ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদের ৫৭৭ জন সদস্যকে নির্বাচিত করতে আজ রোববার (৩০ জুন) ভোট দিচ্ছে দেশটির জনগণ। ফ্রান্সের নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, রোববার (৩০ জুন) প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ চলছে। সকাল ৬টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া। তবে প্যারিস এবং অন্যান্য বড় শহরগুলোতে ভোটকেন্দ্রগুলো সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত খোলা রাখা হবে।
ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদের নির্বাচন সাধারণত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরে অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু গত ২২ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই হচ্ছে জাতীয় পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচন পূর্ব সব জরিপে এগিয়ে ছিল ফ্রান্সের কট্টর ডানপন্থিরা। এবারের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ইতিহাস গড়ার আশা করছে তারা।
গত কয়েক দশকের মধ্যে এবার প্রথমবারের মতো অতি ডানপন্থি রাজনীতিবিদ মেরিন লে পেন এবং জর্ডান বারডেলার দল আরএন বেশ এগিয়ে রয়েছে। দলটি জিতলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো ফ্রান্সে অতি ডানপন্থিরা ক্ষমতায় আসবে। বুধবার স্থানীয় এক সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লে পেন বলেছেন, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জিততে যাচ্ছি আমরা। জিতলে বারডেলা প্রধানমন্ত্রী হবেন বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
তবে জনমত জরিপগুলো বলছে, আরএন এগিয়ে থাকলেও, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। তাদের দাবি, ভোটে ৩৩ থেকে ৩৬ শতাংশ ভোট পাবে আরএন। বামপন্থি জোট নিউ পপুলার ফ্রন্ট পাবে ২৮ থেকে ২৯ শতাংশ আর ম্যাক্রোঁর মধ্যপন্থি জোট পাবে ২০ থেকে ২৩ শতাংশ ভোট।
দুই পর্বের এ পার্লামেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ হবে ৭ জুলাই। তবে আগাম এই নির্বাচন নিয়ে ক্ষুব্ধ মাক্রোঁর মিত্ররা। কারণ স্বাভাবিক নিয়মে ২০২৭ সালের আগে পার্লামেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থীদের অগ্রগতিতে শঙ্কিত হয়ে নিজেদের কর্ত্বত্ব রক্ষা করতেই আগাম নির্বাচনের ডাক দিয়েছেন মাক্রোঁ।
আগের নির্বাচনগুলোতে ফ্রান্সের ভোটাররা কট্টর ডানপন্থি দলগুলোকে সামনে আসতে দেয়নি। কিন্তু এবার জ্বালানির দাম বৃদ্ধিসহ নানা কারণে ডানপন্থিদের দিকে ঝুঁকেছে দেশটির সাধারণ মানুষ। কারণ ডানপন্থিরা জ্বালানির ওপর ভ্যাট কমাতে এবং ৩০ বছরের কম বয়সীদের আয়কর থেকে মুক্তির আশ্বাস দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের নিশ্চয়তা দিলেন বাইডেন