অবরুদ্ধ গাজার শুজাইয়া শহর খালি করার নির্দেশ দেওয়ার পর সেখানে হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ব্যাপক বোমা হামলার মধ্যে উদ্ধারকারীদের হতাহতদের উদ্ধার অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
প্রায় ৯ মাস ধরে ফিলিস্তিনের গাজায় নির্বিচারে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। এমন পরিস্থিতিতে লেবাননে শরণার্থী ফিলিস্তিনিরা বলেছেন, তারা ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।
নতুন করে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছে অন্তত ৫২ জন। শুজাইয়া শহর খালি করার ইসরায়েলি বাহিনীর নির্দেশ ও হামলার মধ্যে বাসিন্দারা প্রাণভয়ে পালাতে শুরু করেছে।
দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গাজা জুড়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৭১৮ জনে এবং আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৬ হাজার ৩০০-এর বেশি।
ওয়াফা নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে আলজাজিরা অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, সকালের দিকে শুজাইয়া শহরের আবাসিক এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া হামলায় আরও বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
গাজায় হামলার পর এবার উত্তর সীমান্তে লেবাননের দিকে নজর ইসরায়েলের। যদিও গাজা যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েলের সঙ্গে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ সংঘর্ষ চলছে। ইসরায়েল ইতিমধ্যে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে।
গাজায় ইসরায়েলের আক্রমণ ও বর্বরতায় শুরু থেকেই ক্ষুব্ধ লেবাননে শরণার্থী ফিলিস্তিনিরা। তাদের বিশ্বাস, ইসরায়েল যদি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ চালায়, তবে একই পরিণতির মুখোমুখি হবেন তারা।
আলজাজিরা জানিয়েছে, বৈরুতের শাতিলা ফিলিস্তিনি শরণার্থীশিবিরে, প্রতিরোধ আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত অনেকেই আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, এই উত্তেজনা এবং যুদ্ধের খবরে তারা ভীত নন। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এই অঞ্চলে হিজবুল্লাহর সমর্থনে লড়াই করবেন তারা। কিন্তু তাদের একটাই শঙ্কা, তাদের পরিবার এবং বেসামরিক নাগরিকদের জন্য। তাদের উদ্বেগ, যুদ্ধ শুরু হলে ইসরায়েল ইচ্ছাকৃত লেবাননের ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকাগুলো বিশেষ করে লেবাননে ফিলিস্তিনি শরণার্থীশিবিরগুলো লক্ষ্যবস্তু করবে, যেখানে কয়েক লাখ ফিলিস্তিনি বাস করে।
এ বিষয়ে, শাতিলায় পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইনের জেনারেল কমান্ডের সদস্য আহেদ মাহার বলেন, ‘ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কোনো নৈতিকতা নেই। তারা মানবাধিকার মানে না বা শিশুদের অধিকার বিবেচনা করে না।’
আলজাজিরা জানায়, প্রায় আড়াই লাখ ফিলিস্তিনি লেবানন জুড়ে ১২টি শরণার্থীশিবিরে বাস করে। ১৯৪৮ সালে নাকবার সময় লেবাননে আশ্রয় নিয়েছিল তারা।
লেবাননে ফিলিস্তিনিদের শরণার্থীশিবিরগুলো ধ্বংস হয়ে গেলে ফিলিস্তিনিদের তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প থাকবে না বলে জানান শাতিলায় বেড়ে ওঠা ২৯ বছর বয়সী হাসান আবু আলী।
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রহীন শরণার্থী হিসেবে ফিলিস্তিনিরা ব্যাপক আইনি বৈষম্যের সম্মুখীন হন এবং তারা লেবাননে দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করেন।’
আবু আলি আরও বলেন, ‘কিন্তু যুদ্ধ শুরু হলে আমি শুধু ফিলিস্তিন বা ইউরোপে যেতে সক্ষম হব। কিন্তু ইউরোপে যেতে হলে একজন চোরাকারবারিকে ১০-১২ হাজার ডলার দেওয়া লাগবে। সেটা আমার পক্ষে অসম্ভব।’
অন্যদিকে শাতিলা ফিলিস্তিনি শরণার্থীশিবিরের বেশ কয়েকজন আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, ‘তাদের সহকর্মীরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে যোগ দেবেন, যদি এটি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ব্যাপক যুদ্ধ শুরু করে।’
সেখানে থাকা এক ব্যক্তি বলেন, ‘প্রথমত, লেবাননের সমস্ত শিবিরে প্রচুর প্রতিরোধযোদ্ধা রয়েছে। দ্বিতীয়ত, যদি একটা বড় যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে আমরা ভয় পাই না। আমাদের হাজার হাজার যোদ্ধা আছে, যারা ফিলিস্তিনকে মুক্ত করার জন্য শহীদ হতে প্রস্তুত।’
তবে হুমকি দিলেও হিজবুল্লাহর শক্তি ও অস্ত্রের বিবেচনায় ইসরায়েল লেবাননের বিরুদ্ধে বৃহত্তর যুদ্ধ শুরু করবে না বলছেন অনেকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিজবুল্লাহর অস্ত্রাগারে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, ইরাননির্মিত ক্ষেপণাস্ত্র এবং অত্যাধুনিক ড্রোন রয়েছে, যা ইসরায়েল সংঘাতকে গুরুতরভাবে বাড়ানো থেকে বিরত রাখছে।
