রামেক হাসপাতাল

অনুপস্থিত থেকেও বেতন পাচ্ছেন দুই নার্স

আপডেট : ৩০ জুন ২০২৪, ১১:১৭ পিএম

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের দুই নার্স ছুটি নিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছেন। একজন ১৪ দিনের ছুটি নিয়ে ১ বছর ৭ মাস ধরে হাসপাতালে অনুপস্থিত। আরেকজন ৪৫ দিনের ছুটি নিয়ে ৯ মাস ধরে গায়েব। তাদের হাজিরা খাতায় উপস্থিতিও নেই। এরপরও তাদের বেতন চালু আছে। নিয়ম অনুযায়ী কর্মদিবসে অনুপস্থিত থাকলেই ব্যবস্থা গ্রহণের কথা। কিন্তু মাসের পর মাস তারা কর্মস্থলে না এলেও রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের বেতন চালু রেখেছেন রহস্যজনক কারণে। কর্মস্থলে হাজির না হলেও বেতন ভোগ করা এই দুই নার্স হলেন সিনিয়র স্টাফ নার্স সাইমা ইয়াসমিন ও জাকিয়া সুলতানা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাইমা ইয়াসমিন ২০২২ সালের ৯ নভেম্বর পরিচালক বরাবর ছুটির আবেদন করেন। ৯ নভেম্বর থেকে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি ২২ নভেম্বর পর্যন্ত ১৪ দিনের ছুটি নেন। ছুটি শেষ হলেও তিনি আর অফিসে আসেননি। তার হাজিরা খাতায় এই সময়ে প্রতিদিনই অনুপস্থিত দেখা যাচ্ছে। গত এক বছরে তিনি অনুপস্থিত থেকেও বেতন তুলেছেন ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫৬ টাকা।

আরেক সিনিয়র নার্স জাকিয়া সুলতানা গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ৪৫ দিনের অর্জিত ছুটি নিয়ে স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে যুক্তরাজ্য গেছেন। তার অফিসে যোগ দেওয়ার কথা ছিল গত বছরের ৩০ অক্টোবর। ছুটি শেষ হলেও তিনি আর অফিসে যোগ দেননি। অথচ তিনি অনুপস্থিত থেকেও তুলেছেন বেতন-ভাতা। গত আট মাসে তিনিও অনুপস্থিত থেকে বেতন তুলেছেন ২ লাখ ৮২ হাজার ২৭৬ টাকা। হাসপাতালের সংশ্লিষ্টরা তাদের অবস্থান না জানলেও একাধিক সূত্র বলছে, তারা দুজনই বিদেশে অবস্থান করছেন। 

এ বিষয়ে রামেক হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত নার্সিং সুপারিনটেন্ডেন্ট পারভিন আক্তার বলেন, আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। এ বিষয়গুলো আমরা খুব একটা জানা নেই। আমি এখন জানার চেষ্টা করছি। তবে এসব তথ্য পরিচালকের অনুমতি ছাড়া দেওয়া যাবে না।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. হাসানুল হাছিব বলেন, কারও অনুপস্থিতিতে বেতন হওয়ার কথা নয়। তারপরও তারা যেটি করেছেন এটি তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ পেলে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখব। রাজশাহী মেডিকেলের ১ হাজার ৩০০ নার্স রয়েছে। প্রত্যেকের খবর নেওয়া তো সম্ভব নয়। তবে নার্স সুপারিনটেন্ডেন্ট যদি অভিযোগ দেন। তবে সেটি আমলে নিয়ে সেই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। 

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. আনোয়ারুল কবীর বলেন, কেউ চাকরিবিধি লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে বিধান অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষ অবশ্যই ব্যবস্থা নেবেন। চাকরি করবে কিন্তু কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকে বেতন নেবে, এটি কাম্য নয়।

এ বিষয়ে সিনিয়র স্টাফ নার্স সাইমা ইয়াসমিন ও জাকিয়া সুলতানার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। জাকিয়া সুলতানার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থাকলেও সেটিতে কল ঢোকেনি। সাইমা ইয়াসমিনের মোবাইল নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ চালু নেই। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত