আল-শিফার পরিচালককে মুক্তি দিল ইসরায়েল

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৪, ০৬:০২ এএম

গাজার সবচেয়ে বড় হাসপাতাল আল-শিফার পরিচালককে সাত মাস পর জিম্মিদশা থেকে মুক্তি দিয়েছে ইসরায়েল। গতকাল সোমবার বেশ কিছু ফিলিস্তিনিকে ছেড়ে দেয় ইসরায়েল। তাদের মধ্যে তিনিও রয়েছেন। চিকিৎসার স্বার্থে তাদের অবরুদ্ধ গাজায় ফেরত পাঠানো হয়। ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আল-শিফা হাসপাতালের প্রধান মোহাম্মদ আবু সালমিয়াকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পাশাপাশি গাজা উপত্যকার একটি মেডিকেল সূত্রও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গত নভেম্বরে তাকে আটক করা হয়।

গত ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাস হামলা চালানোর পর থেকে দেশটি গাজায় ব্যাপক হামলা শুরু করে। এতে আল-শিফা হাসপাতালটি প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। দেইর এল- বালাহ শহরের আল-আকসা হাসপাতালের একটি সূত্র এএফপিকে বলে, সালামিয়াসহ মুক্ত হওয়া অন্য ব্যক্তিরা খান ইউনিস শহরের পূর্বদিক দিয়ে গাজায় প্রবেশ করেছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে আল-আকসা হাসপাতালে ও অন্যদের খান ইউনিসের অন্যান্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দেইর এল-বালাহতে থাকা এএফপির একজন প্রতিনিধি দেখেছেন, ছাড়া পেয়ে বন্দিরা পরিবারের কাছে ফিরে এলে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। ইসরায়েলের অভিযোগ, হামাস সামরিক অভিযানের মুখে গাজার হাসপাতাল ও অবকাঠামোগুলো ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে।

গত মে মাসে ফিলিস্তিনি অধিকার সংগঠনগুলো বলেছিল, আটক অবস্থায় আল-শিফা হাসপাতালের একজন জ্যেষ্ঠ সার্জন নিহত হয়েছেন। তবে ইসরায়েলের দাবি, তারা এ বিষয়ে কিছু জানে না। গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ঢুকে হামাস যোদ্ধাদের হামলার মধ্য দিয়ে এ যুদ্ধ শুরু হয়। ইসরায়েলের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এএফপি জানায়, এ হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হয়। অন্যদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩৭ হাজার ৯০০ জন নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক মানুষ।

কিন্তু এত হতাহতের পরই ইসরায়েলি হামলা কমেনি। উল্টো গত মাস থেকে হামলার গতি আরও বাড়িয়েছে। গতকালও ২৪ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া ইসরায়েল পশ্চিমতীরেও অভিযান চালিয়েছে গতকাল। সেখানে এক নারী ও শিশুকে হত্যা করেছে তারা।

এমন পরিস্থিতিতে গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনায় কোনো ধরনের অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছেন লেবাননে অবস্থানরত হামাস নেতা ওসামা হামদান। একই সঙ্গে স্বাধীনতাকামী সংগঠনটির কাছে জিম্মি থাকা বাকিদের মুক্তির বিষয়টি নিয়েও কোনো অগ্রগতি নেই। এদিকে জিম্মিদের মুক্তি দাবিতে গত শনিবার ইসরায়েলে বিক্ষোভ করেছে লাখো মানুষ। লেবাননে এক সংবাদ সম্মেলনে গত রবিবার ওসামা হামদান বলেন, গাজায় ৯ মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে যেকোনো প্রস্তাব নিয়ে হামাস আলোচনায় প্রস্তুত। তিনি বলেন, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, গাজা উপত্যকা থেকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার এবং অর্থবহ বন্দিবিনিময় সমঝোতা নিশ্চিত করবে এমন যেকোনো ধরনের প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে নিতে আবারও প্রস্তুত রয়েছে হামাস।

যুক্তরাষ্ট্রসহ আরব মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি নিয়ে দুই পক্ষকে রাজি করাতে ব্যর্থ হয়েছে। এই অচলাবস্থার জন্য ইসরায়েল ও হামাস পরস্পরকে দায়ী করছে। হামাস বলছে, যেকোনো ধরনের চুক্তিতে অবশ্যই যুদ্ধ বন্ধ এবং ইসরায়েলি সেনাদের পুরোপুরি প্রত্যাহারের বিষয়টি থাকতে হবে।

ইসরায়েলের শর্ত মেনে নিতে হামাসের ওপর চাপ প্রয়োগ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন হামদান। তিনি আরও বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন করে কোনো প্রস্তাব পায়নি স্বাধীনতাকামী সংগঠনটি।

এক বিবৃতিতে হামাস জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনা করতে মিসরের গোয়েন্দাপ্রধানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়া।

অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আবার নতুন করে অঙ্গীকার করেন, জয়ের বিকল্প নেই। গত রবিবার তিনি তার মন্ত্রিসভাকে বলেন, ইসরায়েল গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে, যতক্ষণ না তারা পরাজিত এবং হামাসের হাতে ১২০ জন মৃত ও জীবিত পণবন্দিকে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রায় ১০ মাস দীর্ঘ এই যুদ্ধ চলবে ‘যতক্ষণ না আমরা আমাদের সব লক্ষ্য অর্জন করি’ সেই সঙ্গে হামাস ইসরায়েলের জন্য আর কোনো হুমকি সৃষ্টি করবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত