মশা একটি সাধারণ কীটপতঙ্গ। ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু জ্বর, হলুদ জ্বর, চিকুনগুনিয়া এবং অন্যান্য রোগ মশার কামড়ে হয়। বর্ষার সময় মশাবাহিত রোগের সংক্রমণ বাড়ে।
মশার কামড়ে যে রোগ
ম্যালেরিয়া : ম্যালেরিয়া হলো প্লাজমোডিয়াম পরজীবী দ্বারা সৃষ্ট একটি তীব্র জ্বরের অসুস্থতা। সাধারণত জ্বর, মাথাব্যথা এবং ঠান্ডা লাগা হিসেবে প্রকাশ পায়। ১০ থেকে ১৫ দিন পরে জ্বরের সংক্রমণ বোঝা যায়। ফ্যালসিপেরাম ম্যালেরিয়ার চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে এটি ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে গুরুতর অসুস্থতা এবং মৃত্যুর দিকে অগ্রসর হতে পারে।
ডেঙ্গু : ডেঙ্গু জ্বর, ‘ব্যাকবোন ফিভার’ নামেও পরিচিত। ডেঙ্গু ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হয় এবং স্ত্রী মশা দ্বারা ছড়ায়। এই মশাগুলো জিকা, হলুদ জ্বর এবং চিকুনগুনিয়া ভাইরাস ছড়াতে পারে। ডেঙ্গু জ্বরের তিনটি ধরন আছে ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’। প্রথম ক্যাটাগরির রোগীরা স্বাভাবিক থাকে। তাদের শুধু জ্বর থাকে। অধিকাংশ ডেঙ্গু রোগী ‘এ’ ক্যাটাগরির। তাদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন নেই। বাড়িতে বিশ্রাম নেওয়াই যথেষ্ট। ‘বি’ ক্যাটাগরির ডেঙ্গু রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া লাগতে পারে। কিছু লক্ষণ, যেমন পেটে ব্যথা, বমি, ডায়াবেটিস, স্থূলতা, অন্তঃসত্ত্বা, জন্মগত সমস্যা, কিডনি বা লিভারের সমস্যা থাকলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়াই ভালো। ‘সি’ ক্যাটাগরির ডেঙ্গু জ্বর সবচেয়ে খারাপ। এতে লিভার, কিডনি, মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউর প্রয়োজন হতে পারে।
চিকুনগুনিয়া : চিকুনগুনিয়া হলো চিকুনগুনিয়া ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট সংক্রামক রোগ। দুটি মশার প্রজাতি, এডিস অ্যালবোপিকটাস এবং এডিস ইজিপ্টাই ভাইরাসটি মানুষের মধ্যে প্রেরণ করে। চিকুনগুনিয়ার লক্ষণগুলো প্রায়ই সংক্রমণের এক সপ্তাহ পরে দেখা দেয়। চিকুনগুনিয়া হঠাৎ করে জ্বর শুরু হওয়ার দ্বারা আলাদা করা হয়, যা প্রায়ই জয়েন্টের ফোলা এবং ব্যথার সঙ্গে থাকে। জয়েন্টে ব্যথা কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে, তবে এটি সপ্তাহ, মাস বা এমনকি বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এটি সাধারণত বেশ বেদনাদায়ক, কখনো কখনো ডেঙ্গু সংক্রমণের চেয়েও খারাপ।
সংক্রমণের লক্ষণ
বেশিরভাগ সময় ছোটখাটো লক্ষণ দেখায়। হালকা জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং ফুসকুড়ি সাধারণ লক্ষণ। কিন্তু যদি রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব মস্তিষ্কের টিস্যু বা মস্তিষ্কের আশপাশের ঝিল্লি (এনসেফালাইটিস) এবং মেরুদন্ডের কর্ড (মেনিনজাইটিস) ক্ষতিগ্রস্ত করে তবে গুরুতর অসুস্থতার কারণ হতে পারে। গুরুতর অসুস্থ হলে যে লক্ষণগুলো প্রকাশ পাবে তাহলো দ্রুত জ্বর বাড়া, মাথাব্যথা, মল বা প্রস্রাবে রক্ত, পেশির খিঁচুনি, হৃদরোগের আক্রমণ, বমি বমি ভাব।
চিকিৎসা
মশা দ্বারা ছড়ানো বেশিরভাগ রোগের কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। ম্যালেরিয়া ওষুধের মাধ্যমে সহজেই নিরাময়যোগ্য কিন্তু ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়ার বিরুদ্ধে কোনো ওষুধ নেই, কারণ এগুলো ভাইরাল রোগ। জটিলতা দেখা দিলে তাদের সহায়ক থেরাপি এবং অঙ্গ-নির্দিষ্ট থেরাপির প্রয়োজন। শরীরের ব্যথা, জ্বর, ফুসকুড়ি এবং অন্য উপসর্গগুলোর চিকিৎসার জন্য ওষুধ ব্যবহার করা হয়। পরিস্থিতিতি খারাপ হলে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হতে পারে।
প্রতিকার
মশা নিরোধক ইলেকট্রিক কয়েল, অ্যারোসল, লিকুইড ভ্যাপোরাইজার ব্যবহার,পানি জমার স্থান নিয়মিত পরিষ্কার, বাড়িতে মশার নেট ব্যবহার, মশা তাড়াতে লোশন, রোল-অন এবং ক্রিম ব্যবহার করা, বাড়িতে মশার কয়েল ব্যবহার।
