যুদ্ধশিশুর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলেন মেরিনা

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৪, ০৭:০৪ এএম

দেশে এই প্রথম যুদ্ধশিশু হিসেবে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) থেকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলেন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার পৌর সদরের খাঁনপাড়া এলাকার ওমর আলীর স্ত্রী মেরিনা খাতুন (৫৩)।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পাশবিক নির্যাতনে জন্ম নেওয়া সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার পৌর সদরের খাঁনপাড়া এলাকার মেরিনা খাতুন এখন বাবার পরিচয় ছাড়াই সব ধরনের নাগরিক সুবিধা পাবেন। দীর্ঘদিন তিনি বাবার পরিচয় না থাকায় সব ধরনের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তার এ স্বীকৃতি তাকে সর্বোচ্চ সম্মান এনে দিয়েছেন। তবে তিনি এখনই ভাতা সুবিধা পাচ্ছেন না। ফলে হতদরিদ্র মেরিনার পরিবার এখনো আর্থিক কষ্টের মধ্যেই দিন যাপন করছে।

গতকাল সোমবার সকালে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে যুদ্ধশিশু মেরিনা খাতুন বলেন, ‘অনেক চেষ্টার পর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির চিঠি রবিবার ডাক মারফত হাতে পেয়েছি। একই সঙ্গে ভাতা সুবিধা চালু হলে আমার অভাবী পরিবারের অনেক উপকার হতো।’ তিনি বলেন, ‘টাকার অভাবে অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা করাতে পারছি না। ছেলেমেয়েকেও লেখাপড়া শেখাতে পারিনি। নিজের বাড়িঘর বলতে কিছু নেই। অন্যের জায়গায় ঘর তুলে থাকি। তারা সরিয়ে দিলে কোথায় যাব জানি না। তাই ভাতা চালু হলে জায়গা কিনে ছেলেমেয়ে নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই করতে পারব। শেষ বয়সে স্বামী-সন্তান নিয়ে একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারব।

জানা যায়, গত ২৫ এপ্রিল জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৮৯তম সভা হয়। এ সভায় তাড়াশ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি পাওয়া বীরাঙ্গনা পঁচি বেওয়ার মেয়ে মেরিনা খাতুনকে যুদ্ধশিশু হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) উপপরিচালক (উন্নয়ন) প্রথম রঞ্জন ঘটক গত ৭ জুলাই স্বাক্ষরিত এক পত্র প্রদানের মাধ্যমে মেরিনা খাতুনকে অবহিত করেন। এরপর থেকে তিনি চূড়ান্ত পত্রের আশায় অপেক্ষায় ছিলেন। রবিবার পত্র হাতে পেয়ে তার অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়েছে। মেরিনা খাতুন আরও বলেন, ‘আমি স্বীকৃতির চিঠি হাতে পাওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। এই স্বীকৃতি পেতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও যেসব সংবাদকর্মী আমার পাশে ছিলেন তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। অনেক চেষ্টার পর স্বীকৃতি পেয়েছি। আমার দাবি অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধার মতো আমাকেও ভাতা ও অন্য সুবিধা দেওয়া হোক।’

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কামান্ডার আরশেদুল ইসলাম বলেন, ‘যুদ্ধশিশু হিসেবে মেরিনা খাতুন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়ায় তাড়াশ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। পাশাপাশি মেরিনাকে যুদ্ধশিশু হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মানী ও ভাতা দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত