কালুরঘাট সেতু নির্মাণে কোরিয়ার সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। দেশটির এক্সিম ব্যাংক গত বৃহস্পতিবার ঋণ সহায়তার চুক্তি স্বাক্ষর করে। ১১ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার এ প্রকল্পে ৮ হাজার ২০০ কোটি ঋণ সহায়তা দেবে এক্সিম ব্যাংক। অবশিষ্ট ৩ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা বহন করবে বাংলাদেশ সরকার। ‘কনস্ট্রাকশন অব রেলওয়ে কাম রোড ব্রিজ অ্যাক্রোস দ্য রিভার কর্ণফুলী অ্যাট কালুরঘাট পয়েন্ট’ শীর্ষক প্রকল্পের পরিচালক পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা এ কথা জানান।
গোলাম মোস্তফা আরও বলেন, ‘ঋণের টাকায় নির্মাণকাজ ও বাংলাদেশ সরকারের টাকায় ভূমি অধিগ্রহণের কাজ করা হবে। আগামী মাসে ডিপিপি (বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাবনা) একনেকে অনুমোদনের পর ডিটেইল স্ট্যাডি হবে। সেই স্ট্যাডিতে নকশা চূড়ান্ত হওয়ার পর দরপত্র আহ্বান করা হবে। আর এগুলো সব শেষ করে নির্মাণকাজ শুরু করতে ২০২৬ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।’
জানা গেছে, ২০১৪ সালে কর্ণফুলী নদীর ওপর রোড কাম রেলসেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দুই লেনের সড়ক ও এক লেনের রেলসেতুর জন্য ১ হাজার ১৬৩ কোটি টাকার বাজেট ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু উচ্চতা জটিলতায় আটকে যাওয়া সেই নকশা ২০২২ সালে সংশোধন করে পদ্মা সেতুর আদলে ওপরে সড়ক ও নিচে রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। তখন বাজেট বেড়ে সাড়ে ৬ হাজার কোটিতে গিয়ে ঠেকে। আর এখন একই সঙ্গে রেল ও সড়ক সেতু নির্মাণের পরিকল্পনায় ১১ হাজার ৫৬০ কোটিতে গিয়ে ঠেকেছে কালুরঘাট সেতুর নির্মাণ খরচ।
তবে সেতুর নির্মাণ খরচ বা ডিজাইন নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই বোয়ালখালী-কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক আবদুল মোমিনের। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘১০ বছর ধরে কালুরঘাট সেতু নির্মাণের কথা বলা হচ্ছে। আমরা বোয়ালখালীবাসী এই সেতুর দাবি উত্থাপন করে আসছি। আমরা চাই, এবার আর যেন নকশা পরিবর্তনের কথা বলে কিংবা অন্য কোনো জটিলতার ইস্যু ধরে সেতু নির্মাণ পিছিয়ে না যায়।’ কালুরঘাট সেতু এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুচ ছালাম। তিনি বলেন, ‘একসময় তা স্বপ্ন ছিল। এখন প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছায় তা আলোর মুখ দেখছে। নতুন করে আর ডিজাইন পরিবর্তন হবে না। রেল কাম রোড সেতু নির্মিত হবে এই সেতুর ওপর দিয়ে।’
নকশায় কী পরিবর্তন আনা হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রকল্প পরিচালক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘প্রথমত আমরা নদীর ওপরে সেতুর উচ্চতা ১২ দশমিক ২ মিটার রাখছি। আগের নকশায় যা ৭ দশমিক ২ মিটার রাখা হয়েছিল। উচ্চতা বাড়ায় সেতুর উভয় পাশে রেললাইনের দৈর্ঘ্যও বেড়ে গেছে। বর্তমানে ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশনের দুই কিলোমিটার পর থেকে ডুয়েল গেজের ডাবল রেললাইনটি শুরু হবে কর্ণফুলী নদী পার হয়ে বোয়ালখালী গোমদন্ডী স্টেশনে গিয়ে তা নামবে।’ তিনি বলেন, ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন (ছয়টি রেললাইন) বসবে। এতে উভয় পাশ থেকে ট্রেন চলাচল করতে পারবে। একই সঙ্গে সেতুর ওপর ডাবল লেনের সড়ক ও ফুটপাতও থাকবে। ফলে রেল ও সড়ক একই সঙ্গে চলাচল করতে পারবে। বর্তমান কালুরঘাট সেতুর ৭০ মিটার উজান পয়েন্ট দিয়ে সেতুটি নির্মিত হবে। আর সেতু নির্মাণ শেষে বর্তমান রেলওয়ে সেতুটি তুলে নেওয়া হবে।
কালুরঘাট সেতু নির্মিত হলে কক্সবাজারের সঙ্গে পুরোদমে রেল যোগাযোগ স্থাপিত হবে। বর্তমানে পুরনো সেতু সংস্কার করে কম গতিতে রেললাইন চালানো হচ্ছে। রেললাইনের ওপর দিয়ে সড়কের যান চলাচলের জন্য পিচ ঢালাই করা হয়েছে। তা যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। সেতুর এক পাশে ওয়াকওয়েও চালু করা হয়েছে। বোয়ালখালী-পটিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের একাংশের নগরের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এই কালুরঘাট সেতু।
