বাংলাদেশ, ভারত বা পাকিস্তানে প্রতারণা ও জালিয়াতির ঘটনায় জড়িতদের বা তাদের কর্মকাণ্ডকে ফোর টোয়েন্টি বা ৪২০ বলাটা সংস্কৃতি তথা ভাষার অংশ হয়ে উঠেছিল। ১৮৬০ সালে তৈরি হওয়া ‘ইন্ডিয়ান পেনাল কোড বা ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪২০ ধারাটি ভারতীয় দণ্ডবিধিতে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু দেড়শ বছরের পুরনো সেই আইন বদল হয়েছে ভারতে। গত সোমবার বিদায় হয়েছে আলোচিত ধারাটি। সেই ধারা বদলে গেছে নতুন করে কার্যকর হওয়া ভারতের ন্যায় সংহিতা আইনে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, ভারতে দণ্ডবিধি আইনকে আমূল পরিবর্তন করে চালু করা হয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএস। এই বিএনএস অনুযায়ী প্রতারণা ও জালিয়াতির ধারা বদলে হয়েছে ৩১৮(৪) ধারা। আবার গৃহবধূ নির্যাতনের ধারা ছিল দণ্ডবিধির ৪৯৮-এ। নতুন কার্যকর হওয়া ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় সেই ধারা বদলে হয়েছে ৮৫। এ ছাড়া কিছু দণ্ডের ধারা বদলে গেছে ন্যায় সংহিতায়।
তবে ৩০ জুন রাত ১২টার আগে সংঘটিত অপরাধের বিচার হবে ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুয়ায়ী, আর রাত ১২টার পর সংঘটিত অপরাধের জন্য এই আইন কার্যকর হবে নতুন ন্যায় সংহিতার ধারা অনুযায়ী।
ভারতীয় সরকারের দাবি, নতুন আইনগুলো একটি আধুনিক বিচারব্যবস্থা নিয়ে এসেছে, যেখানে শূন্য এফআইআর, পুলিশ অভিযোগের অনলাইন নিবন্ধন, এসএমএসের মতো ইলেকট্রনিক মোডের মাধ্যমে সমন এবং সমস্ত জঘন্য অপরাধের জন্য অপরাধের দৃশ্যের বাধ্যতামূলক ভিডিওগ্রাফির মতো বিধানগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
১৮৯৮ সালের ক্রিমিনাল প্রসিডিউর অ্যাক্ট বা ফৌজদারি বিধির পরিবর্তে ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’ এবং ১৮৭২ সালের ইন্ডিয়ান অ্যাভিডেন্স অ্যাক্ট বা ভারতীয় সাক্ষ্য আইনের বদলে ‘ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম’ ফৌজদারি আইন কার্যকর হয়েছে গত সোমবার থেকে।
২০২৩ রাজ্যসভায় তিন ফৌজদারি সংশোধনী বিল নিয়ে বিতর্কের সময় প্রবীণ আইনজীবী ও সাংসদ মহেশ জেঠমালানি বলেছিলেন, ৪২ বছর ধরে আইনের জগতে রয়েছি। কিছু পুরনো আইন অবশ্যই বাতিল করা উচিত। তার মধ্যে কিছু বিষয় আমরা ‘মিস’ করব। ৪২০ ধারা আমাদের মাথায় ছাপা হয়ে রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ৪২০ ধারা বাতিল হওয়ার এক ব্যক্তি লিখেছেন, এবার কি তাহলে প্রবাদেরও বদল হবে!
ভারতীয়দের প্রবাদে, সিনেমায়, গল্পে কিংবা দৈনন্দিন জীবনে প্রতারণার সঙ্গে ৪২০ যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল। প্রচারের মঞ্চে রাজনীতিকরা প্রায়ই বিরোধীদের বলে থাকেন ৪২০। হাটে-বাজারে লোকজন অনায়াসে বলে থাকে ৪২০।
