সিরিয়াল কিলার রসু খাঁর ফাঁসি হাইকোর্টে বহাল

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৪, ০২:০৪ এএম

সিরিয়াল কিলার হিসেবে দেড় দশক আগে দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছিলেন চাঁদপুরের রসু খাঁ। পারভীন আক্তার নামে এক নারীকে হত্যার মামলায় ছয় বছরের বেশি সময় আগে তাকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছিল বিচারিক আদালত। গতকাল মঙ্গলবার তার সর্বোচ্চ সাজার রায় বহাল রেখেছে হাইকোর্ট।

সর্বোচ্চ আদালত তার দুই সহযোগীর ফাঁসির সাজা রহিত করে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দিয়েছে। আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিলের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কেএম ইমরুল কায়েশের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়। রসু খাঁর দুই সহযোগী জহিরুল ইসলাম ও মো. ইউনুছকে (পলাতক) যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

২০০৯ সালের অক্টোবরে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের গাজীপুর বাজারের একটি মসজিদে ফ্যান চুরির ঘটনায় ধরা পড়েন রসু খাঁ। তার বাড়ি চাঁদপুর সদরের চান্দ্রা ইউনিয়নের মদনা গ্রামে। গ্রেপ্তারের পর বেরোতে থাকে তার মাধ্যমে সংঘটিত লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের বিভিন্ন কাহিনি। তিনি ১১ নারীকে হত্যা করেছেন বলে স্বীকার করেন। তাদের একজন পারভীন আক্তার। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের আড়াই মাস আগে পারভীনকে হত্যা করেন রসু খাঁ।

ভালোবাসায় ব্যর্থ হয়ে হত্যায় মত্ত হন রসু খাঁ। তার লক্ষ্য ছিল ১০০-এর বেশি হত্যাকান্ড ঘটানো। তার হত্যাকান্ড নিয়ে তখন দেশজুড়ে তোলপাড় হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ওই বছরের ২০ জুলাই রাতে রসু খাঁ ও তার সহযোগীরা ফরিদগঞ্জের মধ্য হাঁসা গ্রামের একটি নির্জন মাঠে পারভীনকে প্রথমে ধর্ষণ এবং পরে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করেন। ঘটনার পরদিন পুলিশ নিহত পারভীনের মরদেহ উদ্ধার করে। সংশ্লিষ্ট মামলায় চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৮ সালের ৬ মার্চ রসু খাঁ, জহিরুল ও ইউনুছকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দেয়। এরপর সাজাপ্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। ৪ জুলাই ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৯ জুলাই (গতকাল) দিন ধার্য করে হাইকোর্ট। গতকাল রায় দেওয়া হয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনিরুল ইসলাম। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. শফি উল্লাহ। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, রসু খাঁর নামে আরও অন্তত সাতটি হত্যা মামলা রয়েছে। হাইকোর্ট রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছে, ‘এই সিরিয়াল কিলার আইনের অনুকম্পা পাওয়ার যোগ্য নয়। সর্বোচ্চ শাস্তিই তার প্রাপ্য।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত