ইউরোপ পাঠাতে চেয়ে লিবিয়ায় নিয়ে জিম্মি, মূল হোতা গ্রেপ্তার

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৪, ০৫:২৪ এএম

ইউরোপে পাঠানোর কথা বলে লিবিয়ায় আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন করে দেশের স্বজনদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের প্রধান মোহাম্মদ মাহাবুব পাঠানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত ২৮ জুন সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গতকাল সোমবার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজাদ রহমান। তিনি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত মাহাবুব পাঠান দীর্ঘদিন ধরে সপরিবারে লিবিয়ায় অবস্থান করে সেখানে বেনগাজির বাংলাদেশি কমিউনিটিকে নেতৃত্ব প্রদানের আড়ালে মানব পাচার চক্র পরিচালনা করে আসছিলেন। চক্রটি বাংলাদেশিদের উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে ইউরোপে পাঠানোর কথা বলে লিবিয়া নিয়ে আটক রেখে শারীরিক নির্যাতন করে ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে মুক্তিপণ আদায় করত। এরপর বিপজ্জনক নৌযাত্রার মাধ্যমে ইউরোপে পাঠানোর চেষ্টা করত তারা। ২০২১ সালের মে মাসে ভূমধ্যসাগরে তিউনিসিয়া উপকূলে মাহাবুব পাঠানের চক্রের শিকার ৬৪ বাংলাদেশিসহ ১০৪ অভিবাসী ভাসতে থাকা অবস্থায় উদ্ধার হন। পরে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় তিউনিসিয়ায় থাকা এসব বাংলাদেশিকে ফেরত আনা হয়। তাদের মধ্যে একজন ভুক্তভোগী মিলন বেপারি (২৩)। শরীয়তপুরের নড়িয়া থানায় তিনি চক্রটির বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন মামলা করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওই মামলার তদন্তে নামে সিআইডি। তদন্তে উঠে আসে, চক্রটি মিলন বেপারি ও অন্য ভিকটিমদের এমিরেটসের ফ্লাইটে প্রথমে দুবাই নিয়ে যায়। এরপর সেখান থেকে প্লেনে মিসর হয়ে বেনগাজি নিয়ে যায়। সেখানে মাহাবুব পাঠান ও তার সহযোগীরা তাদের আটক রাখে এবং শারীরিক নির্যাতন করে। পরে সেই নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে ভিকটিমদের পরিবারের কাছে পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। তাদের দাবি অনুযায়ী, মিলনের মা বিউটি আক্তার ও চাচি মনি বেগম আসামিদের দেওয়া ব্যাংক হিসাবে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৮২০ টাকা পাঠান। এ ছাড়া চক্রের বাংলাদেশে থাকা সদস্য হেনা বেগমকে ৪ লাখ টাকা দেন। এরপর মাহাবুব পাঠান ও তার সহযোগীরা সুকৌশলে বাদীসহ অন্যান্য ভিকটিমকে ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে দ্বিতীয় পর্যায়ে লিবিয়ার ত্রিপোলিতে এ চক্রের সক্রিয় সদস্য মনিরের ক্যাম্পে পাঠান। মিলনকে আটক করে দ্বিতীয় দফায় শারীরিক নির্যাতন করে টাকা দাবি করেন। এরপর আবার মা ও চাচির কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা নেন। এভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে মিলনের পরিবার ১০ লাখ টাকা দেয়। ১৫ দিন সেখানে আটক ও নির্যাতন করে টাকা আদায়ের পর ইতালির উদ্দেশে ভূমধ্যসাগরে হাওয়ায় (বাতাসে) ভাসা একটি প্লাস্টিক নৌকায় আরও কয়েকজনের সঙ্গে মিলনকে তুলে দেওয়া হয়। মাহাবুব পাঠান আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত