পাবনায় পেঁয়াজের দাম ঠিক করেন ঢাকার ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৪, ০২:৪১ এএম

উৎপাদন এলাকা পাবনায় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। সেখানকার পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঢাকার ব্যবসায়ীরা পাবনার বাজারে পেঁয়াজের দাম ঠিক করে দেন। তা ছাড়া মজুদদাররা পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ছেন না।

এদিকে রাজধানীতে দেশি পেঁয়াজের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের পেঁয়াজের কেজিতে ২৫-৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর মধ্যে আমদানি করা পেঁয়াজের কেজিতে ২০ ও দেশি পেঁয়াজের কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকা। আবার এলাকা ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১৩০ টাকাও বিক্রি করতে দেখা গেছে। অথচ মাত্র এক সপ্তাহ আগেও খুচরা বাজারে পেঁয়াজের কেজি ছিল ৮৫ থেকে ৯০ টাকা।

সরেজমিনে গতকাল রবিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দামের ভিন্ন ভিন্ন পার্থক্য দেখা যায়। বাজারগুলোয় প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২৫ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছিল ৮৫ থেকে ৯৫ টাকার মধ্যে। তা ছাড়া আমদানি করা প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল ১১০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে। কিন্তু মগবাজার, মালিবাগ ও মতিঝিল এলাকার মহল্লার দোকানগুলোয় প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১৩০ টাকা করে বিক্রি হয়েছে।

জানতে চাইলে মগবাজার মহল্লার বাচ্চু স্টোরের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ বাচ্চু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার কারণে খুচরা বাজারে এর দাম বাড়ে। আমরা যখন কম দামে কিনতে পারি, তখন কম দামে বিক্রি করি। কিন্তু বেশি দামে কিনে মালামাল বিক্রি করতেও ঝামেলার মধ্যে পড়তে হয়।’

কারওয়ান বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী প্রীতম কুমার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চলতি বছর দেশের বিভিন্ন জেলা প্লাবিত হয়েছে। এর জন্য পেঁয়াজের আবাদ কম হয়েছে। গত ১০ দিনের বেশি সময় থেকে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কমেছে। সব মিলিয়ে এখন পেঁয়াজের দাম বাড়তির দিকে।’

বিষয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশে উঠে এসেছে। টিসিবির তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, বর্তমানে নতুন দেশি পেঁয়াজ সর্বনিম্ন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে যার বিক্রয়মূল্য ছিল সর্বনিম্ন ৯০ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা। এই একই পেঁয়াজ এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে সর্বনিম্ন ৮০ থেকে সর্বোচ্চ ৮৫ টাকায়। আর এক বছর আগে এ সময়ে খুচরা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে সর্বনিম্ন ৭০ থেকে সর্বোচ্চ ৮০ টাকা দরে। সেই হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৪০ শতাংশের চেয়েও বেশি।

অন্যদিকে টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, আমদানি করা পেঁয়াজ এখন খুচরা বাজারে সর্বনিম্ন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে এর বিক্রয়মূল্য ছিল সর্বনিম্ন ৯৫ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা। আর এক মাস আগে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে সর্বনিম্ন ৮৫ থেকে সর্বোচ্চ ৯৫ টাকায়। আর এক বছর আগে এ সময় খুচরা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে সর্বনিম্ন ৪০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা দরে। এই হিসাব অনুযায়ী এক বছরে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশের চেয়েও বেশি।

আমাদের পাবনা প্রতিনিধি জানান, দেশের অন্যতম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলাটিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদনের পরও অস্থির হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের বাজার। বর্তমানে পাবনায় প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। অথচ কয়েক দিন আগেও প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

চলতি মৌসুমে পাবনায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী চলতি মৌসুমে ৭ লাখ ৭৮ হাজার টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১৮ হাজার টন বেশি।

তবে জেলার বিভিন্ন পেঁয়াজের আড়তে মানভেদে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। কিছুটা নিম্নমানের আংশিক পচা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়।

জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. জামাল উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, মাত্র কিছুদিন আগেই উত্তোলন মৌসুম শেষ হয়েছে। তা ছাড়া চলতি মৌসুমে পাবনায় ৭ লাখ ৭৮ হাজার টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১৮ হাজার টন বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। পেঁয়াজের কোনো সংকট নেই।

বিক্রেতারা জানান, উচ্চ শুল্কের কারণে সম্প্রতি বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি কমেছে। এই খবরে, পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও হাটবাজারে পেঁয়াজ কম আনছেন মজুদদাররা। ফলে বাজারে সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা।

বড় বাজারের পেঁয়াজের আড়তদার আব্দুল মুকুল জানান, সুজানগর সাঁথিয়ায় বড় সব কৃষকের চাতালেই পর্যাপ্ত পেঁয়াজ আছে। কিন্তু আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে না থাকায় তারা অল্প অল্প করে হাটে আনছেন। ফলে সরবরাহ কমে যাওয়ায় পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। প্রান্তিক কৃষকের হাতে পেঁয়াজ নেই, বড় কৃষকরা সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে সুযোগ নিচ্ছেন।

পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ফরিদ হোসেন বলেন, কয়েক দিনের ব্যবধানে ২ হাজার ২০০ টাকা মণের পেঁয়াজ ৩ হাজার ৮০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।

হাজিরহাটের ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন, বৃষ্টির কারণে হাটে পেঁয়াজের আমদানি কম। এর পাশাপাশি মোবাইল ফোনে ঢাকার সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা হাটে পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করে দেন। ফলে, স্থানীয় কৃষক বা আড়তদারদের কিছুই করার থাকে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত