দণ্ডায়মান হয়ে স্ট্রেচারে শুয়ে ৯ বছরের শিশু রাসেল। পড়নে সাদা রঙের টি-শার্ট। গাঢ় লাল রঙের একটি গামছায় বুক পর্যন্ত ঢাকা। একটু পর পর ব্যাথায় কুকড়ে যাচ্ছিল শিশুটি। কোমরের নিচ থেকে ছোপ ছোপ রক্ত। দেয়ালচাপায় কাটা পড়েছে রাসেলের ডান পা। বাম পায়ের অবস্থাও ভাল নয়। অসহায় বাবা, মা প্রতিকার চাইতে এ অবস্থাতেই তাকে নিয়ে এসেছেন হাইকোর্টে।
আজ রবিবার (৭ জুলাই) দুপুরে হাইকোর্টে এমন দৃশ্যের দেখা মেলে। রাসেলের জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা হয়েছে রিট আবেদন। বেলা দুইটার পর বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চে আবেদনটি শুনানির জন্য উঠে। প্রায় আধাঘণ্টা শুনানিকালে এজলাসের ভেতরেই স্ট্রেচারে শুয়েছিল রাসেল। আদালত রিট আবেদনটি যথাযথ না হওয়ায় এটি অধিকতরভাবে প্রস্তুত করে আনতে আইনজীবী মোহাম্মদ সালাহ্ উদ্দিন সিকদারকে নির্দেশ দেন। রাসেলের বাবা দেলোয়ার হোসেন দুলাল নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করেন।
ঘটনাটি গত ১১ মে রাজধানীর ডেমরার কোনাপাড়া এলাকার আব্দুল বারেক মজুমদার সড়কের একটি গলিতে। শিশু রাসেল বাবা, মায়ের সঙ্গে ওই এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে থাকে। ওই দিন ২৪৭/২ বাড়ির বাউন্ডারির ভেতর মাটি কাটার ভেকু মেশিনের (এক্সকাভেটর) ধাক্কায় নির্মাণাধীন একটি বাড়ির দেয়ালে চাপা পড়ে রাসেলসহ কয়েকজন। ঘটনাস্থলে টুটুল নামে এক পথচারী নিহত হন। আরও এক শিশু আহত হয়। দুই পায়ে গুরুতর আঘাত পাওয়া রাসেলকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজে। সেখান থেকে আগারগাঁও পঙ্গু হাসপাতালে। শিশুটির প্রাণ বাচাতে চিকিৎসকেরা রাসেলের ডান পা কেটে ফেলেন। চিকিৎসকের বরাতে রাসেলের স্বজনেরা বলেছেন, তার বাম পায়ের অবস্থাও বেশি ভাল নয়। উন্নত চিকিৎসা না হলে সেটিও কেটে ফেলতে হতে পারে।
অ্যাডভোকেট সালাহ্ উদ্দিন সিকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঘটনাটি খুবই মর্মস্পর্শী। শিশুটি দরিদ্র পরিবারের মাদ্রাসায় পড়ে। যার বাসার দেয়াল ধ্বসে এই দুর্ঘটনা তিনি কেবল ৬০ হাজার টাকা দিয়ে দায় সেরেছেন। শিশুটির ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমরা হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করেছি। তিনি বলেন, আদালত বলেছিলেন ক্ষতিপূরণ চেয়ে দেওয়ানি আদালতে মামলা করতে। কিন্তু সেখানে মামলাটি দীর্ঘসূত্রতায় পড়তে পারে বলেই উচ্চ আদালতে এসেছি। আবেদনটি যথাযথ হয়নি বলে এটিকে অধিকতর সংশোধন করে নিয়ে আসতে বলেছেন। চলতি সপ্তাহে সংশোধন করে আবারও উপস্থাপন করা হবে। রাসেলের বাবা দেলোয়ার হোসেন দুলাল বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ। ছেলেডার জীবনডা চোখের সামনে নষ্ট হইতেছে। দিনরাত ব্যাথায় কাঁদে। দুই লাখ টাকার মতো খরছ হয়ে গেছে। ঋণ আর ধার দেনা করে চিকিৎসা করাইতেছি। আর পারতেছিনা দেইখ্যা হাইকোর্টে আসছি।’
