রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

রেলপথে খণ্ডিত পাঁচ লাশ মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৪, ০৬:২৪ এএম

নরসিংদী রায়পুরায় রেললাইনের পাশ থেকে পাঁচজনের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ ধারণা করছেন, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘তূর্ণা নিশিতা’ এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান তারা। আবার কেউ বলছেন, হত্যার পর তাদের লাশ সেখানে ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল সোমবার ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে রায়পুরা উপজেলার কমলপুর এলাকা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), সিআইডি ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই পাঁচজনের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করে। তবে গতকাল সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নিহত পাঁচজনের পরিচয় নিশ্চিত করেতে পারেনি পুলিশ। পরিচয় শনাক্তে মরদেহের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করেছে পিবিআই। মরদেহ উদ্ধার হওয়া সবাই পুরুষ। তাদের বয়স আনুমানিক ১৫ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে হবে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্র্তৃপক্ষ। সব মরদেহ কাছাকাছি জায়গা থেকে উদ্ধার হওয়ায় তাদের মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে রায়পুরা উপজেলার পলাশতলী ইউনিয়নের কমলপুর এলাকায় রেলপথের পাশে খণ্ডিত অবস্থায় পাঁচজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, রায়পুরা মেথিকান্দা স্টেশন থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরে ঘটনাস্থল কমলপুর। এর ঢাকামুখী রেললাইনের একপাশে জলাশয়ের সঙ্গে খাকচর দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অন্যপাশে নরসিংদী-রায়পুরা আঞ্চলিক সড়ক। এ সড়কে সিএনজিচালিত যানবাহন চলাচল করলেও স্থানীয় লোকজনের তেমন চলাচল নেই। ঘটনাস্থলের পাশে ঝোপঝাড়। দুই পাশে প্রায় আধা কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বাড়িঘর বা দোকানপাটও নেই। ঘটনাস্থলে কোনো সংযোগ সড়ক নেই। এখানে রাস্তা পারাপার হওয়ার সময় কেউ কাটা পড়ার কথা নয়। এটি ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর ঘটনা না হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সংশয় রয়েছে।

কারও কাছে নিহতদের বেশভূষা দেখে টোকাইশ্রেণির মনে হয়েছে। ট্রেনের ছাদে বা ইঞ্জিনে বসে তারা হয়তো যাচ্ছিল। দুই বগির মাঝখানে বা ইঞ্জিন থেকে পড়ে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়েছে বলে অনুমান করছেন। আবার কেউ বলছেন, হত্যার পর তাদের লাশ কেউ ফেলে গেছে।

রেললাইনের পাশে বসবাসকারী রফিক মিয়া বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে রায়পুরা স্টেশন এলাকায় বসবাস করি। কিন্তু কখনো এত মানুষের এমন মৃত্যু দেখিনি। তারা কীভাবে মারা গেছে বুঝতে পারছি না। সকালে উঠে লাশ দেখতে পাই। মনে হচ্ছে হত্যার পর তাদের লাশ কেউ এ জায়গায় ফেলে গেছে।’

স্থানীয় আজিজুর রহমান নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘সকালে রেললাইনের পাশে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দিই। ধারণা করছি, রাতে ট্রেনে কাটা পড়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু একসঙ্গে এত মানুষ কীভাবে মারা গেল মাথায় আসছে না।’

মেথিকান্দা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আশরাফ আলী বলেন, ভোর ৫টা ২২ মিনিটে উপবন, ৫টা ৪৮-এ ঢাকা মেইল ও সাড়ে ৬টায় তিতাস ঢাকার উদ্দেশে মেথিকান্দা স্টেশন পার হয়েছে।  এর মধ্যে কোনো ট্রেনে কাটা পড়ে তাদের মৃত্যু হতে পারে। তারা ট্রেনের ছাদ থেকে পিছলে পড়ে কাটা পড়েছে, নাকি রেললাইনে বসে থাকা অবস্থায় কাটা পড়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে নিহতরা স্থানীয় কেউ নয় বলে জানা গেছে। লাশ উদ্ধারের আগে ওই রেললাইন দিয়ে আরও তিনটি ট্রেন চলাচল করেছে।

পুলিশের সূত্রগুলো জানায়, সর্বশেষ স্টেশনে থাকা সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। ভোরে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী মেইল ট্রেনটি মেথিকান্দা স্টেশন অতিক্রম করার সময় সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, ট্রেনটির ছাদে কয়েকজন যাত্রী ছিলেন। এ যাত্রীরাই মারা গেছেন কি না, সেটি নিশ্চিত হতে পারেনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শহীদুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে এসে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা শরীরগুলো একত্র করেছি। এরপরই পরিচয় শনাক্তের জন্য নরসিংদীর পিবিআই সদস্যদের খবর জানিয়েছি। বেলা সাড়ে ১১টায় তারা ঘটনাস্থলে এসে লাশ শনাক্তের প্রক্রিয়া শুরু করেন।’

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন রেলওয়ের ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘আঙুলের ছাপ নিয়ে নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে পিবিআই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছে। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের ধারণা, ছাদ থেকে পড়ে মরদেহ এভাবে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয় না। আমরা সব বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত করছি।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত