বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও পরিবেশবান্ধব করতে চলতি বছর সেপ্টেম্বর থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় বিদ্যুতের লাইন ভূগর্ভস্থ করার কাজ শুরু হচ্ছে। ইতিমধ্যে ওই প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। চীনার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ কাজ পেয়েছে। শিগগিরই তাদের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট পিডিবির কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘চট্টগ্রাম জোনের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প (ফেস-২) চলমান আছে। প্রকল্পের আওতায় বৃহত্তর চট্টগ্রামে (পার্বত্য এলাকা ছাড়া) ২২টি ৩৩/১১ কেভি নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে ১৪টি উপকেন্দ্র নির্মাণ হবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায়। আপগ্রেডেশন করা হবে আটটি উপকেন্দ্র।
একই প্রকল্পের আওতায় বৃহত্তর চট্টগ্রামে ৩ হাজার ৮৫০ কিলোমিটার বিতরণ লাইন নির্মাণকাজও চলমান আছে। ইতিমধ্যে ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার বিতরণ লাইন নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প কর্মকর্তা পিডিবির প্রকৌশলী মোহাম্মদ সামছুদ্দিন।
সূত্রটি জানিয়েছে, ২২টি উপকেন্দ্রের মধ্যে ৪টি স্থাপন হবে পিডিবির নিজস্ব জমিতে। ১৭টি উপকেন্দ্র নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় বৃহত্তর চট্টগ্রামে ২ হাজার ৫৯৮ কিলোমিটার নতুন বিতরণ লাইন নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি আপগ্রেডেশন ও রেনোভেশন করা হবে ১ হাজার ৫৪১ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন।
প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং বলে মন্তব্য করে পিডিবি দক্ষিণাঞ্চলীয় জোনের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন (ফেস-২) প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী মো. সামছুদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রকল্পের লক্ষ্য হচ্ছে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার ক্ষমতা বর্ধিতকরণ, সম্প্রসারণ, নবায়ন ও পুনর্বাসন করা। উদ্দেশ্য ২০৩০ সাল নাগাদ গ্রাহককে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।
পিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, ফেস-২ প্রকল্পের আওতায় মালামাল ক্রয়বাবদ (পিসি পোলসহ) ব্যয় হয়েছে ৭০০ কোটি, জমি অধিগ্রহণ ২৩০ কোটি, কাজ সম্পাদন বাবদ ৯৬ কোটি টাকা। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে অন্তত ছয় লাখের বেশি নতুন গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসবে। জাইকার অর্থায়নে বিশেষ এ প্রকল্পের করছে ২৫টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
পিডিবি ওই সূত্রটি জানিয়েছে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ৪১টি ওয়ার্ড এলাকায় ভূগর্ভস্থ লাইন নির্মাণকাজ শুরু করতে স্টেকহোল্ডার হিসেবে চসিক, ওয়াসা, রেলওয়ে, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল), সড়ক ও জনপথসহ অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষ হয়েছে।
জানা গেছে, ২০১৬ সালে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশের মেট্রোপলিটন এলাকায় ভূগর্ভস্থ কেবল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। তবে মাটির নিচে বিদ্যমান ইউটিলিটি লাইনের অপ্রতুল নকশা ও অন্যান্য সেবা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের অভাবে এ কাজে এতদিন গতি আসেনি।
চট্টগ্রাম জোনের ‘বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন’ প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বলেন, ‘লাইন নির্মাণ, মালামাল ক্রয় ও ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ মোট বরাদ্দের ৩৪ শতাংশ অর্থাৎ ১ হাজার ২৬ কোটি টাকা এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে।’
পিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, ঢাকা শহরের মতো জনবহুল এলাকায় বিদ্যুতের নিরাপত্তা বিধান এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সৃষ্ট বিপর্যয় মোকাবিলায় ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন অত্যন্ত নিরাপদ ও সহায়ক।
