লাউতারোর গোলে চিলি যুদ্ধজয় আর্জেন্টিনার

আপডেট : ২৭ জুন ২০২৪, ০১:০০ এএম

স্কোর লাইন যা বলছে, মাঠের লড়াইয়ে পার্থক্য ছিল এর চেয়ে অনেক বড়। ৬১ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য ২২টি শট নেয় আর্জেন্টিনা, এর ৯টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে চিলির ৩টি শটই বাঁচিয়ে দেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। তার চেয়ে বেশি ব্যস্ত ছিলেন ক্লদিও ব্রাভো। অনেকগুলো বাঁচালেও শেষ রক্ষা করতে পারেননি চিলি গোলরক্ষক।

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই ২০১৬ আসরের ফাইনালে টাইব্রেকারে চিলির কাছে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। সেই মাঠেই জিতে, মধুর প্রতিশোধ নিয়ে, গ্রুপসেরা হওয়ার পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল প্রতিযোগিতার ১৫ বারের চ্যাম্পিয়নরা।

বরাবরের মতোই আক্রমণাত্মক শুরু করে আর্জেন্টিনা। তবে ডি বক্সের আশপাশে অনেক চিলিয়ানের ভিড়ে নিশ্চিত সুযোগ তৈরি করতে ভুগছিল আর্জেন্টিনা। ২২ মিনিটে প্রথম ভালো সুযোগ পায় তারা। নিকো গনসালেজের ক্রসে জুলিয়ান আলভারেজের শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান ব্রাভো।

৩০ মিনিটে দুর্বল হেডে দারুণ একটি সুযোগ হাতছাড়া করেন আনহেল ডি মারিয়ার জায়গায় শুরুর একাদশে ফেরা গনসালেজ। ৬ মিনিট পর ডি বক্সের বাইরে থেকে গতিময় শটে গোলের চেষ্টা করেন মেসি। হাল ছেড়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন ব্রাভো। ভাগ্য ভালো তার, বল পোস্টের বাইরের দিকে লেগে বেরিয়ে যায়।

৩৮তম মিনিটে ফের একটুর জন্য বেঁচে যায় চিলি। নাহুয়েল মোলিনার ক্রস বিপদমুক্ত করতে গিয়ে উল্টো নিজেদের জালেই পাঠিয়ে দিচ্ছিলেন এরিক পুলগার। বল বেরিয়ে যায় পোস্ট ঘেঁষে! বিরতির আগে আগে ডি বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির শটে চেষ্টা করেন আলভারেজ। কিন্তু একটুর জন্য লক্ষ্যে রাখতে পারেননি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরও ধারালো হয় আর্জেন্টিনার আক্রমণ। ৫০ মিনিটে তারা তৈরি করে দারুণ সুযোগ। মেসির বাড়ানো বলে খুব কাছ থেকে জোরালো শট নেন মলিনা। চমৎকার রিফ্লেক্সে কাছের পোস্টে এই ডিফেন্ডারের শট ঠেকিয়ে দেন ব্রাভো। ৭ মিনিট পর মেসির চমৎকার ফ্রি কিকে সুযোগ পেয়েছিলেন আলেক্সিস মাকঅ্যালিস্টার। কিন্তু ঠিকমতো পা ছোঁয়াতে পারেননি, নিয়ন্ত্রণে নেন চিলি গোলরক্ষক।

৬১ মিনিটে গোল প্রায় পেয়েই যাচ্ছিলেন গনসালেজ। বাম দিক থেকে ভেতরে ঢুকে বুলেট গতির শট নেন এই ফরোয়ার্ড। আবারও দুর্ভাগ্য পথ আগলে দাঁড়ায়! ব্রাভোর গ্লাভস ছুঁয়ে ক্রসবারে লেগে ফেরে বল!

৭২ মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে ডি বক্সের বাইরে থেকে আচমকা শটে এমিলিয়ানো মার্তিনেজের পরীক্ষা নেন মউরোসিও ইসলা। তবে মার্তিনেসের গ্লাভস জোড়াকে ফাঁকি দিতে পারেনি বল। চার মিনিট পর ডি বক্সের ভেতর থেকে রদ্রিগো এচেভেরিয়ার বুলেট গতির শট দ্বিতীয় চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে নেন আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক। একটু পরে মার্সেলিনো নুনেসের শটও ঠেকান তিনি।

এরপরই গনসালেজের জায়গায় ডি মারিয়া, আর আলভারেজের জায়গায় লাউতারোকে মাঠে নামান আর্জেন্টাইন কোচ স্কালোনা। ৮২ মিনিটে ডি মারিয়ার ফ্রি কিকে সবার চেয়ে উঁচুতে লাফিয়ে হেড করলেও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। এর পাঁচ মিনিট পর ‘অলিম্পিক গোল’ প্রায় পেয়েই যাচ্ছিলেন মেসি। কিন্তু কর্নারের শট আরেকটি কর্নারে রুখে দেন ব্রাভো। তবে এই কর্নার থেকেই ম্যাচের ‘বন্ধ্যত্ব’ ঘুচে যায়। আবার কর্নার নেন মেসি। এটাও যাচ্ছিল পোস্টের দিকেই। গোললাইনের কাছ থেকে এনজো ফার্নান্দেজের জায়গায় খেলতে নামা জিওভান্নি লো সেলসো তাতে শট নিলে তা ঠেকিয়ে দেন ব্রাভো। বল পেয়ে যান ফাঁকায় দাঁড়ানো মার্তিনেজ। ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে পাঠান ইন্তার মিলান স্ট্রাইকার। দুই ম্যাচে তার গোল হলো দুই (৬০ ম্যাচে ২৬ গোল)। তিন করতে পারতেন তিনি। যোগ করা সময়ে সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন মার্তিনেজ। গোলে নিজে শট না নিয়ে ডি মারিয়ার বল দেন মার্তিনেজকে। কিন্তু তাড়াহুড়ায় ঠিকমতো শট নিতে পারেননি, আরেকটি দারুণ সেভ করেন ব্রাভো।

ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি বলেছেন, চিলির বিপক্ষে লড়াইয়ের জন্যই অপেক্ষায় ছিলেন তারা, ‘চিলি তাদের খেলা খেলেছে, এ ম্যাচটির জন্যই আমরা অপেক্ষা করছিলাম। এ ধরনের প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলোর বিপক্ষে খেলতে হলে আপনাকে কোনো না কোনোভাবে পথ বের করে নিতে হবে। কখনো কখনো মাঠে আমরা দ্রুত গতিতে ছুটতে পারিনি এবং এটি প্রতিপক্ষকে সহায়তা করেছে।’

চিলির সঙ্গে খেলার সময় ডান পায়ের ঊরুর পেশিতে সমস্যায় পড়েছিলেন মেসি। ‘আমি যতটুকু বুঝেছি, এটি আমাকে কিছুটা ভোগাচ্ছিল। তবে আমি খেলা শেষ করতে পেরেছি। আশা করি এটি গুরুতর কিছু নয়। একটা পর্যায়ে পুরোপুরি স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে দৌড়াতে অসুবিধা তৈরি করছিল। আগামীকাল দেখব, কী অবস্থা দাঁড়ায়।’ জানিয়েছেন তিনি।

পেরুর বিপক্ষে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রিজার্ভ বেঞ্চকে পরখ করে দেখতে পারেন স্কালোনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত