পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে দুই দফার দাবিতে যে আন্দোলন করছিলেন, তা ছয় শর্তে সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন।
বিদ্যুৎ বিভাগের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ও সমিতিকে একীভূতকরণে কমিটি গঠন ও চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের নিয়মিত করার প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক (এজিএম) ও আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র প্রকৌশলী রাজন কুমার দাস জানান, বুধবার বিকেলের বৈঠকে দুই দফা দাবি পূরণ করতে এক সপ্তাহের মধ্যে উভয়পক্ষের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মন্ত্রণালয়। বৈঠকের আলোচনার পর্যালোচনার পর ছয়টি শর্তে বৃহস্পতিবার থেকে সাময়িকভাবে কর্মবিরতি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আস্থাশীল। তারাও সারা দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৪০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি সহানুভূতিশীল।’ আন্দোলন স্থগিত হওয়ায় পল্লী বিদ্যুতের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কাজে যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান রাজন কুমার।
ছয়টি শর্ত হচ্ছে কমিটি গঠন ও প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত আরইবির কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী হয়রানির উদ্দেশ্যে সমিতিগুলোতে যেতে পারবে না; কমিটিকে সমিতির বিদ্যমান সব পদের বৈষম্য দূর করা ও একীভূতকরণসহ অভিন্ন সার্ভিস কোড কার্যকরীকরণে গ্রহণযোগ্য সুপারিশ দাখিল করতে হবে; চুক্তিভিত্তিক ও অনিয়মিত সব কর্মচারীকে নিজ নিজ পদে নিয়মিত করতে হবে; প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যে সমিতির কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হয়রানিমূলকভাবে বদলি করা যাবে না; আন্দোলনের কারণে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুজন এজিএম ও স্ট্যান্ড রিলিজড হওয়া দুজন এজিএমকে নিজ পদে বহাল এবং এজিএম (ওঅ্যান্ডএম) আবদুল হাকিমকে ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে নিয়মিত করা। দাবি পূরণে বিদ্যুৎ বিভাগ ব্যবস্থা না নিলে আবার মাঠে নামবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আরইবির কর্মকর্তাদের মধ্যে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে কোনো সুরাহা না হওয়ায় আন্দোলন অব্যাহত রাখেন সমিতির কর্মীরা।
মূল প্রতিষ্ঠান, নিয়োগকারী কর্মকর্তা এবং চাকরির যোগ্যতা এক হওয়া সত্ত্বেও আরইবির সঙ্গে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক বৈষম্য রয়েছে। আরইবির কিছু কর্মকর্তা নিজেদের সুবিধার জন্য এ বৈষম্য জিইয়ে রেখেছেন বলে অভিযোগ সমিতির ভুক্তভোগীদের।
আরইবিকে বৈষম্য নিরসনের কথা একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হলেও সমিতির নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় থাকা আরইবি নিরসন না করে উল্টো দমন, নিপীড়ন, সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাময়িক বরখাস্তকরণ প্রভৃতি হয়রানিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
