মামাত বোন মুনতাহাকে বিয়ে করেছেন রিশাদ

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৪, ০৪:৪৪ পিএম

প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। গত ৬ মাসে পুরোই বদলে গেছে তার ক্যারিয়ারের মানচিত্র। মেগা টুর্নামেন্টটি শেষে যখন টাইগার ক্রিকেটাররা নিজেদের মতো সময় কাটাচ্ছেন, তখনই বড় সুসংবাদ দিয়েছেন ২১ বছর বয়সী তরুণ লেগ স্পিনার রিশাদ। ব্যক্তিগত জীবনের দ্বিতীয় ইনিংসে পা দিয়েছেন তিনি, বসেছেন বিয়ের পিঁড়িতে। তবে তার জীবনের দ্বিতীয় ইংনিসে সঙ্গী হলেন কে?

বিশ্বকাপ শেষে দেশে ফিরেই রিশাদ নিজ শহর নীলফামারীতে ছুটে গিয়েছিলেন। সেখানেই অবস্থান করছিলেন গেল কয়েকদিন ধরে। যেখানে তার বন্ধু-বান্ধব ও সামাজিক কি কাজে তাকে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। এর মাঝেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড অ্যাকাউন্টে বৃহস্পতিবার জানালেন নিজের বিয়ের খবর।

গত বৃহস্পপতিবার (১১ জুলাই) ফেসবুক পোস্টে ‘গট ম্যারিড’ উল্লেখ করে রিশাদ লিখেছেন, “বেশ রোমাঞ্চের সঙ্গে আনন্দের সংবাদ জানাচ্ছি যে, আমি যুগলবন্দি জীবন শুরু করেছি। আমাদের ভবিষ্যৎ হোক ভালোবাসা, আনন্দ ও সীমাহীন আশীর্বাদে ভরপুর।” তবে ব্যক্তিগতভাবে ইসলামী বিধান পালন করায় এখনই স্ত্রীর ছবি কিংবা কোনো তথ্য সামনে আনেননি রিশাদ।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক আয়োজনে বিয়েটা অবশ্য হয়েছিল গত বছরের (২০২৩) ১৩ জুলাইয়ে। আজ (বৃহস্পতিবার) ছিল কন্যা-সম্প্রদানের দিন। শুক্রবার(১২ জুলাই) দুপুরে নীলফামারী সদরের টুপামারী ইউনিয়নের বাড়িতে একেবারে সীমিত আয়োজনে হবে রিশাদ-সিদরাতুলের বউ ভাত।

এদিকে বৃহস্পতিবার বিকালে বাদ আছর পরিবারের আত্মীয়-স্বজন ও নিকটতম বন্ধুদের নিয়ে ১১টি মাইক্রো বাস বহরে কনের বাড়িতে উপস্থিত হন রিশাদ। ধীরগতিতে প্রায় চার কিলোমিটারের পথ অতিক্রমে সময় লাগায় প্রায় ৪০ মিনিট। কনের বাড়ির আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে পরিবারের সদস্য আর বরযাত্রীসহ বউ নিয়ে ফিরেন জেলা সদরের টুপামারী ইউনিয়নের শাহপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে। 

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, রিশাদের স্ত্রীর নাম সিদরাতুল মুনতাহা। তিনি নীলফামারী সরকারি কলেজের বিজ্ঞান শাখার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি নীলফামারী সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া গ্রামের ইলিয়াস প্রামাণিক জুয়েলের কন্যা। কনে রিশাদের মামাতো বোন বলে জানা গেছে।

এদিকে বিয়ের খবরে অযাচিতভাবে উপস্থিত হন বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বেশ কিছু সাংবাদিক। তাদের সামনে বিয়ের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে ছিল অনেকটাই লুকোচুরি। বিয়ে নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে মুখ খুলতে অনীহা ছিল দুই পরিবারের মধ্যে। এমনকি ছবি তোলায়ও ছিল বাধা। রিশাদও বিয়ের বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাননি সাংবাদিকদের সঙ্গে। কেন আড়ালে রাখার চেষ্টা বিয়ের বিষয়টি, সেটিও জানা যায়নি।

এদিকে বিয়ের কাজির নাম জানা না গেলেও ১০১ টাকা দেনমোহরের কথা জানান নিকটাত্মীয়রা। আর ওই কাবিননামায় কনেপক্ষের আত্মীয় কলেজ শিক্ষক আব্দুল হাকিম শাহ স্বাক্ষর করেছেন উকিল হিসেবে। কাবিননামায় কনে পক্ষের সাক্ষী হয়েছেন জেলা পরিষদের সাবেক  সদস্য দেওয়ান বিপ্লব এবং শাহানুর আলম শানু।

জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য দেওয়ান বিপ্লব ওই বিয়েতে কনে পক্ষের সাক্ষীর বিষয়টি স্বীকার করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, “১০১ টাকা দেনমোহরে ওই কাবিননামা সম্পন্ন হয়। ধার্যকৃত দেনমোহর নগদ পরিশোধ হয়েছে। আজকে আনুষ্ঠানিকভাবে কনে বিদায় হল।”

বিয়ের শেষে সাংবাদিকদের সামনে এসে নবদম্পতির জন্য দোয়া চেয়েছেন রিশাদের বাবা মো. নূর আলম ও কনের বাবা ইলিয়াস প্রামাণিক জুয়েল।

সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টাইগাররা ব্যর্থ হলেও রিশাদ ছিলেন উজ্জ্বল। সবমিলিয়ে ৭ ম্যাচে ৭.৭৬ ইকোনমি রেটে ১৪ উইকেট শিকার করেছেন এই নবীন লেগ স্পিনার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত