‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমা মুক্তির বছর পেরিয়ে গেলেও এরপর নতুন আর কোনো সিনেমার খবর পাওয়া যায়নি এর নায়িকা তমা মির্জার। রায়হান রাফি পরিচালিত এই সিনেমাটি ব্যবসায়িকভাবে সফল হওয়ার পর অনেকেই ধারণা করছিলেন এই জুটির হয়তো সামনে আবারও সিনেমা আসবে।
এর মধ্যে এই নায়িকার একটি ওয়েবের খবর এলেও আসেনি সিনেমার খবর। অনেকেই বলছিলেন, হয়তো হারিয়ে গেলেন তমা! সেসব গুঞ্জনকে উড়িয়ে এই নায়িকা জানালেন নতুন খবর। এরই মধ্যে নতুন দুটি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি। খুব শিগগিরই নামবেন শুটিংয়ে। তবে এখনই বিস্তারিত বলতে নারাজ। দেশ রূপান্তরকে তমা মির্জা বলেন, ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমার পর অনেক কাজেরই প্রস্তাব এসেছে। অনেকগুলো ফিরিয়ে দিয়েছি আর কিছু কাজ নিয়ে কথাবার্তা এগিয়েছি। এখন তো প্রোডাকশন হাউজগুলো অনেক রেস্ট্রিকশন দিয়ে দেয়। তাদের ঘোষণার আগে কিছু বলা যাবে না। সে কারণে চূড়ান্ত হলেও অনেক সময় আমরা অনেক কিছু বলতে পারি না। এই যেমন নতুন দুটি সিনেমার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। কিন্তু এর চেয়ে বেশি এখন আর কিছু বলা যাবে না, ঘোষণা আসার অপেক্ষা করতে হবে। এই বছরে রিলিজ হবে কি না জানিনা, তবে মাস দুয়েকের মধ্যে শুটিং শুরু হবে। এর মধ্যে অঞ্জন দত্তের একটা ওয়েব শেষ করেছি যেটা শিগগিরই মুক্তি পাবে বিঞ্জে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মনের মতো গল্প কিংবা চরিত্র পাচ্ছিলাম না। যার কারণে এতটা সময় লাগছে। গত কয়েক বছর ধরে নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়ার চেষ্টা করছি। এই সময়ে যেসব কাজের প্রস্তাব পেয়েছি তার বেশির ভাগই আগে করে এসেছি। যা আগে করে এসেছি তা এখন করার তো কোনো মানে নেই। নতুন কিছু করতে হবে।’
গ্ল্যামারাস হিরোইন নাকি অভিনেত্রী, কোন বিষয়টা এখন বেশি টানে আপনাকে, এমন প্রশ্নে ‘সুড়ঙ্গ’ খ্যাত এই নায়িকা বলেন, ‘আমি তো কমার্শিয়াল সিনেমার নায়িকা। যেকোনো কাজের ক্ষেত্রে এখন আমি টিমটা দেখি। পরিচালক, সহশিল্পী এবং প্রোডাকশন হাউজ। এই সবগুলো ভালো হলে এবং সেখানে যদি আমার অভিনয়ের সুযোগ থাকে তাহলে অবশ্যই সেটা করব আমি। আমি তো একইসঙ্গে দুটোই চাইব, গ্ল্যামার এবং অভিনেত্রী। যদি একটাই বেছে নিতে হয় তাহলে অভিনয়ের সুযোগ কতটা আছে সেটা দেখব।’
সাম্প্রতিক সময়ে একটা বিষয় দেখা যাচ্ছে যে, কাজ নিয়ে যতটা আলোচনা হয় তার চেয়েও বেশি হচ্ছে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে। কাজের মাধ্যমে আলোচনায় থাকতে না পেরে অনেক নায়িকারাই ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বারবার কথা বলতে পছন্দ করেন এবং সেটা করছেনও। এই বিষয়টা আপনি কীভাবে দেখেন, এমন প্রশ্নে তমা মির্জার উত্তর, ‘দেখেন, একটা সময় মাইকিং করে সারা দেশে সিনেমার প্রচার করা হতো এখন সেটা হয় সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। এখন এত এত মাধ্যম প্রচারের যেটা অবশ্যই পজেটিভ দিক। যার কারণে এটা বেশি বেশি চোখে পড়ে। আর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যদি বলি, এতে আমি শুধু শিল্পীদেরই দোষ বলব না, সবারই আছে। কোনো শিল্পী কোথাও গেলে সেখানে সাংবাদিকদের পাশাপাশি অনেক ইউটিউবাররাও চলে আসে এবং সেখানে তাদের ব্যক্তিগত প্রশ্নই করা হয় বেশি। শিল্পীরা এটা বারবার ফেস করেন এবং বিভিন্ন উদ্ভট প্রশ্নের মুখোমুখি হন। এরপর একটা সময়ে গিয়ে হয়তো সেই শিল্পী তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলেন। এরপর থেকে সেটা সোশ্যাল মিডিয়ার সবখানে ছড়িয়ে যায় এবং সেটাকে জড়িয়ে বারবারই প্রশ্ন চলমান থাকে, যার কারণে এমনটা হয়। তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সবার আগ্রহ থাকে বলেই এই বিষয়গুলো চলতে থাকে। এক্ষেত্রে আমি অবশ্যই বলব, শিল্পীদের আরও সংযত হওয়া উচিত এবং কোথায় কী বলতে হবে, কতটুকু বলতে হবে সেটা বোঝা উচিত।’
