প্রায় দুই যুগের ক্যারিয়ার। মডেলিং দিয়ে শুরু করলেও পরে অভিনয়ে থিতু হন আর ক্রমেই মুগ্ধতা ছড়িয়ে যাচ্ছেন ছোট পর্দার সুপারস্টার জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। শুধু রোমান্টিক চরিত্রে নয়, নানামাত্রিক চরিত্রে হাজির হয়ে স্বকীয়তার স্বাক্ষর রেখেছেন, পৌঁছেছেন সাফল্যের শিখরে। তাকে নিয়ে লিখেছেন ইমরুল নূর
আজ বৃহস্পতিবার জনপ্রিয় এ তারকার জন্মদিন। দেখতে দেখতে জীবনের অনেকগুলো বসন্ত পার করে দিলেন। মজার বিষয় হলো, আজ বাবা-ছেলে দুজনেরই জন্মদিন। নিজের জন্মতারিখেই পৃথিবীতে আসেন অপূর্বর একমাত্র ছেলে জায়ান ফারুক আয়াশ। নিজের জন্মদিন নিয়ে কখনো কোনো আয়োজন না করলেও আয়াশকে ঘিরে প্রতিবারই বাসায় ঘরোয়াভাবে আনন্দ আয়োজন রাখা হয়।
একইদিনে বাবা-ছেলের জন্মদিন
এ বিষয়টা খুবই বিরল মনে হয় আমার কাছে যে, বাবা-ছেলের জন্মদিন একই তারিখে। আমি সত্যি ভীষণ ভাগ্যবান বাবাদের একজন। নিজেকে পৃথিবীর সেরা ভাগ্যবান বাবা বলে মনে হয়। আয়াশ আমার জন্মদিনের সেরা উপহার। আমি কখনোই আমার জন্মদিন ঘটা করে পালন করি না, তবে এদিনটা আয়াশকে ঘিরেই কাটিয়ে দিই সবসময়। সেই আয়োজনের আনন্দে নিজের জন্মদিনের কথা ভুলেই যাই। আয়াশের জন্য পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে ঘরোয়াভাবেই ছোট্ট আয়োজন থাকে। পরিবারের সদস্যরা তো থাকেনই, এ ছাড়া সহকর্মীরা অনেকেই আসেন। সবাই একসঙ্গে কিছুটা সময় পার করা হয়, খাওয়া-দাওয়া করা হয়।
ভক্তদের ভালোবাসা
আমি আজকে যা, যে অবস্থানে আছি তার কৃতিত্ব আসলে আমার ভক্তদের। তারা সারা বছরই আমাকে এত এত ভালোবাসায় সিক্ত করে রাখেন, যেটা দেখে আমি মাঝেমধ্যেই অবাক হই যে, এত ভালোবাসা পাওয়ার মতো কি কিছু করতে পেরেছি আমি? আর জন্মদিনে তো তারা আমাকে প্রতিবারই চমকে দেন। এই ভালোবাসার আসলে প্রতিদান কীভাবে দিতে হয়, আমি জানি না। তারা আমার কাজ ভালোবাসেন, তাই চেষ্টা করি সবসময় ভালো কিছু উপহার দিতে এবং সেই চেষ্টাই করে যাব সবসময়।
এই অপূর্ব সেই অপূর্ব
এক ইফতারের দাওয়াতে গিয়ে বন্ধুদের অনুপ্রেরণায় হুট করে ২০০২ সালে ‘প্যান্টিন ইউ গট দ্য লুকস’ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন এবং ‘মি. বাংলাদেশ’ খ্যাতি লাভ করেন। সেই থেকে শুরু। এরপর অমিতাভ রেজা চৌধুরীর পরিচালনায় নেসক্যাফের বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে নাম লেখান। প্রথম বিজ্ঞাপনেই সাড়া ফেলেন। এরপর একই নির্মাতার ল্যাবএইডের বিজ্ঞাপন দিয়ে রীতিমতো সাড়া এবং দর্শক পরিচিতি পেতে শুরু করেন। এরপর চকলেট ডায়াজেস্টিভ, নাভানা এলপি গ্যাস, ফ্রেশ মাস্টারড অয়েল, টি এক্সপো বিজ্ঞাপনে কাজ করেন। এর বাইরে তাকে বিজ্ঞাপনে খুব একটা দেখা যায়নি। ২০০৬ সালে গাজী রাকায়েত পরিচালিত ‘বৈবাহিক’ নাটক দিয়ে অভিনয়ে নাম লেখান এবং এখন পর্যন্ত দেড় হাজারেরও বেশি নাটকে অভিনয় করেন। ‘বড় ছেলে’ নাটক দিয়ে তুমুল সাড়া ফেলেন এবং টেলিভিশন পর্দার শীর্ষ অভিনেতা হিসেবে এখনো রাজত্ব করে যাচ্ছেন। রোমান্টিক চরিত্রে তার বিকল্প কেউ নেই এমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা আর তাই তাকে ‘রোমান্স কিং’ বলা হয়ে থাকে। নাটকের বাইরে আটটি ওয়েবে কাজ করেছেন এবং দুটি সিনেমায়।
এখনো অনেক পথ বাকি
ক্যারিয়ারের এতটা পথ পাড়ি দেওয়ার পরও অপূর্ব মনে করেন এই ইন্ডাস্ট্রিকে দেওয়ার মতো তার অনেক কিছুই আছে। তার ভাষ্যে, ছোটবেলা থেকে বিভিন্ন সময়েই অনেক কিছু হতে চেয়েছিলাম। যেটা সবার ক্ষেত্রেই হয়। সে রকম করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হওয়া হয়নি। মডেলিংয়ে এলাম, এরপর অভিনয়ে। সেই থেকে অভিনয় করে যাচ্ছি কিন্তু এখনো মনে হয় যে, অনেক কিছু দেওয়া বাকি, করা বাকি। অভিনয়টাই করে যেতে চাই সবসময়, যতক্ষণ সেই সামর্থ্যটা আছে।
