গত বছরের জুলাই মাসে বেসরকারি খাতের ১২ কেজি ওজনের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম ছিল ৯৯৯ টাকা। এখন সেই দাম ৩৬৭ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৩৬৬ টাকা হয়েছে। একইভাবে অন্যান্য আকারের এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি বেড়েছে গাড়িতে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দাম।
চলতি জুলাই মাসের জন্য ১২ কেজি ওজনের এলপি গ্যাসের দাম ১ হাজার ৩৬৩ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৩৬৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর গাড়িতে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ৬২ টাকা ৭০ পয়সা, যা এতদিন ছিল ৬২ টাকা ৫৩ পয়সা।
তবে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম ৬৯০ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে এখন পর্যন্ত। যদিও সারা দেশে চাহিদার তুলনায় এটি মাত্র ১ থেকে দেড় শতাংশের মতো সরবরাহ করার সক্ষমতা রয়েছে। আবার যেটুকু সরবরাহ করা হয় তা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
চলতি মাসের জন্য গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) হলরুমে সংবাদ সম্মেলনে এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করেন সংস্থার চেয়ারম্যান নুরুল আমিন।
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির মূল্য নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। যদিও কমিশন নির্ধারিত দামে বাজারে এলপিজি পাওয়ার নজির খুব একটা নেই। কমিশন যে দামই নির্ধারণ করুক না কেন ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছেমতো বাড়তি দামে এলপিজি বিক্রি করছেন। বিষয়টি সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকে সবারই জানা।
এমন অভিযোগের বিষয়ে বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে তদারকি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিইআরসি প্রতি কেজি এলপিজির খুচরা দাম ১১৩ টাকা ৮৬ পয়সা নির্ধারণ করেছে। সে অনুযায়ী সাড়ে ৫ কেজি থেকে ৪৫ কেজি ওজনের বোতলজাতকৃত এলপিজির দাম বেড়েছে। এর আগে অবশ্য টানা তিন মাস এলপি গ্যাসের দাম কমানো হয়। গত বছরের জুলাই মাসে ১২ কেজির এলপিজির দাম সর্বনিম্ন ছিল (৯৯৯ টাকা)। এরপর ৮ মাসের ব্যবধানে গত মার্চ মাসে সমপরিমাণ এলপিজির দাম বেড়ে ১৪৮২ টাকা দাঁড়িয়েছিল। এভাবে গত এক বছরে দাম কখনো কমানো আবার কখনো বাড়ানো হয়।
এলপিজি মূলত প্রোপেন ও বিউটেনের একটি মিশ্রিত অনুপাত। এই দুটিই আমদানি করা হয়। সৌদি আরামকোর ঘোষিত মূল্য (সৌদি সিপি) ধরে দেশে এলপি গ্যাসের দাম ঠিক করে বিইআরসি। এলপিজি আমদানিকারক কোম্পানিগুলোর ইনভয়েস মূল্যকে আমলে নিয়ে দর ঘোষণা করে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সৌদি আরামকোর মাধ্যমে নির্ধারণ করা দাম অনুযায়ী প্রোপেন ও বিউটেনের গড় মূল্য প্রতি মেট্রিক টন ৫৭০ দশমিক ২৫ মার্কিন ডলার এবং মুদ্রা বিনিময় মূল্য ১১৮.৪৭ টাকা বিবেচনায় এলপিজির নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে।
এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বাসাবাড়িতে পাইপলাইনে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকটের কারণে গৃহস্থালি রান্নার পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, পরিবহন, ছোট-বড় শিল্পকারখানায়ও এলপিজি ব্যবহার বাড়ছে। এই বাজারের অন্তত ৯৯ শতাংশ বেসরকারি খাতের দখলে।
পাইপলাইনের গ্যাসের সংকটে এলপি গ্যাস দেশজুড়ে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে অনেক বাসায় এলপিজি নিত্যপণ্য হয়ে উঠেছে। বিইআরসি প্রতি মাসের শুরুতে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দেয়।
