পেনশন স্কিম বাতিল দাবি

একযোগে কর্মবিরতি ৩৫ বিশ্ববিদ্যালয়ে

আপডেট : ২৬ জুন ২০২৪, ০৫:০৭ এএম

পেনশন-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার ও প্রতিশ্রুত সুপার গ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের দাবিতে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। গতকাল মঙ্গলবার প্রায় ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, টানা তিন দিনের অর্ধদিবস কর্মবিরতির প্রথম দিন ছিল গতকাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সকাল ৮টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করেন। তবে চলমান পরীক্ষা এই কর্মসূচির আওতামুক্ত ছিল।

ঢাবি শিক্ষক সমিতির ডাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের ফটকে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। দাবি আদায় না হলে ৩০ জুনের পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি এবং ১ জুলাই থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দেন তারা। এ সময় শিক্ষকরা ক্লাস-পরীক্ষাসহ কোনো দাপ্তরিক ও একাডেমিক কাজে অংশ নেবেন না বলে জানান।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা বলেন, ‘আমাদের তিন দিনের অর্ধদিবস কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক আমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছেন।’

আমাদের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তিন দাবিতে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করেছেন জাবির শিক্ষকরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা এই কর্মবিরতি শুরু করেন।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মোতাহার হোসেন বলেন, ‘দুই মাস ধরে নানা কর্মসূচির পরও দাবি আদায় না হওয়ায় আমরা এই কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছি। কারণ এই প্রত্যয় স্কিম বৈষম্যমূলক।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিও এ সময় কর্মবিরতি পালন করে। ভাষাশহীদ রফিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকরা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ মাশরিক হাসান বলেন, ‘কর্তৃপক্ষকে দুই মাস সময় দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে দাবি মানলে এমন কর্মসূচি হতো না। দাবিটি শুধু বর্তমান শিক্ষকদের জন্য নয়, ভবিষ্যতে যারা শিক্ষকতায় আসবেন, তাদের জন্যও।’ এ ছাড়া কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়।

ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চাপিয়ে দেওয়া প্রত্যয় স্কিম বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত