২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখাসহ চার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে ছাত্র সমাবেশ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২ জুলাই) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সড়ক ঘুরে প্রধান ফটক সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে গিয়ে শেষ হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা ৪টা ৩ মিনিট থেকে ৪টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত প্রতীকী অবরোধ করে সমাবেশ করেন। এ সময় সড়কের উভয় লেনে যানজটের সৃষ্টি হয়। সমাবেশে শিক্ষার্থীরা আগামীকাল বুধবার বিকেল ৩ টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেন।
শিক্ষার্থীদের বাকি দাবিগুলো হলো- ২০১৮ এর পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকুরিতে (সকল গ্রেডে) অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দিতে হবে এবং সংবিধান অনুযায়ী কেবল অনগ্রসর ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করা যেতে পারে, সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দিতে হবে, দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
সমাবেশে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাহফুজুল ইসলাম মেঘ বলেন, ‘আমরা স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও এসে দেখছি সরকারি চাকরিতে ৫৬% কোটা বিদ্যমান। এই বৈষম্যের জন্য কি আমরা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করোছিলাম? আনাদের মুক্তিযুদ্ধোরা কি এই বৈষম্যের জন্য যুদ্ধ করেছিলেন? আমরা আবারও যুদ্ধে নেমেছি এই বৈষম্য দূর করার জন্য। আগামী ৪ জুলাই যদি সরকার আমাদের দাবি মেনে না নেয় তাহলে সারাদেশ অচল করে দেওয়া হবে। আমরা কতৃপক্ষকে বলতে চাই, আপনারা সর্বসাধারণের রায় মেনে নিয়ে বৈষম্য দূর করুন। আর যদি এই বৈষম্য জারি রাখেন তাহলে বাংলার অদম্য সেনারা তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখবে।’
নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৫১ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সোহাগী সামিয়া বলেন, ‘দিনে দিনে সারা বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। যে পরিমাণে প্রতিবছর উচ্চশিক্ষিত মানুষ বের হচ্ছে সেই পরিমাণে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে না। সরকারের কোনো চিন্তা নেই কীভাবে এই বেকারত্বের সংখ্যা কমানো যায় উল্টো এই বৈষম্যমূলক কোটা প্রথার মাধ্যমে বেকারত্বের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করার পায়তারা চলছে। বিগত কয়েক বছর ধরে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে, নতুন এই তালিকা চেক করলে দেখা যাবে এখানে অনেক মুক্তিযোদ্ধাদের বয়স মুক্তিযুদ্ধের সময় ২ বছর ছিলো। এখন যারা সরকারের চাটুকারিতা করে তাদেরকে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নতুনভাবে যুক্ত করা হচ্ছে। এই মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রেখে বোঝানো হচ্ছে যারা সরকারের চাটুকারিতা করবে শুধু তাদেরই এই দেশে চাকরি দেওয়া হবে।
আগামীকাল বুধবার দুপুর তিনটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তজার্তিক সম্পর্ক বিভাগের ৪৯ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তৌহিদ সিয়াম বলেন, আগামী ৪ জুলাই কোটা নিয়ে আপিল বিভাগের শুনানি আছে। তাই এই আন্দোলন বেগবান করতে বুধবার বিকেলে দুই ঘণ্টা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পেনশন স্কিম নিয়ে আন্দোলন করছেন। তাদের আন্দোলনে আমাদের মৌন সমর্থন রয়েছে। কিন্তু তাই বলে যদি তারা লাইব্রেরি বন্ধ করে, হল বন্ধ করার পায়তারা করে তাহলে প্রশাসনকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
