কোটার রিট থেকে ঢাবি শিক্ষার্থীর নাম প্রত্যাহারের ঘোষণা

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৪, ০১:৫০ এএম

সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহাল রেখে হাইকোর্টের রায় বাতিলের আপিল শুনানিতে অংশ নিতে চেম্বার আদালতে আবেদনকারী ঢাবি শিক্ষার্থী আহনাফ সাঈদ খান রিট থেকে নাম প্রত্যাহার করার ঘোষণা দিয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে ফেসবুক স্ট্যাটাসে রিট থেকে নিজের নাম প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন আহনাফ সাঈদ খান।

আহনাফ তার দীর্ঘ ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আপনারা জানেন ৯ জুলাই আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষার্থী হাইকোর্টের বাতিল করে দেওয়া ২০১৮ সালের পরিপত্রের রায়ের বিপক্ষে আপিল বিভাগে রিট করি। এখানে আমরা আপিল করি ভুক্তভোগী এবং সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি হিসেবে। একই রায়ের বিরুদ্ধে পূর্বে রাষ্ট্রপক্ষের দায়ের করা একটি আপিলের শুনানি হয় ৪ জুলাই, যেখানে হাইকোর্টের বাতিল করে দেওয়া পরিপত্রটি স্থগিত না করে পরবর্তী শুনানির জন্য অপেক্ষায় থাকতে বলা হয়। সর্বশেষ ১০ জুলাই আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের স্থিতাবস্থা জারি করে। এখানে একটি বিভ্রান্তি তৈরি হয় যে আমরা আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে রিটটি করি অথচ আমি নিজে সরাসরি আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি এবং ৫ জুন যখন হাইকোর্ট পরিপত্রটি বাতিল করে, তখন থেকেই বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থার বিরুদ্ধে এবং কোটাব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কার চেয়ে আমি কথা বলেছি।’

তিনি বলেন, ‘যদিও আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল আদালতে এ ব্যাপারে যাওয়া হবে না এবং বৈষম্যমূলক কোটার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ লড়াইটি রাজপথে হবে। আমি ভেবেছিলাম ভুক্তভোগী কেউ আদালতে যাক কিংবা না যাক, আদালতে চলমান আইনি প্রক্রিয়া নিজস্ব গতিতেই চলবে, তাই ভুক্তভোগীরা এখানে আপিল করলে চলমান বিষয়টির আইনি প্রক্রিয়ায় কোটাব্যবস্থার সংস্কারের ব্যাপারে একটি শক্তিশালী গ্রাউন্ড তৈরি হবে। পরে আপিল বিভাগের দেওয়া স্থিতাবস্থার পর থেকে নানাভাবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে যে যেহেতু আদালতে সমাধান হয়ে গেছে, তাই আর আন্দোলনের কোনো যৌক্তিকতা নেই। অথচ না এখানে হাইকোর্টের পরিপত্র বাতিল করে দেওয়া রায়টি স্থগিত করা হয়েছে, না কোটাব্যবস্থার কোনো সমাধান হয়েছে। ২০১৮ সালের পরিপত্র ফিরিয়ে আনা হলেও এখানে কোটা সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। কেননা ২০১৮ সালের পরিপত্রেও তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কোটা বাতিল কিংবা সংস্কার করে পরিপত্রটি জারি হয়নি। ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহাল করা হলেও তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক প্রথাটি রয়ে যাচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে জনপরিসরে এমন একটি ধারণা সৃষ্টি হয়েছে যে আমাদের দায়ের করা আপিলটির কারণেই আন্দোলন বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে কিংবা আন্দোলনের গ্রাউন্ড নষ্ট করা হয়েছে আমাদের রিট করার মাধ্যমে।’

আহনাফ বলেছেন, ‘সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বারবার বলা হচ্ছিল, কোটা সমস্যার সমাধান আদালতেই হবে। কেননা এখানে সরকারের কিছু করার নেই। হাইকোর্টের গত ৫ জুনের রায়টির একটি অংশ প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে হাইকোর্ট থেকে বলা হয়েছে, সরকার চাইলে কোটার পরিবর্তন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন, সংস্কার কিংবা যেকোনো কিছু করতে পারে; অর্থাৎ এ মুহূর্তে নির্বাহী বিভাগের এ কথা বলার সুযোগ থাকে না যে ব্যাপারটি পুরোটাই আদালতের বিচারাধীন, তাই তাদের কিছুই করার নেই; বরং আদালতের মাধ্যমেই এটা স্পষ্ট যে কোটাব্যবস্থার পরবর্তী ব্যবস্থা সরকারকেই নিতে হবে। ফলে আন্দোলনকারীদের দাবি অনুযায়ী, এই সমস্যার সমাধান সরকারকেই করতে হবে এ দাবিটির যৌক্তিকতা আবারও প্রমাণিত হলো। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী হিসেবে এবং আন্দোলনে আমার পূর্ণ সমর্থন থাকা অবস্থায় এটা আমি কোনোভাবেই চাইতে পারি না যে আমার নেওয়া আইনি পদক্ষেপকে আন্দোলনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে। তাই পুরো ঘটনাচক্রের পরিপ্রেক্ষিতে রিট থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ ব্যাপারে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের মাঠ থেকে স্থায়ী সমাধান নিয়েই পড়ার টেবিলে ফিরে যাব আমরা।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত