পাওনাদারদের অর্থ পরিশোধে কোনো অনিশ্চয়তা তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নিয়ে ‘বিশেষ প্রতিবেদন’ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাতে হবে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে। এ ছাড়া কোনো ব্যাংকের সংরক্ষিত মূলধন আবশ্যক মূলধনের অর্ধেকের নিচে নামার সম্ভাবনা দেখা দিলে, কোনো গুরুতর অনিয়ম হলে কিংবা ব্যাংক-কোম্পানির সম্পদ যথেষ্ট কি না, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ হলেও বিশেষ প্রতিবেদনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অবহিত করতে হবে।
মঙ্গলবার (৯ জুলাই) ‘ব্যাংক-কোম্পানি বহিঃনিরীক্ষণ বিধিমালা, ২০২৪’ শীর্ষক এক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিধিমালায় এসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সব তফসিলি ব্যাংক আইন অনুসারে বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) মাধ্যমে তিন বছরের জন্য বহিঃনিরীক্ষক নির্বাচন করবে। নিরীক্ষা কার্যক্রম যথাসময়ে সম্পন্ন করতে ব্যাংক বহিঃনিরীক্ষককে প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও দলিলাদি সরবরাহ নিশ্চিত করবে। প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহে বিলম্বের কারণে নিরীক্ষা কার্যক্রম বিলম্ব হলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংকের নিয়োজিত নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানোর জন্য নিরীক্ষা বছরের নবম মাসভিত্তিক একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন তৈরি করবে। ওই প্রতিবেদনে খেলাপি ঋণ ও ঋণের অনিয়ম, অন্যান্য সম্পদ, ব্যাংক কর্তৃক বাংলাদেশ ব্যাংকে দাখিলকৃত তথ্য-বিবরণীতে প্রাপ্ত অনিয়ম, খেলাপি ঋণের তথ্য এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোতে (সিআইবি) তা যথাসময়ে দাখিল করা হয়েছে কি না ইত্যাদি বিষয় অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে হবে।
এ ছাড়া ঋণ শ্রেণীকরণ ও ঋণের বিপরীতে রাখা সংস্থান সংক্রান্ত অনিয়ম, খেলাপি ঋণের বিপরীতে নির্ধারিত সঞ্চিতি সংরক্ষণসহ অন্যান্য সঞ্চিতিবিষয়ক অনিয়ম চিহ্নিত করে তা অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে হবে। এ ছাড়া মুনাফা হিসাবের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নীতিমালা যথাযথভাবে পরিপালন করা হয়েছে কি না, তা ব্যবস্থাপনা প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে হবে। ব্যাংকের শাখাগুলোর অবলোপনকৃত, পুনঃতফসিলকৃত ঋণ হিসাব, মওকুফকৃত সুদসংক্রান্ত তথ্য সম্পর্কে পর্যালোচনা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী রেজিস্টার বার লেজার সংরক্ষণ; নিরীক্ষাধীন বছরের মোট অবলোপনকৃত ঋণের পরিমাণ, আদায়ের পরিমাণ এবং আদায়ের জন্য ব্যাংকের পদক্ষেপের বিষয়ে ব্যবস্থাপনা প্রতিবেদন তৈরি করে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাবে নিরীক্ষা বিভাগ।
রপ্তানি প্রণোদনা, রপ্তানি ভর্তুকি, নগদ সহায়তার আবেদনপত্র নিরীক্ষণে অনিয়ম; দেশের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসারে সব ধরনের প্রযোজ্য রাজস্ব সংগ্রহ করে সরকারি কোষাগারে জমা; কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী নস্ট্রো হিসাব যথাযথভাবে সমন্বয়; ব্যাংকের সুশাসন ব্যবস্থায় ত্রুটি-বিচ্যুতির বিষয়েও নিরীক্ষা বিভাগ ব্যবস্থাপনা প্রতিবেদন পাঠাবে।
এ ছাড়া মূলধন, সঞ্চিতি, নিট সংগতি, নগদ অর্থ ও তরল সম্পদ ব্যাংকের সম্পদ, খেলাপি ঋণের বিপরীতে রক্ষিতব্য সংস্থান, সুদ মওকুফ ও স্থগিত সুদ নিরূপণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধিবিধান পালন; ব্যাংকের ঝুঁকি, কর্মকৌশল বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন, পরিচালন ব্যয় ও সম্পদ ক্রয় ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়ে নিরীক্ষা বিভাগ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে। ব্যাংক কোম্পানি আইনের কোনো ধারা লঙ্ঘন হলে, কোনো অসততা ও প্রতারণাসংক্রান্ত ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হলে বা ব্যাংকের সংরক্ষিত মূলধন আবশ্যক মূলধনের ৫০ শতাংশের নিচে নামলে বা নামার সম্ভাবনা তৈরি হলে, পাওনাদারদের পাওনা প্রদানের নিশ্চয়তা বিঘ্নিত হলে, গুরুতর অনিয়ম হলে নিরীক্ষা বিভাগ বাংলাদেশ ব্যাংককে বিশেষ প্রতিবেদনের মাধ্যমে অবহিত করবে।
