বরিশালে পানির নিচে আমনের বীজতলা, দুশ্চিন্তায় কৃষক

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৪, ০১:৪২ এএম

বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় গত এক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টির কারণে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে আমন ধানের বেশিরভাগ বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

চাষিদের অভিযোগ, গত মে মাসের শেষদিকে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে ধানক্ষেতে জমে থাকা পানি সঠিক সময়ে স্লুইস গেট দিয়ে বের করা হয়নি। ওই পানির সঙ্গে আবার বৃষ্টির পানি জমে কৃষকদের বীজতলা এখন ৩ থেকে ৪ ফুট পানির নিচে ডুবে গেছে।

বরগুনার বেতাগী উপজেলার সুবোধ হাওলাদার জানান, গত ২১ জুন তিনি আমনের বীজতলা তৈরি করেন। কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে তলিয়ে যায় তার বীজতলা। তার উপজেলার বেশিরভাগ কৃষকের বীজতলা পানির নিচে ডুবে রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় কেটে যাওয়ার এতদিনেও বীজতলাগুলো থেকে পানি নামেনি।

সুবোধ হাওলাদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রিমালের পানি এবং টানা বেশ কয়েক দিন বৃষ্টির কারণে আমার বীজতলায় পানি জমেছে। ২০ শতাংশ পরিমাণ জমিতে তিনটি বীজতলার সব বীজধান নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে আবার বীজধান ফেলতে হবে। আমার চাষ, বদলা (শ্রমিক) এবং বীজধান নিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চর রঙ্গশ্রী এলাকার কৃষক আবুল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সম্পূর্ণ বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। পরে আবার বীজ তৈরির জন্য ধান ভিজিয়েছি। তাও বৃষ্টির জন্য বীজ ফেলতে পারিনি। এখন বাড়িতে হয়তো বীজতলা তৈরি করতে হবে।’

ঝালকাঠির নলছিটি পৌর এলাকার কৃষক বেলাল হাওলাদার ও আবু বকর হাওলাদার মিলে ৩০ শতাংশ জমিতে আমনের বীজতলা তৈরি করেছেন। কিন্তু টানা বৃষ্টি কারণে তাদের বীজতলাতে পানি জমে ধান পচে গেছে। এতে তাদের জমি প্রস্তুত করাসহ সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে বলে জানান।

একই এলাকার বাসিন্দা চাষি সুজন মৃধা বলেন, ‘আমার ৫ শতাংশ জমির বীজতলা সম্পূর্ণ পচে গেছে। এ রকম বৃষ্টি থাকলে কৃষকরা এবার আমন চাষ করতে পারবে না।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক মো. শওকত ওসমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই মৌসুমে বিভাগের ছয় জেলায় ৭ লাখ ১ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে পুনর্বাসন এবং প্রণোদনার আওতায় বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬৮ জন কৃষককে সার এবং বীজধান দেওয়া হচ্ছে। যা পুরো জুলাই মাস ধরে বিতরণ করা হবে বলে জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত