রাজধানী ঢাকায় এক রাতে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই সহোদরসহ চার যুবক নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে খিলক্ষেত, কান্টনমেন্ট ও কালশী এলাকায় ঘটা এসব দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে তিনজনই ছিলেন মোটরসাইকেল আরোহী।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাত থেকে গতকাল শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সময়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সড়ক দুর্ঘটনায় আরও চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
রাজধানী ঢাকায় ঘটা দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই সহোদর এবং মিরপুরের কালশীতে একজনের প্রাণ যায়। আরেকজনের মৃত্যু হয় ট্রাকে উল্টে পড়ে। নিহতরা হলেন আলফাজ (২৫), দুই সহোদর শাফিন (২১) ও রাফি (১৬) এবং রাহুল (২০)।
ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি মো. শাহীনুর রহমান জানান, দুই সহোদর শাফিন ও রাফি মোটরসাইকেলে করে ইসিবি চত্বর থেকে কালশী যাচ্ছিল। পথে সুমাত্রা ফিলিং স্টেশনের সামনে একটি ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে দুই ভাই মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে গুরুতর আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৩টার দিকে শাফিন এবং গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাফি মারা যান। এ ঘটনায় চালককে আটক বা ট্রাক জব্দ করা যায়নি। ঘটনার পরপর চালক ট্রাক নিয়ে পালিয়ে যায়।
চাচা মনির হোসেন জানান, নিহত দুজনের বাসা মিরপুর বাউনিয়াবাঁধ এলাকায়। রাতে শাফিন ও রাফি কালশী যাচ্ছিলেন মোটরসাইকেলে তেল আনতে। তাদের বাবার নাম জহিরুল ইসলাম পনির। মা জর্ডান প্রবাসী। শাফিন ডেলিভারিম্যানের চাকরি করতেন, আর রাফি গাড়িচালক ছিল। দুর্ঘটনার সময় মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন শাফিন।
খিলক্ষেতে পিক-আপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে পড়লে তাতে থাকা আলফাজ নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। ভাই মাহফুজ হোসেন জানান, আলফাজ একটি কোম্পানিতে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজ করতেন। রাত ১২টায় কাজ শেষে পিকআপ ভ্যানে বাসায় ফিরছিলেন। পিকআপ ভ্যানটি উল্টে পড়ে গুরুতর আহত হলে আলফাজকে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে তারা সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান তার ভাই বেঁচে নেই।
মিরপুরের কালশী এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাহুল নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে সেখানে রাত ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। নিহত রাহুল পল্লবীর কালশী এলাকার জহুরুল ইসলামের সন্তান। কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে অটোরিকশার সঙ্গে ধাক্কা লেগে ইয়াছিন হাসান (১৮) নামে মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও দুজন। গতকাল সকালে পৈলানপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ইয়াছিন হাসান গাজীপুরের কাপাসিয়ার করগাঁও এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে। আহত দুজন হলেন একই এলাকার মাসুদ মিয়ার ছেলে সানজিদ (১৯) ও আকবর আলীর ছেলে সিফাত (১৮)। তারা হাওরে ঘুরতে যাচ্ছিলেন।
নেত্রকোনা জেলা শহরে ট্রাকের ধাক্কায় সুজন চন্দ্র বর্মণ (৪০) নামে সিএনজিচালিত অটোরিকশার এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অটোরিকশাটির আরও তিনজন যাত্রী। গতকাল সকালে নেত্রকোনা-মোহনগঞ্জ সড়কে শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সুজন বর্মণ ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ধলা গ্রামের বরেন্দ্র চন্দ্র বর্মণের ছেলে। তিনি জেলার মোহনগঞ্জে বোনজামাইয়ের স্বর্ণের দোকানে কারিগর হিসেবে কাজ করতেন। সকালে সুজন স্ত্রীকে নিয়ে অটোরিকশায় শ্বশুরবাড়ি কিশোরগঞ্জে যাচ্ছিলেন।
ময়মনসিংহের নান্দাইলে ট্রাক্টর উল্টে তার নিচে চাপা পড়ে চালক সুজন মিয়া (৩৫) নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ের ১০টার দিকে চরবেতাগৈর ইউনিয়নের চরউত্তরবন্দ গ্রামে বেড়িবাঁধ রোডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সুজন মিয়া ওই গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে।
বগুড়ার শেরপুরে রাস্তা পারাপারের সময় ট্রাকচাপায় আলহাজ দেলবর উদ্দিন (৬০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পৌর এলাকার ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের হাজিপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দেলবর উদ্দিন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার পোয়ালগাছা গ্রামের মৃত নসির উদ্দিনের ছেলে। তিনি রাস্তার পূর্বপাশ থেকে পশ্চিম দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় একটি মাইক্রোবাস এসে মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিলে তিনি রাস্তায় পড়ে যান। পরক্ষণেই একটি দ্রুতগামী ট্রাক এসে দেলবর উদ্দিনের দেহের ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে তার দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।
নিজস্ব প্রতিবেদক এবং সংশ্লিষ্ট জেলা-উপজেলার প্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্যে প্রতিবেদনটি তৈরি।
