সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে আন্দোলনের মধ্যে পক্ষে-বিপক্ষে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতারা। এর মধ্যে কোটা নিয়ে আন্দোলনের নামে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাবিরোধী স্লোগানের বিরুদ্ধে আজ মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার সুপ্রিম কোর্ট বার মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির আওয়ামীপন্থী আইনজীবী নেতারা। সরকার সমর্থক ১০ জন আইনজীবীর উপস্থিতিতে এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সমিতির সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক।
এর একটু পর আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাতে একই স্থানে বিএনপি সমর্থক চারজন আইনজীবীকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন।
শাহ মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি জায়গায় যারা তারা যদি নিজেদের রাজাকার বলে দাবি করে, আন্দোলন চালায়, তাহলে ধরে নিতে হবে তাদের পিছনে কোনো অশুভ শক্তি কাজ করে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘কোটা নিয়ে একটি মামলা আপিল বিভাগে বিচারাধীন। আর বিচারাধীন বিষয়ের পর আন্দোলনকারীদের দাবি অযৌক্তিক অসাংবিধানিক ও বেআইনি। কেননা সব কোটা প্রথা বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট বিভাগ। এটি এখন আপিল বিভাগ পরীক্ষা করবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোটা নিয়ে তারা (আন্দোলনকারী) ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংসদে আইন প্রণয়নের কথা বলেছেন। কিন্তু এটি আইন প্রণয়নের কোনো বিষয় না। এটি হলো প্রজ্ঞাপনের বিষয়। আদালতের সিদ্ধান্তের পর নির্বাহী বিভাগ যা করবে, প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে করবে।’
ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘অনেক ছাত্রছাত্রী আহত হয়েছেন। মেয়েদের হেনস্থা করা হয়েছে। গণমাধ্যমে এসেছে কীভাবে মেরেছে। কয়েকশ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। রক্তাক্ত হয়েছেন। কিন্তু পুলিশ কোন ভূমিকা নেয়নি। আন্দোলন হলো মৌলিক অধিকার। দেশে কি জরুরি অবস্থা চলছে? দেশে কি মৌলিক অধিকার নেই? মৌলিক অধিকার থাকলে এ রকম ঘটনা ঘটতে পারে? আমরা কি সভ্য দেশে আছি?’
তিনি বলেন, ‘সরকারকে বলবো, অনতিবিলম্বে আপনাদের অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার করুন। ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করুন।’
