গত ১৩ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের শৃঙ্খলা-২ শাখার উপসচিব পারভীন জুঁইয়ের সই করা এক স্মারকে তাকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়ার বিষয়ে অভিমত জানাতে সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়ের সচিবকে অনুরোধ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার শৃঙ্খলা-২ শাখার স্মারকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাকলায়েন নায়িকা পরীমণির বাসায় নিয়মিত রাত্রিযাপন করতে শুরু করেছিলেন। বিভিন্ন সময় দিনে ও রাতে পরীমণির বাসায় তিনি থেকেছেন বলে মোবাইল ফোনের ফরেনসিক রিপোর্ট দেখে জানা গেছে। তার ও পরীমণির আদান-প্রদান করা মেসেজে (২৯ জুলাই, ২০২১ তারিখ থেকে ৩ আগস্ট, ২০২১ তারিখ পর্যন্ত) সামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমণির ফেসবুক আইডি ও গোলাম সাকলায়েন সিথিল নামের ফেসবুক মেসেঞ্জারে কথোপকথন এবং তাদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে (১১ জুলাই, ২০২১ তারিখ থেকে ৪ আগস্ট ২০২১ তারিখ পর্যন্ত) কথোপকথন সাধারণ পরিচিতি বা পেশাগত প্রয়োজনে স্থাপিত সম্পর্কের পরিচায়ক নয়। বরং অনৈতিক প্রেমের সম্পর্কের বার্তাবাহী।

১ আগস্ট ২০২১ ভোর ৬টা থেকে ২ আগস্ট ২০২১ রাত ৩টা পর্যন্ত রাজারবাগ মধুমতি পুলিশ অফিসার্স কোয়ার্টারে পরীমণির যাতায়াতের ধারণকৃত সিসি টিভি ফুটেজের ফরেনসিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণেও এমন প্রমাণ পাওয়া যায়।

সাকলায়েন বিবাহিত এবং এক সন্তানের বাবা হওয়া সত্ত্বেও পরীমণির সঙ্গে তার বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, পরীমণির সঙ্গে জন্মদিন উদ্যাপন ও নিজের সরকারি বাসভবনে স্ত্রীর অবর্তমানে সময় কাটানোর মতো ঘটনা বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে চাউর হওয়ায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়েছে। উল্লিখিত অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদন ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে দোষী সাব্যস্ত করে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩ (খ) বিধি অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় একই বিধিমালার বিধি-৪-এর উপবিধি ৩ (ঘ) অনুযায়ী কেন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না মর্মে দ্বিতীয় কারণ দর্শানো নোটিস দেওয়া হয়। নোটিস অভিযুক্তের স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানায় পাঠানোর প্রমাণ রয়েছে।

সাকলায়েন দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিসের জবাবে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণ মামলার দায় থেকে অব্যাহতি প্রার্থনা করেন। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার তদন্ত প্রতিবেদন, সাক্ষীদের জবানবন্দি, অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত জবাব, মৌখিক বক্তব্য ও অন্য কাগজপত্র আবার সবিস্তারে পর্যালোচনা করা হয়। পর্যালোচনার পর দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর জবাব সন্তোষজনক বিবেচিত না হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩ (খ) বিধি অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগে গোলাম সাকলায়েনকে বিধি-৪-এর উপবিধি ৩ (খ) অনুযায়ী চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

পরীমণি-সাকলায়েনের সম্পর্ক : পরীমণির সঙ্গে এডিসি গোলাম মোহাম্মদ সাকলায়েনের সম্পর্কের উপলক্ষ একটি মামলার তদন্ত, ২০২১ সালের জুনে। ১৩ জুন উত্তরা বোট ক্লাবে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা করেন পরীমণি। পরদিন উত্তরা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগ। ওই সময় পরীমণিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গোয়েন্দা কার্যালয়ে ডাকা হয়। তখনই পরীমণির সঙ্গে পরিচয় হয় সাকলায়েনের। এরপর দ্রুত তাদের সম্পর্কের গভীরতা বাড়তে থাকে। পরীমণির সঙ্গে প্রায়ই রাতে বিভিন্ন স্থানে দেখা যেত এডিসি সাকলায়েনকে। রাত গভীর হলে গাড়ি নিয়ে বের হতেন তারা। মাঝেমধ্যে পরীমণির বাসায়ও যেতেন সাকলায়েন। এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পিয়া জান্নাতুলের অভিযোগ, সর্বশেষ পরীমণি সাকলায়েনের বাসায় গিয়ে প্রায় ১৮ ঘণ্টা সময় কাটান। এরপর জনসমক্ষে আসে তাদের ঘনিষ্ঠতার খবর। সিসি টিভি ক্যামেরার ফাঁস হওয়া দৃশ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১ আগস্ট রাত ৮টার দিকে নায়িকা পরীমণিকে নিয়ে নিজ বাসায় অবস্থান করেন সাকলায়েন। সিসি টিভি ক্যামেরায় দেখা গেছে, রাত ৮টার দিকে রাজারবাগের মধুমতি ভবনের সামনে পরীমণির হ্যারিয়ার গাড়ি। ওই ভবনের দশতলায় সাকলায়েনের সরকারি বাসা। সাকলায়েন নিজে এসে রিসিভ করেন পরীমণিকে। কিছুক্ষণ পর সাকলায়েনের বাসায় ঢোকেন পরীমণির খালাতো বোন ও তার স্বামী। রাত ২টার দিকে পরীমণিসহ তিনজনই বের হয়ে যান বাসা থেকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত