নবাবগঞ্জে বৃষ্টিতে সড়কে ধস 

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৪, ০২:০২ এএম

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নের ছোট গোবিন্দপুর হরিসভা মন্দির থেকে গোবিন্দপুর ইযুথ ক্লাব মাঠ পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সড়ক জুড়ে ধস দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সড়কে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এতে যান চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে চালকদের। বৃষ্টি হলেই সড়কে জমে যাচ্ছে হাঁটু পানি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৫ দিন ধরে সড়কটি ভেঙে রয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানকে জানানোর পরেও তারা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।

স্থানীয় মুদি দোকানদার মো. ইউসুফ বলেন, ‘সড়কটি ভাঙার কারণে আমার দোকানে ডেলিভারিম্যান গাড়ি নিয়ে এখন আর মালপত্র দিতে আসে না। বাধ্য হয়ে আমি অন্যত্র থেকে বেশি খরচ দিয়ে মালপত্র কিনে এনে বিক্রি করি। স্থানীয় গাড়িগুলো এই সড়কে চলাচল করতে না পারায় আমাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। একটি ইউনিয়ন পরিষদে বছরে কোটি কোটি টাকার কাজ হয়। কিন্তু অল্প কিছু টাকার কাজ চেয়ারম্যান করতে পারছে না, বিষয়টি দুঃখজনক।’ গৃহবধূ রিফা বলেন, ‘আমাদের বাড়ির সামনের রাস্তা ভেঙে গেছে। কিন্তু চেয়ারম্যান-মেম্বাররা কোনো খোঁজ-খবরই নেয় না। উল্টো আমরা তাদের জানালেও তারা কর্ণপাত করছেন না।’

স্থানীয় অটোগাড়ি চালক শেখ লিটন বলেন, ‘রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ার ফলে কয়েক দিন ধরে চরম বিপাকে পড়েছি। ভাঙা রাস্তায় ঝুঁকি নিয়ে কেউ গাড়িতে উঠতে চায় না।’

শিক্ষার্থী সিফাত মিয়া বলেন, ‘আমাদের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি ভেঙে পড়ার ফলে অনেক কষ্ট হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এখন স্কুলে যেতে হচ্ছে।’

এ বিষয়ে স্থানীয় নারী ইউপি সদস্য গীতা রানি বলেন, ‘সরেজমিনে গিয়ে রাস্তাটি দেখে এসেছি। বিষয়টি আমাদের যন্ত্রাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কেএম মনিরুজ্জামান তুহিনকেও জানিয়েছি। তিনি শুধু শুনেছেন, কোনো পদক্ষেপ নেননি।’ যন্ত্রাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কেএম মনিরুজ্জামান তুহিন বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে সড়কে অনেকটাই ক্ষতি হয়েছে। শুধু এই সড়কই নয়, ইউনিয়নের আরও কয়েকটি স্থানে বৃষ্টির কারণে সড়ক নষ্ট হয়েছে। বিষয়গুলো নিয়ে এলজিইডির প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।’

এ বিষয়ে এলজিইডির নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী জুলফিকার হক চৌধুরী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত